আহসান হাবীবের কবিতায় গভীর জীবনবোধ ও আশাবাদের দিকটি বিশিষ্ট ব্যঞ্জনা দান করেছে।
"জমিলার মা'র শূন্য খাঁ খাঁ রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি"- এ কথাটি দ্বারা কবি গরিব ও অভাবী মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে তার জানা-শোনার বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি নিজের দেশের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিজেকে তাঁর দেশের বাস্তব পরিবেশের একজন পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেছেন। কারণ তাঁর চিরচেনা জনপদ, জনপদের মানুষ, নানা অনুষঙ্গ তাঁর কাছে অতি পরিচিত এবং তিনিও সেসবের চেনাজানা একজন। তিনি স্বদেশের অভাবী মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কেও অবগত। তাদের অভাবের সংসারে শূন্য খাঁ খাঁ রান্নাঘর সম্পর্কেও তাঁর ধারণা রয়েছে।
উদ্দীপকের ভাববস্তুর সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় বর্ণিত গ্রামীণ পরিবেশের বিভিন্ন অনুষঙ্গ এবং কবির অনুভূতির সাদৃশ্য রয়েছে।
মানুষ তার জন্মভূমির আলো-বাতাসে, প্রকৃতির স্নেহে বেড়ে ওঠে। জন্মভূমির প্রতি প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই গভীর অনুরাগ দেখা যায়। কারণ জন্মভূমির প্রতি মানুষের মুগ্ধতার প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অনুভূতি এক ও অভিন্ন। এ কারণেই মানুষ প্রিয় জন্মভূমির মাটির টানে বারবার ফিরে আসে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি গ্রামীণ জনপদর বিভিন্ন অনুষঙ্গে তার অনুভূতি তুলে ধরেছেন। সবুজ সোনার গাঁয়ে তাঁর মন ছুটে যায়, যেখানে কদমের ডালে কোকিল ডাকে, সেখানে ভাটিয়ালি গানের সুর কণ্ঠে নিয়ে মাঝি নদীর বাঁকে বাঁকে নৌকা বায়। আর আপন মনে সেখানে রাতের বেলা ডাহুক ডাকে, ভোরে শিশির দূর্বাঘাসে জমে থাকে, সকালের পূর্বাকাশে সূর্য হাসে, রাখালেরা গরু নিয়ে মাঠে যায়, বাঁশি বাজায়। উদ্দীপকের এই বিষয়গুলো 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রতিফলিত গ্রামীণ পরিবেশ এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ অনুষঙ্গের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় কবির পরিচিত জনপদ, আসমান-জমিন, জোনাকি, গাছ, পুকুর, পাখি, রাত, বাঁশবাগান, মাছরাঙা প্রভৃতি বিষয় অনুষঙ্গ এবং কদম আলী, জমিলার মা, লাঙল-বৈঠার কর্মী প্রভৃতির কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার অখণ্ড ভাব প্রকাশ করে না। কারণ উদ্দীপকে প্রতিফলিত গ্রামীণ পরিবেশ ও স্বদেশ প্রকৃতির বিষয় ছাড়াও কবিতায় বিভিন্ন বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে।
মানুষ জন্মভূমির রূপ লাবণ্যে মুগ্ধ থাকে। এই মুগ্ধতার প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অনুভূতির জগতে তা এক ও অভিন্ন। কিন্তু প্রকৃতির পরিবেশ সংলগ্ন মানুষের জীবন নানা রকম, বৈচিত্র্যময়। অনেক ক্ষেত্রেই একের সঙ্গে অন্যের মেলে না। ফলে স্বদেশ প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক থাকলেও স্বদেশপ্রীতি একরকম হয় না।
উদ্দীপকে স্বদেশের গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। এখানে গ্রামীণ পরিবেশ, প্রকৃতির নানা উপাদান, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এবং তাদের জীবনাচরণ প্রভৃতি তুলে ধরা হয়েছে। এই বিষয়গুলো 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রতিফলিত গ্রামীণ পরিবেশের বিভিন্ন বিষয় অনুষঙ্গের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কিন্তু কবিতায় প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে মানুষের জীবনযাপন, দুঃখ, দারিদ্র্য এবং কবির আত্মপরিচয়ের যে বিষয় বর্ণিত হয়েছে তা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। কবি গ্রামীণ জনপদের নানা বিষয় অনুষঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও যোগাযোগের যে বিষয়টির কথা বলেছেন তা উদ্দীপকে নেই।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি দেশকে অনুভব করে দেশের মানুষকে আপন করে নেওয়ার যে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, তা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। এ কবিতায় জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের এবং কবির নিজের সম্পর্ক দেখাতে গিয় তিনি প্রকৃতির প্রসঙ্গ এনেছেন। উদ্দীপকে এভাবে প্রকৃতির প্রসঙ্গ আসেনি। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার অখণ্ড ভাব প্রকাশ করে না।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!