মানবসম্পদ উন্নয়নে সোহাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সোহাগের মতো লাখ লাখ মানুষ বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্য, দূরপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকাতে বহু বাংলাদেশি চাকরি ও ব্যবসাসহ নানা ধরনের কাজ করছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংখ্যা ছিল ১১.৩৮ লক্ষ এবং তাদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ ছিল ২১,৬১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিদেশে কর্মরত এসর শ্রমিক, কর্মচারী ও পেশাজীবীরা তাদের অর্জিত অর্থের একটি অংশ পরিবারের কাছে পাঠায়। উদ্দীপকের সোহাগ অস্ট্রেলিয়া থেকে যে রেমিটেন্স পাঠায় সে অর্থ দিয়ে তার ছোট ভাই তার এলাকায় একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে এলাকার অনেক লোক প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে। এক্ষেত্রে সোহাগের পাঠানো রেমিটেন্স কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। এই অর্থ শুধু পরিবারের প্রয়োজন মেটায় না, জীবনযাত্রার মানও বৃদ্ধি করে। আর দেশ পায় মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা। এ অর্থের মাধ্যমে দেশে বিভিন্ন কলকারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও গার্মেন্টস গড়ে তোলা হচ্ছে। যেখানে দেশে দক্ষ-অদক্ষ, শিক্ষিত-অশিক্ষিত ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়োগ দিয়ে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায়, দেশের শিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত জনগণকে বিভিন্নমুখী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে প্রবাসীদের রেমিটেন্স প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। যেমনটা আমরা লক্ষ করি সোহাগের ক্ষেত্রে। তাই. দেশের আর্থসামাজিক ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সোহাগের মতো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের বেশির ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। আর কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উপায়। তাই বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ বলা হয়ে থাকে।
একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতিবছরে উৎপাদিত সকল চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার মোট অর্থমূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বলা হয়। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি বা সামগ্রিক আয় বোঝার জন্য ব্যবহৃত হয়।
মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) হলো একটি দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার অর্থমূল্যের যোগফল। এতে দেশের নাগরিকদের বিদেশে করা আয়ের যোগ হয় এবং বিদেশিদের দেশে করা আয় বাদ দেওয়া হয়।
মাথাপিছু আয় হলো একটি দেশের মোট জাতীয় আয়ের সাথে সে দেশের জনসংখ্যার ভাগফল। এটি দেশের নাগরিকদের গড় আয় বোঝায়। মাথাপিছু আয় বেশি হলে সাধারণত দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পরিচায়ক হয়।
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতের উন্নয়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি। এই লক্ষ্যে শিল্প, সেবা এবং কৃষিখাতের উন্নয়ন প্রয়োজন। এছাড়াও দারিদ্র্য দূরীকরণ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) সাধারণত একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শক্তি ও আয়ের পরিমাণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ এবং দেশের অর্থনীতির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!