মনটা আমার ছুটে চলে সোনার সবুজ গাঁয়

সেথা কোকিল ডাকে কদম শাখে

নৌকা চলে নদীর বাঁকে

মাঝি সেথা আপন মনে ভাটিয়ালি গায়।

বেতের বনে ডাহুক পাখি সারাটি রাত যায় যে ডাকি 

বন্ধু যে তার হারিয়ে গেছে

 

খুঁজেই না পাই আর। 

শিশির ভেজা দূর্বা ঘাসে 

সকাল বেলার সূর্য হাসে 

রাখালেরা বাজায় বাঁশি 

মাঠের পানে ধায়।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

আহসান হাবীবের কবিতায় গভীর জীবনবোধ ও আশাবাদের দিকটি বিশিষ্ট ব্যঞ্জনা দান করেছে।

উত্তরঃ

"জমিলার মা'র শূন্য খাঁ খাঁ রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি"- এ কথাটি দ্বারা কবি গরিব ও অভাবী মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে তার জানা-শোনার বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন। 

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি নিজের দেশের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিজেকে তাঁর দেশের বাস্তব পরিবেশের একজন পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেছেন। কারণ তাঁর চিরচেনা জনপদ, জনপদের মানুষ, নানা অনুষঙ্গ তাঁর কাছে অতি পরিচিত এবং তিনিও সেসবের চেনাজানা একজন। তিনি স্বদেশের অভাবী মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কেও অবগত। তাদের অভাবের সংসারে শূন্য খাঁ খাঁ রান্নাঘর সম্পর্কেও তাঁর ধারণা রয়েছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের ভাববস্তুর সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় বর্ণিত গ্রামীণ পরিবেশের বিভিন্ন অনুষঙ্গ এবং কবির অনুভূতির সাদৃশ্য রয়েছে। 

মানুষ তার জন্মভূমির আলো-বাতাসে, প্রকৃতির স্নেহে বেড়ে ওঠে। জন্মভূমির প্রতি প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই গভীর অনুরাগ দেখা যায়। কারণ জন্মভূমির প্রতি মানুষের মুগ্ধতার প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অনুভূতি এক ও অভিন্ন। এ কারণেই মানুষ প্রিয় জন্মভূমির মাটির টানে বারবার ফিরে আসে।

উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি গ্রামীণ জনপদর বিভিন্ন অনুষঙ্গে তার অনুভূতি তুলে ধরেছেন। সবুজ সোনার গাঁয়ে তাঁর মন ছুটে যায়, যেখানে কদমের ডালে কোকিল ডাকে, সেখানে ভাটিয়ালি গানের সুর কণ্ঠে নিয়ে মাঝি নদীর বাঁকে বাঁকে নৌকা বায়। আর আপন মনে সেখানে রাতের বেলা ডাহুক ডাকে, ভোরে শিশির দূর্বাঘাসে জমে থাকে, সকালের পূর্বাকাশে সূর্য হাসে, রাখালেরা গরু নিয়ে মাঠে যায়, বাঁশি বাজায়। উদ্দীপকের এই বিষয়গুলো 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রতিফলিত গ্রামীণ পরিবেশ এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ অনুষঙ্গের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় কবির পরিচিত জনপদ, আসমান-জমিন, জোনাকি, গাছ, পুকুর, পাখি, রাত, বাঁশবাগান, মাছরাঙা প্রভৃতি বিষয় অনুষঙ্গ এবং কদম আলী, জমিলার মা, লাঙল-বৈঠার কর্মী প্রভৃতির কথা বলা হয়েছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার অখণ্ড ভাব প্রকাশ করে না। কারণ উদ্দীপকে প্রতিফলিত গ্রামীণ পরিবেশ ও স্বদেশ প্রকৃতির বিষয় ছাড়াও কবিতায় বিভিন্ন বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে। 

মানুষ জন্মভূমির রূপ লাবণ্যে মুগ্ধ থাকে। এই মুগ্ধতার প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অনুভূতির জগতে তা এক ও অভিন্ন। কিন্তু প্রকৃতির পরিবেশ সংলগ্ন মানুষের জীবন নানা রকম, বৈচিত্র্যময়। অনেক ক্ষেত্রেই একের সঙ্গে অন্যের মেলে না। ফলে স্বদেশ প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক থাকলেও স্বদেশপ্রীতি একরকম হয় না।

উদ্দীপকে স্বদেশের গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। এখানে গ্রামীণ পরিবেশ, প্রকৃতির নানা উপাদান, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এবং তাদের জীবনাচরণ প্রভৃতি তুলে ধরা হয়েছে। এই বিষয়গুলো 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রতিফলিত গ্রামীণ পরিবেশের বিভিন্ন বিষয় অনুষঙ্গের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কিন্তু কবিতায় প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে মানুষের জীবনযাপন, দুঃখ, দারিদ্র্য এবং কবির আত্মপরিচয়ের যে বিষয় বর্ণিত হয়েছে তা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। কবি গ্রামীণ জনপদের নানা বিষয় অনুষঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও যোগাযোগের যে বিষয়টির কথা বলেছেন তা উদ্দীপকে নেই।

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি দেশকে অনুভব করে দেশের মানুষকে আপন করে নেওয়ার যে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, তা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। এ কবিতায় জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের এবং কবির নিজের সম্পর্ক দেখাতে গিয় তিনি প্রকৃতির প্রসঙ্গ এনেছেন। উদ্দীপকে এভাবে প্রকৃতির প্রসঙ্গ আসেনি। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার অখণ্ড ভাব প্রকাশ করে না।

216

আসমানের তারা সাক্ষী

সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই

নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী

সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী

পুবের পুকুর, তার ঝাকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টি

মাছরাঙা আমাকে চেনে

আমি কোনো অভ্যাগত নই

খোদার কসম আমি ভিনদেশি পথিক নই

আমি কোনো আগন্তুক নই ।

আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি

ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে

এখানেই থাকি আর

এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা

সারা দেশে।

আমি কোনো আগন্তুক নই ৷

এই খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ ক্লান্ত বিকেলের

পাখিরা আমাকে চেনে

তারা জানে আমি কোনো অনাত্মীয় নই ।

কার্তিকের ধানের মঞ্জরী সাক্ষী

সাক্ষী তার চিরোল পাতার

টলমল শিশির – সাক্ষী জ্যোৎস্নার চাদরে ঢাকা

        নিশিন্দার ছায়া

অকাল বার্ধক্যে নত কদম আলী

তার ক্লান্ত চোখের আঁধার –

আমি চিনি, আমি তার চিরচেনা স্বজন একজন । আমি

জমিলার মা'র

শূন্য খা খা রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি

সে আমাকে চেনে।

হাত রাখো বৈঠায় লাঙলে, দেখো

আমার হাতের স্পর্শ লেগে আছে কেমন গভীর । দেখো

মাটিতে আমার গন্ধ, আমার শরীরে

লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।

আমাকে বিশ্বাস করো, আমি কোনো আগন্তুক নই ।

দু'পাশে ধানের খেত

       সরু পথ

সামনে ধু ধু নদীর কিনার

আমার অস্তিত্বে গাঁথা । আমি এই উধাও নদীর

মুগ্ধ এক অবোধ বালক ৷
 

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews