খাওয়ার পর মাঝি লাল রঙের পাল তোলে।
""যত দোষ সব আমরা না আমি একা নেবো মাথা পেতে।"-এই চরণে ছোট্ট কিশোরের দায়িত্ববোধের প্রকাশ ঘটেছে।
দুরন্ত কিশোর কানাই তার ছোট বোন ছোকানুকে সাথে নিয়ে নৌকায় উঠে নদীর পর নদী পার হয়ে মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে চায়। তারা ছোট বলে মাঝি তাদের নৌকায় তুলতে চাইবে না একথা সে জানে। তার মনে এই ভয়ও কাজ করে যে, নৌকায় তুলে নেওয়ার জন্য তার বাবা মাঝিকেও বকা দিতে পারে। তাই প্রথমে সে মাঝিকে বলেছে যে সব দোষ সে আর তার বোন মাথা পেতে নেবে। কিন্তু পরমুহূর্তেই বড় ভাই হিসেবে বোনের প্রতি তার দায়িত্ববোধ এবং মমত্ববোধ জাগ্রত হয়েছে এবং সে বলেছে সব দোষ সে একাই মাথা পেতে নেবে।
উদ্দীপকের কিশোরটির সাথে 'নদীর স্বপ্ন' কবিতার বালকটির দায়িত্ববোধের সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রতিটি মানুষের ভেতরই দায়িত্ববোধ নামক গুণটি থাকা উচিত। যদিও বয়সে যারা অপেক্ষাকৃত বড় তাদের কাছ থেকেই এ গুণটি প্রত্যাশিত; কিন্তু অনেক সময় ছোট কিশোর-কিশোরীর মধ্যেও দায়িত্ববোধের প্রকাশ ঘটে।
'নদীর স্বপ্ন' কবিতার কিশোর কানাইয়ের মধ্যে এই দায়িত্ববোধ লক্ষ করা যায়। বাড়ির কাউকে না বলে নৌকা ভ্রমণ করার জনা যদি তার বাবা বকে তবে বাবার বকুনি খাওয়ার ভারও সে একা নিজের কাঁধে তুলে নিতে চেয়েছে। ছোট বোন ছোকানু ভিতু বলে মাঝিকে সে বলেছে তার প্রতি খেয়াল রাখতে। শুধু তাই নয়, মাঝিকে সে বলেছে যদি ঝড় আসে তবে মাঝি যেন তাকে ডাকে, ছোকানুর ঘুম যেন না ভাঙায়। উদ্দীপকের কিশোরের মধ্যেও এই গুণটির প্রকাশ ঘটেছে। ছোট্ট কিশোর যেন মায়ের অভিভাবক। তাই মাকে নিয়ে বিদেশ ঘোরার সময় মায়ের পালকির পাশে ঘোড়ায় চড়ে সে মায়ের পাশে পাশে যায়। যেন মায়ের দেখাশুনার ভার সে নিয়েছে।
"উদ্দীপকটি 'নদীর স্বপ্ন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না।"- উক্তিটি যথার্থ।
কিশোর মন কল্পনার ডানায় ভর করে বর্ণিল স্বপ্ন এঁকে চলে অবিরাম। এ বয়সেই অজানার প্রতি আকর্ষণটা থাকে সবচেয়ে বেশি। কল্পনাপ্রবণতার পাশাপাশি দায়িত্ববোধ নামক আরেকটি বৈশিষ্ট্য এ বয়স থেকেই প্রকাশিত হতে থাকে।
'নদীর স্বপ্ন' কবিতায় কানাই এক কিশোর যে রঙিন স্বপ্নে বিভোর। সে স্বপ্ন দেখে নৌকায় করে নদীর পর নদীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে তার ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে। আর এ সূত্রেই কিশোর কানাইয়ের ছোট বোনের প্রতি দায়িত্ববোধেরও প্রতিফলন ঘটেছে। সব দোষ নিজের কাঁধে তুলে নিতে চাওয়া, ছোকানুর প্রতি খেয়াল রাখা এসবের মধ্যে আমরা তার দায়িত্ববোধের পরিচয় পাই। অন্যদিকে উদ্দীপকের কিশোরের মায়ের প্রতি খেয়াল রাখা কানাইয়ের দায়িত্ববোধকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
ছোকানুর দায়িত্ববোধ উদ্দীপকের কিশোরের মধ্যে প্রকাশিত হলেও উভয়ের পরিপ্রেক্ষিত ভিন্ন। 'নদীর স্বপ্ন' কবিতাজুড়ে নদী, নৌকা সংশ্লিষ্ট যেসব বর্ণনা আছে তা সবই কানাইয়ের কল্পনায় আঁকা। তার দায়িত্ববোধ অপেক্ষা এ বিষয়গুলোই কবিতায় প্রধান হয়ে উঠেছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। উদ্দীপকে প্রকৃতির কোনো বর্ণনা নেই কেবল মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধই প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি 'নদীর স্বপ্ন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না।
Related Question
View All[বি. দ্র.: প্রশ্নোক্ত উত্তর অংশটি আলোচ্য কবিতায় নেই।।
নৌকা-ভ্রমণের বিনিময়ে কানাই মাঝিকে আনি বা পয়সা দিতে চেয়েছিল নৌকায় তাদের নিয়ে বেড়ানোর পারিশ্রমিক হিসেবে।
'নদীর স্বপ্ন' কবিতার কানাই আর তার ছোট বোন ছোকানু নদী ভ্রমণে বের হতে চায়। মাঝিকে তার নৌকায় তাদেরকে তুলে কানাই অনুরোধ করে। মাঝিকে এর বিনিময়ে অর্থ দিতে চায় কানাই। কারণ মাঝি তার উপার্জিত টাকা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করে। তাই কানাই মাঝিকে নৌকা ভ্রমণের বিনিময়ে আনি বা পয়সা দিতে চেয়েছিল।
উদ্দীপকের সাথে 'নদীর স্বপ্ন' কবিতার যে অমিল লক্ষ করা যায়, তা হলো নদীর সৌন্দর্য ও নৌকা ভ্রমণের বিষয়টির অনুপস্থিত।
এদেশের বুকে বয়ে চলছে অসংখ্য নদ-নদী। এ নদীগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে বিভিন্ন জনপদ। এসব জনপদের মানুষেরা নদীর ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করে।
উদ্দীপকের নিশু, লিজা, শ্যামা, মিথিয়া, পিয়া বড়দের দৃষ্টি এড়িয়ে সাগরদিঘির পাড়ে মিলিত হয় পিকনিক করার জন্য। বাড়ি থেকে নিয়ে আসা চাল, ডাল, ডিম, মসলা সবকিছু দিয়ে রান্না শেষে সবাই একসঙ্গে বসে খায়। সবাই মিলে আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠে। অন্যদিকে 'নদীর স্বপ্ন' কবিতাতেও কানাই ও ছোকানু মা-বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে নৌকা ভ্রমণে বের হয়। দুজন মিলে ঘুরে দেখতে চায় পদ্মা, মেঘনা, শোণ নদী। নৌকায় উঠে তারা মুগ্ধ হয়। রান্না করে খায়। গান শোনে, গল্প শোনে মাঝির কাছে। উদ্দীপকের ছেলেমেয়েদের মতো কানাই ও ছেকানুও আনন্দে মেতে ওঠে। তবে উদ্দীপকে নদীর সৌন্দর্য ও নৌকা ভ্রমণের বিষয়টি অনুপস্থিতি। আর এ দিক থেকেই উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার অমিল লক্ষ করা যায়।
বিষয়বস্তু ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও কবিতাটি কিশোর মনের আবেগ প্রকাশের দিক থেকে অভিন্ন মন্তব্যটি যথার্থ।
কিশোর-কিশোরীদের মনের আবেগ-অনুভূতি কল্পনাপ্রবণ। তারা নানা রকম ইচ্ছা করে, স্বপ্ন দেখে। তাদের মাথায় যখন যে বৃদ্ধি চাপে তখন তাই করতে চায়।
উদ্দীপকের নিশু, লিজা, শ্যামা, মিথিয়া, পিয়া সাগরদিঘি পাড়ে গেছে পিকনিক করার জন্য। সেখানে গিয়ে নুরুর দেখাদেখি সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে দিঘির জলে। দাপাদাপি যেন শেষ হতে চায় না। শেষে পিয়ার চেঁচামেচিতে সবাই এসে কলাপাতায় খেতে বসল। এখানে কিশোর-কিশোরীর দুরন্ত মনের আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। 'নদীর স্বপ্ন' কবিতার কানাই ও ছোকানুও আবেগের এমন বশবর্তী হয়ে বাবা-মার চোখ ফাঁকি দিয়ে মাঝির সাথে নৌভ্রমণে বের হতে চায়। সেখানে গিয়ে তারা বেশ মজা করার স্বপ্ন দেখে।
উদ্দীপকের কিশোর কিশোরীরা পিকনিকে গিয়ে সকলের সঙ্গে হাসি আনন্দে মেতে ওঠে। 'নদীর স্বপ্ন' কবিতার কিশোর কানাই ও ছোকানু তাদের মনের আবেগকে ধরে রাখতে না পেরে নৌকা ভ্রমণে বের হয়ে সেই আবেগকে বাস্তবে রূপদান করতে চেয়েছে। সুতরাং আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
গান গাওয়া শেষ হলে কানাই মাঝিকে গল্প বলতে বলেছিল।
বোনের প্রতি স্নেহ ও দায়িত্ববোধ এবং মাঝিকে অভয় দেওয়ার উদ্দেশ্যে কানাই বাবার বকুনি একাই মাথা পেতে নিতে চেয়েছিল।
'নদীর স্বপ্ন' কবিতায় কিশোর কানাই মাঝিকে অনুরোধ করে তাকে এবং বোন ছোকানুকে নদী ভ্রমণে নিয়ে যেতে। মাঝিকে সে পয়সা দিতে চায়। এতেও সে রাজি না হলে সে বলে মা ঘুমিয়ে রয়েছে, দিদি স্কুলে গেছে, আর এই ফাঁকে তাদের নৌকায় তুলে নিতে বলে এবং এই বলে মাঝিকে সে অভয় দেয় যে তার বাবা যদি এ নিয়ে বকে তবে সেই বকুনি সে একাই মাথা পেতে নেবে। ছোকানুকে কিংবা মাঝিকে এর ভাগ নিতে হবে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!