পদসোপান নীতি আমলাতন্ত্রের একটি বৈশিষ্ট্য।
ম্যাক্স ওয়েবারের মতে, আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্ব বা আধিপত্য হবে আইনসম্মত ও বাস্তব। এটা প্রতিষ্ঠিত হবে আইনের ভিত্তিতে আনুগত্য থাকবে বিধিবদ্ধ আইন ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার প্রতি। কোনো ব্যক্তির প্রতি আনুগত্য অপ্রয়োজনীয়। এজন্য তাকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মনিকার ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের মেধাভিত্তিক নির্বাচন প্রশিক্ষণ ও স্থায়ীত্ব বৈশিষ্ট্য নির্দেশিত হয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো-
মেধাভিত্তিক নির্বাচন: আমলাতান্ত্রিক সংগঠনে কর্মী বাছাইয়ের মূল মাপকাঠি হচ্ছে মেধা। এখানে অভিজ্ঞতা এবং কারিগরি ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। লিখিত ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা এবং সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে মেধা যাচাই করা হয়। আমলাতন্ত্রে কর্মী বাছাইয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।
প্রশিক্ষণ: আমলাতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রশিক্ষণ। আমলাতন্ত্রের সদস্যদের চাকরিতে প্রবেশের পর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়। সরকারি কাজকর্ম করতে গেলে দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে সরকারি কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমলাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
স্থায়িত্ব: আমলাতান্ত্রিক সংগঠন স্থায়ী। সরকারি কর্মচারিগণ একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত স্থায়ী পদে থাকেন। সরকার পরিবর্তন বা উত্থান-পতন সরকারি কর্মচারীদের স্থায়ীত্বকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে পারে না। সাধারণত অযোগ্যতা, দুর্নীতিপরায়ণতা, শারীরিকভাবে অযোগ্য কিংবা চাকরির শর্তাবলি ভঙ্গের প্রমাণিত অভিযোগ ছাড়া তাদের পদচ্যুত করা যায় না।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, মনিকার ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের মেধাভিত্তিক নির্বাচন, প্রশিক্ষণ, স্থায়িত্ব ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য নির্দেশিত হয়েছে।
উদ্দীপকের মনিকা আমলাতন্ত্রের পেশা গ্রহণ করেছে। আমি মনে করি মনিকা যে পেশা গ্রহণ করেছে উদ্দীপকে সেটির সকল বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠেনি। নিচে আমার মতামত প্রদান করা হলো-
লিখিত বিধিবিধান: আমলাতন্ত্রের একজন কর্মীর দায়িত্ব, কর্তব্য ও করণীয়, অফিসিয়াল কাজ এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত ফল লাভের জন্য কতকগুলো লিখিত বিধিবিধান থাকে। এসব মেনে চলার জন্য প্রয়োজনে তাদের প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়।
বিশেষীকরণ : আমলাতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিশেষীকরণ।মআমলাতান্ত্রিক সংগঠনের ক্ষেত্রে প্রশাসন ও কাজ উভয় ক্ষেত্রে কর্মবিভাগ থাকবে। আমলাদেরকে বিশেষ বিষয়ে দক্ষ করে তোলার পর মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিশেষ কর্মে নিযুক্ত করা হয়। কোনো নির্দিষ্ট কাজে বিশেষ ধরনের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কোনো বিশেষ পদে নিয়োগপ্রাপ্তি ও পদোন্নতির ভিত্তি হওয়ায় আমলাতন্ত্রে বিশেষায়ণের গুরুত্ব ব্যাপক। বিশেষায়নের ফলে কোনো বিশেষ কাজ সুষ্ঠুভাবে ও অধিক দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
নিরবচ্ছিন্নতা : গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। বিভিন্ন কারণে সরকার মেয়াদ শেষের আগেই পদত্যাগ করে বা পতন ঘটে। ফলে সরকারের দলীয় শাসনের নিরবচ্ছিন্নতা থাকে না। সরকারের পরিবর্তন হলেও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে আমলারা নিরবচ্ছিন্নতা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন।
শৃঙ্খলাবোধ : আমলাতন্ত্রে শৃঙ্খলাবোধের ওপর অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়। নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে সরকারি আমলাগণকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিশেষ প্রয়োজন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গৃহীত হয়।
এছাড়াও আইনগত কাঠামো, নির্ধারিত বেতনক্রম, পেশাদারিত্ব, পদসোপান, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই বলা যায়, মনিকা যে পেশা গ্রহণ করেছে উদ্দীপকে সেটির সকল বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠেনি।
Related Question
View AllBureaucracy' শব্দের প্রতিশব্দ 'আমলাতন্ত্র'।
আমলাতন্ত্রের এক বড় ত্রুটি হলো লালফিতায় দৌরাত্ম্য। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্বের নজিরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে অতি আনুষ্ঠানিকতা পালনকে লালফিতার দৌরাত্ম্য বলা হয়। পদসোপান ভিত্তিতে কাগজপত্রের অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, যা দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। এর ফলে প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়।
আমলাতন্ত্র একটি পেশাদার, দক্ষ ও নিরপেক্ষ বাহিনী। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে তারা এই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের মমতাজ আলীর কার্যক্রমেও এরূপ দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখা যায়। মমতাজ আলী তার কাজের ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করেন এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন অনুসারে তার কাজ করেন। এটি আমলাতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মমতাজ আলী সাহেব তার। দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমলাতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে তিনি তার কর্মকাণ্ডে যে সক্ষমতা প্রদর্শন। করেছেন, তা আমলাতন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আমলাতন্ত্রের পদের ধারাক্রম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এখানে আমলাতন্ত্রের কার্যপ্রণালি এবং প্রক্রিয়া দেখা যায়।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমলাদেরকে বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয়। উন্নয়মূলক কাজেও মমতাজ আলীদের মতো আমলারা মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। অনেক সময় তাদের ভূমিকা দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহকের ন্যায়। আবার ক্ষেত্রবিশেষে এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়।
আমলারা রাষ্ট্রের জনগুরুত্বপূর্ণ সব কাজের তদারকিতে নিয়োজিত থাকেন। প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ, নীতির বাস্তবায়ন তথা কাজ সম্পন্ন করা, সরকারি সম্পদের হেফাজত করা, বিচারসংশ্লিষ্ট কাজ ইত্যাদি আমলাদের রুটিনওয়ার্ক। সরকারের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা করা, সম্ভাব্যতা যাচাই করা, সমীক্ষা করা, বাজেট প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদনের সুপারিশ করা, কাজ বাস্তবায়ন করা, তদারকি করা ইত্যাদি আমলাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সূচনা ও বাস্তবায়ন করার মূল দায়িত্ব এ আমলাদের ওপরই ন্যস্ত থাকে।
আমলাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা যত বেশি হবে, এসব ক্ষেত্রে সফলতা তত দ্রুত আসবে। কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রভাগে থাকেন এ আমলারা। এছাড়া সামাজিক পরিবর্তন, অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ইত্যাদি অবস্থাগত ক্ষেত্রেও আমলাদের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। তবে আমলাতন্ত্রের অতি আনুষ্ঠানিকতা, লালফিতার দৌরাত্ম্য স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা, অবহেলা এবং অ-পেশাদারি আচরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। কিন্তু এটি আমলাতন্ত্রের নীতির পরিপন্থী। আমলাতন্ত্রে কখনো এরূপ প্রত্যাশা করা হয় না। কিন্তু জনাব আলী সাহেবের মতো দক্ষ, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ আমলারাই দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহক, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
অধ্যাপক অগ আমলাতন্ত্রকে পেশাদার দক্ষ বাহিনী বলে অভিহিত করেন।
কোনো সংগঠন পরিচালনার জন্য স্থায়ী বেতনভুক্ত দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আমলা বলা হয়। আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র বলতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী বেতনভুক্ত কর্মীবাহিনীকে বোঝায়। আমলারা সুশৃঙ্খলভাবে পরস্পর পদের ক্রম অনুযায়ী সংযুক্ত এবং রাজনীতি নিরপেক্ষ থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ম্যাক্স ওয়েবারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!