জৈষ্ঠ্য মাসে দেশীয় নানা সুমিষ্ট ফলমূলের সমাহার বেশি থাকে বলে এ মাসকে মধু মাস বলে।
কৃষি আমাদের সংস্কৃতির একটি বড় অংশ, কারণ দেশের ঋতু বৈচিত্র্যের মতোই সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিনোদনের সঙ্গে কৃষি ও কৃষকের সম্পর্ক রয়েছে। যাত্রাপালা, পল্লিগীতি, জারিসারি, ভাটিয়ালি, - কবিগান এবং নবান্ন উৎসব পালনে কৃষি ও কৃষক সমাজের অবদান রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষি পণ্যটি হলো মাছ।
এক সময় বাংলাদেশের নদী, খাল-বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। বাঙালিকে বলা হতো 'মাছে ভাতে বাঙালি'। অতীতে রুই, কাতলা, মৃগেল জাতীয় মাছ চাষ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে চাহিদার প্রেক্ষিতে পাঙ্গাশ এবং তেলাপিয়া মাছ চাষ করা হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন সুস্বাদু মাছ যেমন-পাবদা, কৈ, মাগুর, মলা ইত্যাদি চাষ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে উপকূলীয় অঞ্চলের লোনা পানিতে বাগদা ও মিঠা পানিতে গলদা চিংড়ির চাষ হচ্ছে।
তাই বলা যায়, চাহিদা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে উক্ত মৎস্য সম্পদ বৈচিত্র্যময়।
উদ্দীপকের মৎস্য সম্পদের কথা বলা হয়েছে।
আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে মৎস্য সম্পদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের অন্যতম একটি খাত হচ্ছে মৎস্য। চিংড়ি রপ্তানি করে প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের ১১ শতাংশের অধিক লোক তাদের জীবন-জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। অনেক বেকার লোক মাছ চাষ, হ্যাচারি, নার্সারি-খামার স্থাপন, মাছের খাদ্য তৈরি করে বেকারত্ব দূর করছে। পরিশেষে বলা যায়, দেশে যে পরিমাণ মৎস্য চাষোপযোগী জলাশয় রয়েছে সেগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে মৎস্য চাষের ব্যবস্থা করলে তা দেশের দারিদ্র বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
Related Question
View Allকৃষিকে পেশা হিসেবে নেওয়ার আগে মানুষ ২টি উপায়ে, যথা-পশুপাখি শিকার অথবা ফলমূল আহরণ করে খাদ্য সংগ্রহ করত।
কতদিনের দৈর্ঘ্যের তারতম্যের কারণে বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন ফসল জন্মায়। কিন্তু কলা সব ঋতুতে জন্মায়, কারণ দিনের দৈর্ঘ্যের তারতম্য কলার ফুল ধারণের ওপর কোন প্রভাব ফেলে না। তাই কলাকে ঋতু নিরপেক্ষ ফল বলা হয়।
উদ্দীপকে রফিকের কৃষিজ সম্পদ বলতে একটি ছোট্ট বসতবাড়ি, ভর মাঝারি আকারের পুকুর ও ৫০ শতাংশ ফসলি জমি ছিল।
রফিক তাঁর চাচার পরামর্শমতো কৃষিজ সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহারের দ উদ্যোগ নেন। তিনি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। উৎপাদিত মাছের ৬ মাধ্যমে তাঁর পরিবারের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ হয়। অতিরিক্ত মাছ নয় তিনি বাজারে বিক্রি করেন, যার ফলে তাঁর অর্থনৈতিক সংকট দূর হয়। পরবর্তীতে রফিক তাঁর জমিতে ঋতুভিত্তিক ও লাভজনক ফসলের চাষাবাদ ২ শুরু করেন। এক্ষেত্রেও পারিবারিক খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জন অতিরিক্ত ফসল বিক্রি করে তিনি বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হন।
অর্থাৎ, রফিক উল্লিখিত উপায়ে তাঁর কৃষিজ সম্পদের বহুমাত্রিক ব্যবহার জন করে লাভবান হয়েছিলেন।
রফিক তাঁর পুকুরে মাছ চাষ ও ৫০ শতাংশ জমিতে ফসল আবাদের উদ্যোগ নেন।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বাংলাদেশের কৃষি জমি, নদনদী ও খালবিল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে দেখা দিচ্ছে খাদ্য ও পুষ্টির ঘাটতি। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৮০ গ্রাম আমিষের প্রয়োজন অথচ আমরা বর্তমানে গড়ে মাত্র ২১ গ্রাম আমিষ পেয়ে থাকি। রফিকের পুকুরে মাছ চাষ করার উদ্যোগ তাঁর পরিবারের সদস্যদের আমিষের চাহিদা পূরণ করবে। এছাড়াও অতিরিক্ত মাছ বাজারে বিক্রির ফলে তার অর্থনৈতিক সংকট দূর হবে এবং দেশে মাছের মোট উৎপাদনের সাথে সেটা যোগ হবে। এই বাড়তি উৎপাদন দেশের খাদ্য ও পুষ্টির ঘাটতি কিছুটা হলেও কমিয়ে আনবে। জমি পতিত না রেখে যথাযথভাবে ব্যবহারের ফলে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
সুতরাং, রফিকের কৃষিজ সম্পদ ব্যবহারের উদ্যোগগুলো যুক্তিযুক্ত ও সময়োপযোগী।
মানুষ শিকারের যুগে আগুনের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ শিখেছিল।
পরিবার হলো মানব সমাজের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
খাদ্যসহ সার্বিক নিরাপত্তার প্রথম ও প্রধান কেন্দ্র হলো পরিবার। পরিবারসমূহ স্নেহ, ভালোবাসা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে সুরক্ষিত।
এছাড়া বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরা কাজ ভাগ করে নেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
