ভূমিকম্পের কারণ ও এর প্রভাব মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কী কী করণীয় তা আলোচনা করুন।

Updated: 1 week ago
উত্তরঃ

ভূমিকম্প পৃথিবীর অন্যতম ভয়াবহ ও অনিশ্চিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অন্যান্য অনেক দুর্যোগের মতো এর সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস এখনো নির্ভরযোগ্যভাবে দেওয়া সম্ভব হয়নি। যেহেতু ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তাই এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি, ঝুঁকি হ্রাসমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, দক্ষ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী কার্যকর ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা যেতে পারে-

ভূমিকম্পের প্রভাব মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে করণীয়:

⇒ বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন: ভূমিকম্পে অধিকাংশ প্রাণহানি ঘটে দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ ভবন ধসের কারণে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভূমিকম্প-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) মেনে ভবন নির্মাণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। রাজউক ও স্থানীয় পৌরসভার মাধ্যমে নকশা অনুমোদন এবং নির্মাণাধীন ভবনের গুণগত মান কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে।

⇒ ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবন সংস্কার ও অপসারণ: দেশের প্রধান প্রধান শহরের অত্যন্ত পুরোনো, জরাজীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করার জন্য রাষ্ট্রকে একটি সুনির্দিষ্ট কারিগরি জরিপ পরিচালনা করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ অথচ সংস্কারযোগ্য ভবনগুলোকে আধুনিক প্রকৌশলগত পদ্ধতির মাধ্যমে রেট্রোফিটিং বা শক্তিশালীকরণের আওতায় আনতে হবে। অন্যদিকে, যেসব ভবন কোনোভাবেই সংস্কারযোগ্য নয়, সেগুলোকে জনস্বার্থে দ্রুত অপসারণ বা ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।

⇒ আধুনিক পর্যবেক্ষণ ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা স্থাপন: ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আধুনিক সিসমিক মনিটরিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সাধন করতে হবে। আধুনিক আর্থকোয়েক আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম চালুর মাধ্যমে মূল কম্পন শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা পাঠানো সম্ভব।

⇒ ঝুঁকিমুক্ত নগর পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন: নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় ভূমিকম্প ঝুঁকিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত খোলা স্থান, প্রশস্ত সড়ক এবং নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র সংরক্ষণ করতে হবে। হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও যোগাযোগ অবকাঠামোকে ভূমিকম্প-সহনশীল করে গড়ে তুলতে হবে।

⇒ আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সংগ্রহ ও লজিস্টিকস ব্যাকআপ: ধসে পড়া কংক্রিটের নিচ থেকে দ্রুত মানুষ উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা সুসজ্জিত করতে হবে। এর মধ্যে লাইফ ডিটেক্টর, কংক্রিট কাটার, ড্রোন, হেভি ক্রেন এবং উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী প্রশিক্ষিত কুকুর অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত স্থানান্তরের জন্য পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং মাঠ পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জরুরি ওষুধের আপৎকালীন মজুত নিশ্চিত করতে হবে।

⇒ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ: ভূমিকম্প-পরবর্তী প্রথম কয়েক ঘণ্টা জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ওয়ার্ড ও মহল্লায় স্থানীয় যুবসমাজকে নিয়ে প্রশিক্ষিত কমিউনিটি ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবক স্কোয়াড গঠন করতে হবে। এ স্বেচ্ছাসেবকরা রাষ্ট্রীয় উদ্ধারকারী বাহিনী পৌঁছানোর আগেই তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

⇒ প্রাতিষ্ঠানিক মহড়া ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি: ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে কীভাবে আত্মরক্ষা করতে হয়, সে বিষয়ে জনগণকে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা ও আবাসিক এলাকায় নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া পরিচালনা করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা এবং গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সচেতন জনগণ দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

⇒ দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন: ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য একটি স্থায়ী দুর্যোগ ঝুঁকি তহবিল গঠন করা প্রয়োজন। এ তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, খাদ্য, চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয় এবং পুনর্বাসন সুবিধা প্রদান করা যাবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত পুনর্নির্মাণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং কার্যকর পুনর্বাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। এটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

7

Related Question

View All
উত্তরঃ

কার্বন নিঃস্রণ (Carbon Emission) বলতে মূলত কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) এবং অন্যান্য কার্বন-ভিত্তিক গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse gas), যেমন মিথেন (Methane), নাইট্রাস অক্সাইড (Nitrous oxide) ইত্যাদির বায়ুমণ্ডলে নির্গমনকে বোঝায়। এই গ্যাসগুলি মূলত মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফল। জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil fuels) যেমন কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানো, বন উজাড় (Deforestation), শিল্প উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং কৃষিকাজ কার্বন নিঃস্রণের প্রধান উৎস।

বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃস্রণের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ:

        
  • বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming) ও জলবায়ু পরিবর্তন (Climate Change): কার্বন ডাই অক্সাইড একটি প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস। এর ঘনত্ব বৃদ্ধির ফলে বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে যায়, যা পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যায়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় এবং আবহাওয়ার চরম পরিবর্তন (Extreme weather events) যেমন তীব্র খরা, বন্যা ও ঝড় পরিলক্ষিত হয়।
  •     
  • সমুদ্রের অম্লীকরণ (Ocean Acidification): বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড সমুদ্রের পানিতে মিশে কার্বনিক অ্যাসিড (Carbonic acid) তৈরি করে, যা সমুদ্রের পানিকে আরও অম্লীয় করে তোলে। এটি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, বিশেষ করে প্রবাল প্রাচীর (Coral reefs) ও শেলফিশের (Shellfish) জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
  •     
  • জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি (Public Health Risks): কার্বন নিঃস্রণের সাথে নির্গত অন্যান্য কণা (Particulate matter) এবং দূষণকারী পদার্থ শ্বাসযন্ত্রের রোগ (Respiratory diseases), হৃদরোগ (Cardiovascular diseases) এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়।
  •     
  • জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি (Loss of Biodiversity): জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল হারায়, যা জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়।

কার্বন নিঃস্রণ নিয়ন্ত্রণের উপায়সমূহ:

        
  • নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি (Increased Use of Renewable Energy): সৌরশক্তি (Solar energy), বায়ুশক্তি (Wind energy), জলবিদ্যুৎ (Hydroelectric power) এবং ভূ-তাপীয় শক্তির (Geothermal energy) মতো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহার করে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানো।
  •     
  • শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি (Increased Energy Efficiency): শিল্প, পরিবহন এবং গৃহস্থালিতে বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা। যেমন, শক্তি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা।
  •     
  • বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ (Afforestation and Reforestation): নতুন করে গাছ লাগানো এবং বন উজাড় বন্ধ করা। গাছপালা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে।
  •     
  • কার্বন ক্যাপচার ও স্টোরেজ (Carbon Capture and Storage - CCS): শিল্প কারখানা এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস বায়ুমণ্ডলে পৌঁছানোর আগেই ধরে ফেলে ভূগর্ভে নিরাপদে সংরক্ষণ করা।
  •     
  • টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা (Sustainable Transportation Systems): গণপরিবহনের (Public transport) ব্যবহার বৃদ্ধি, সাইক্লিং (Cycling) ও হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির (Electric vehicles) ব্যবহার উৎসাহিত করা।
  •     
  • আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নীতি নির্ধারণ (International Cooperation and Policy Making): প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement) এর মতো আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসরণ করা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে কার্বন নিঃস্রণ কমাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। সরকার কর্তৃক কার্বন ট্যাক্স (Carbon tax) বা কার্বন ট্রেডিং (Carbon trading) এর মতো নীতি প্রণয়ন।
  •     
  • কৃষি পদ্ধতির উন্নতি (Improvement in Agricultural Practices): টেকসই কৃষি পদ্ধতি যেমন, কম কার্বন নিঃসরণকারী সার ব্যবহার, মিথেন নিঃসরণ কমানো (যেমন ধানের জমিতে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নতি) ইত্যাদি অনুশীলন করা।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

লবণ পাঁচ প্রকারের -

Neutral Salt- তীব্র অম্ল ও তীব্র ক্ষার র প্রশমন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় যেমন table salt(NaCl)

Acidic Salt- তীব্র অম্ল ও মৃদু ক্ষার র প্রশমন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় যেমন NH4Cl, CuSO4

Basic Salt -  মৃদু অম্ল ও তীব্র ক্ষার র প্রশমন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় যেমন Na2S, CH3COONa

Mixed Salt - মিশ্র লবণে একাধিক cation ( H*+ ব্যতীত) বা anion থাকে যেমন bleaching powder Ca(OCl)Cl, NaKCO3

Double Salt - যখন দুটো সরল বা সাধারণ লবণকে সমমোলার ( equimolar) অনুপাতে কেলাসিত বা crystallized করা হয় তখন যে লবন উৎপন্ন হয় তখন সেটাকে double salt বলে। Doubled salt জলে দ্রবীভূত হয়ে দুটো সরল লবন হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়

পটাশ অ্যালাম K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O, খনিজ লবণ  Dolomite CaCO3.MgCO3 

Complex Salt - এই ধরনের লবণকে complex compound ও বলা হয়। এই ধরনের লবণে কেন্দ্র একটা ধাতুর পরমাণু থাকে যেটা চারধারে অন্য জটিল আয়ন র সাথে coordinate bond র সাথে যুক্ত হয়ে একটা আয়ন তৈরি করে। এই জটিল লবণ জলে পুরোপুরি বিশ্লেষিত হয় না। Potassium ferrocnide,

K4[ Fe(CN)6]. কেন্দ্রে Fe পরমাণুর সাথে cyanide ion CN^- cordinate bond দ্বারা যুক্ত, Fe(CN)6^4-- anion 4K^+1 cation. Anion বিশ্লেষিত হয়ে Fe^+2 ও CN^-1 হয় না। Tetra amino cupric sulphate [ Cu(NH3)4]SO4

139
উত্তরঃ

কার্বন নিঃস্রণ (Carbon Emission) বলতে মূলত কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) এবং অন্যান্য কার্বন-ভিত্তিক গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse gas), যেমন মিথেন (Methane), নাইট্রাস অক্সাইড (Nitrous oxide) ইত্যাদির বায়ুমণ্ডলে নির্গমনকে বোঝায়। এই গ্যাসগুলি মূলত মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফল। জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil fuels) যেমন কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানো, বন উজাড় (Deforestation), শিল্প উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং কৃষিকাজ কার্বন নিঃস্রণের প্রধান উৎস।

বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃস্রণের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ:

        
  • বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming) ও জলবায়ু পরিবর্তন (Climate Change): কার্বন ডাই অক্সাইড একটি প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস। এর ঘনত্ব বৃদ্ধির ফলে বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে যায়, যা পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যায়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় এবং আবহাওয়ার চরম পরিবর্তন (Extreme weather events) যেমন তীব্র খরা, বন্যা ও ঝড় পরিলক্ষিত হয়।
  •     
  • সমুদ্রের অম্লীকরণ (Ocean Acidification): বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড সমুদ্রের পানিতে মিশে কার্বনিক অ্যাসিড (Carbonic acid) তৈরি করে, যা সমুদ্রের পানিকে আরও অম্লীয় করে তোলে। এটি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, বিশেষ করে প্রবাল প্রাচীর (Coral reefs) ও শেলফিশের (Shellfish) জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
  •     
  • জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি (Public Health Risks): কার্বন নিঃস্রণের সাথে নির্গত অন্যান্য কণা (Particulate matter) এবং দূষণকারী পদার্থ শ্বাসযন্ত্রের রোগ (Respiratory diseases), হৃদরোগ (Cardiovascular diseases) এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়।
  •     
  • জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি (Loss of Biodiversity): জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল হারায়, যা জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়।

কার্বন নিঃস্রণ নিয়ন্ত্রণের উপায়সমূহ:

        
  • নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি (Increased Use of Renewable Energy): সৌরশক্তি (Solar energy), বায়ুশক্তি (Wind energy), জলবিদ্যুৎ (Hydroelectric power) এবং ভূ-তাপীয় শক্তির (Geothermal energy) মতো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহার করে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানো।
  •     
  • শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি (Increased Energy Efficiency): শিল্প, পরিবহন এবং গৃহস্থালিতে বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা। যেমন, শক্তি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা।
  •     
  • বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ (Afforestation and Reforestation): নতুন করে গাছ লাগানো এবং বন উজাড় বন্ধ করা। গাছপালা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে।
  •     
  • কার্বন ক্যাপচার ও স্টোরেজ (Carbon Capture and Storage - CCS): শিল্প কারখানা এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস বায়ুমণ্ডলে পৌঁছানোর আগেই ধরে ফেলে ভূগর্ভে নিরাপদে সংরক্ষণ করা।
  •     
  • টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা (Sustainable Transportation Systems): গণপরিবহনের (Public transport) ব্যবহার বৃদ্ধি, সাইক্লিং (Cycling) ও হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির (Electric vehicles) ব্যবহার উৎসাহিত করা।
  •     
  • আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নীতি নির্ধারণ (International Cooperation and Policy Making): প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement) এর মতো আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসরণ করা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে কার্বন নিঃস্রণ কমাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। সরকার কর্তৃক কার্বন ট্যাক্স (Carbon tax) বা কার্বন ট্রেডিং (Carbon trading) এর মতো নীতি প্রণয়ন।
  •     
  • কৃষি পদ্ধতির উন্নতি (Improvement in Agricultural Practices): টেকসই কৃষি পদ্ধতি যেমন, কম কার্বন নিঃসরণকারী সার ব্যবহার, মিথেন নিঃসরণ কমানো (যেমন ধানের জমিতে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নতি) ইত্যাদি অনুশীলন করা।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
124
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews