যে সকল মাছের পোনা সহজলভ্য, তাড়াতাড়ি বাড়ে, পুষ্টিমান ভালো ও খেতে সুস্বাদু সেসব মাছকেই চাষযোগ্য মাছ বলে ।
বাজারে মাছের চাহিদা প্রচুর। তাই যে কেউ মাছ চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। একই সাথে দেশীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
মনোয়ারা একজন গৃহিণী। সংসারের আয় বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি বাড়ির পতিত জলাশয়ে মাছ চাষের সিদ্ধান্ত নেন। এক্ষেত্রে তাকে এমন একটি মাছ বেছে নিতে হবে যা চাষের ঝামেলা কম এবং বাজারে চাহিদাও আছে। পাঙ্গাস এমন একটি মাছ, যা যেকোনো জলাশয়ে চাষ করা যায়। এ মাছের পোনা সহজলভ্য। এ মাছ সর্বভুক বলে বিভিন্ন সর্বভুক খাবার সরবরাহ করে অধিক উৎপাদক পাওয়া সম্ভব। এ মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বেঁচে থাকার হার বেশি। তাই চাষে ঝুঁকি কম। এমনকি এ মাছ অল্প পানির মধ্যে রেখে জীবন্ত অবস্থায় বাজারজাত করা যায়। সর্বোপরি বাজারে এ মাছের চাহিদাও প্রচুর। সুতরাং পাঙ্গাস মাছ চাষে এত সব সুবিধা বিবেচনা করেই মনোয়ারা বেগম এ মাছটি চাষের জন্য বাছাই করেন।
মনোয়ারা বেগমের পরবর্তী পরিকল্পনাটি ছিল বাড়ির পতিত খোলা উঁচু জায়গায় চাষাবাদ আরম্ভ করা। এ পরিকল্পনার আওতায় তিনি উক্ত স্থানে নানা রকম ফল ও শাকসবজি চাষাবাদ করতে পারেন। এসব ফল ও শাকসবজি তার পারিবারিক চাহিদা পূরণ করবে। এতে করে বাজার থেকে তাকে আর ফল ও শাকসবজি কিনতে হবে না বলে তার বাজার খরচ বেঁচে যাবে। অতিরিক্ত ফল ও শাকসবজি তিনি বাজারে বিক্রি করতে পারবেন। যা তার পরিবারের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সাথে এ বাগান থেকে প্রাপ্ত ডালপালা ও উচ্ছিষ্টাংশ তিনি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এতে করে তার জ্বালানির খরচও কমবে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে উঁচু জায়গায় ফল ও শাকসবজি চাষাবাদের মাধ্যমে মায়ারা বেগমের সংসারে আয় নানাভাবে বেড়ে যাবে। সুতরাং তার পরবর্তী পরিকল্পনাটি সংসারের অভাব অনটন থেকে তাকে সম্পূর্ণভাবে রেহাই দিবে।
Related Question
View Allবসতবাড়ির আশপাশের উঁচু জমিতে বাগান করে যে ফুল, ফল,, শাকসবজি ইত্যাদি ফলানো হয় তাকে উদ্যান ফসল বলে।
লালশাকের বীজ অত্যন্ত ছোট বলে সঠিকভাবে বপন করা যায় না। তাই বপনের সময়ে বীজ যাতে সব জায়গায় সমভাবে পড়ে তা নিশ্চিত করার জন্য বীজের সাথে বালি বা ছাই মিশিয়ে নেওয়া হয়।
রওশন আরার টমেটো চাষের জমির পরিমাণ ৩ শতাংশ।
আমরা জানি,
১ শতাংশ জমিতে গোবর সার লাগে ৩০ – ৫০ কেজি
৩ শতাংশ জমিতে গোবর সার লাগবে (৩০-৫০) ৩
= ৯০ – ১৫০ কেজি
সুতরাং ৯০ – ১৫০ কেজি গোবর সার প্রয়োগ করেছিল।
একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক ২৭৫ গ্রাম শাকসবজি খাওয়া উচিত। অথচ বেশিরভাগ মানুষই অর্থ ও সচেতনতার অভাবে এ চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। আমাদের প্রত্যেকের বাড়ির পাশে কিছু না কিছু খালি জায়গা পড়ে থাকে। আমরা যদি এ খালি জায়গায় নানা রকম শাকসবজি চাষ করি তবে খুব সহজেই আমরা আমাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারি। অথচ শুধুমাত্র উদ্যোগের অভাবে আমরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। যেমন উদ্যোগ নিয়েছেন রওশন আরা। তার শাকসবজি চাষের উদ্যোগটি তার পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণে যথেষ্ট হবে। অধিকন্তু অতিরিক্ত সবজি বিক্রি করে সে টাকা দিয়ে তিনি নানা রকম ফল ক্রয় করতে পারেন। যা তার পরিবারের সদস্যদের দৈনিক ফলের চাহিদাও পূরণ করবে।
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে পারিবারিক খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে রওশন আরার উদ্যোগটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যে সকল মাছের পোনা সহজলভ্য, তাড়াতাড়ি বাড়ে, পুষ্টিমান ভালো ও খেতে সুস্বাদু সেসব মাছকেই চাষযোগ্য মাছ বলে ।
বাজারে মাছের চাহিদা প্রচুর। তাই যে কেউ মাছ চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। একই সাথে দেশীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
