মানুষ ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য যে সুবিধাদি রাষ্ট্রের নিকট থেকে পেয়ে থাকে সেগুলোকে বলা হয় অধিকার। এ অধিকার কিভাবে রক্ষা করার উপায়গুলো হলো-
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: অধিকারের অন্যতম রক্ষাকবচ হচ্ছেআইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের প্রাধান্য এবং আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান। রাষ্ট্রে যদি আইনের শাসন কার্যকরী হয় তাহলে প্রত্যেক নাগরিক তার নিজ নিজ অধিকার ভোগ করতে পারবে এবং অধিকার রক্ষিত হবে।
আইন প্রয়োগ: নাগরিকের অধিকার রক্ষার অন্যতম রক্ষাকবচ হচ্ছে আইন। কেননা আইন আছে বলেই নাগরিকরা তাদের অধিকার পায়। এ জন্য অধিকার রক্ষার অন্যতম একটি মাধ্যম হলো আইনের যথাযথ প্রয়োগ।
সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ: নাগরিকগণ যে সব মৌলিকঅধিকার ভোগ করবে, সেগুলো দেশের সংবিধানে সন্নিবেশ থাকবে।
কেননা সংবিধানে নাগরিক অধিকারগুলো উল্লেখ থাকলে সরকার এসব অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এজন্যই সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ অধিকার রক্ষার অন্যতম একটি মাধ্যম।
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা: গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনগণই সর্বময়
ক্ষমতার অধিকারী এবং জনগণ নিজেরাই তাদের অধিকার রক্ষা করে। এ জন্য গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা নাগরিক অধিকারের অন্যতম রক্ষাকবচ।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নাগরিক অধিকারের অন্যতম রক্ষাকবচ। কেননা রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যদি নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে পারে তাহলে প্রত্যেক নাগরিক যথাযথভাবে তাদের অধিকার ভোগ করতে পারবে।
জনসচেতনতা: অধিকারের অন্যতম রক্ষাকবচ হলো জনসচেতনতা। কারণ জনগণ যদি সচেতন না হয় তাহলে সে তার অধিকার জানতে পারবে না এবং অধিকার রক্ষিতও হবে না। উপরোক্ত বিষয়গুলোর সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই নাগরিকদের সচেতন করার মাধ্যমে অধিকার রক্ষা করা যায়।
Related Question
View Allপ্রত্যেক রাষ্ট্রই এর প্রদত্ত অধিকারসমূহ দ্বারা পরিচিতি লাভকরে"- উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক লাঙ্কি।
'মানুষ' হিসেবে প্রতিটি মানুষ যে অধিকার ভোগ করতে জন্মগতভাবে প্রত্যাশী তাই মানবাধিকার। মানুষের মূল্য ও মর্যাদার সাথে সংশ্লিষ্ট এ অধিকারগুলো মানুষ জন্মগতভাবে লাভ করে থাকে। অর্থাৎ আমরা মানুষ হিসেবে বাঁচতে প্রকৃতিগত ও সহজাত যে অধিকার প্রত্যাশা করি, তাই হলো মানবাধিকার। যেমন- জীবন ধারণের অধিকার, নিরাপত্তা লাভের অধিকার, নিষ্ঠুরতার শিকার না হওয়ার অধিকার, ন্যায়বিচার লাভের অধিকার ইত্যাদি।
উদ্দীপকে অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এগুলোর পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কথা বলা হয়েছে।
অধিকার ও কর্তব্য নাগরিকতার দুটি দিক। নাগরিকদের যেমন অধিকার আছে, তেমনি কর্তব্যও পালন করতে হয়। অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর পরিপূরক। এ দুটি যেন একই মুদ্রার দুটি দিকের ন্যায়। সামাজিক সচেতনতা থেকে এদের সৃষ্টি এবং সমাজের মধ্যেই এরা অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে। নাগরিকগণ নিজ নিজ অধিকারের বিনিময়ে রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করে থাকে। এজন্যই লাস্কি বলেন, "আমার নিরাপদে থাকার অধিকার থাকলে অন্যের কর্তব্য হলো আমাকে অন্যায়ভাবে আক্রমণ না করা।" অধিকার বলতে যেমন কতকগুলো শর্তকে বুঝানো হয়, তেমনি তা পালনও দায়িত্ব। যেমন-ভোটদানের অধিকার বলতে ভোটাধিকার প্রয়োগের দায়িত্বকেও বোঝায়। কারও অধিকার বলতে যেমন তার কর্তব্যকেও বোঝায়, তেননি একজনের অধিকার বলতে অন্যের কর্তব্যকেও বোঝানো হয়। আমার সম্পত্তির ভোগের অধিকার আছে, এর অর্থ অন্যের সম্পত্তিতে অন্যায় হস্তক্ষেপ না করাও আমার দায়িত্ব।
কারও অধিকার বলতে যেমন তার কর্তব্যকে বোঝায়, তেমনি একজনের অধিকার বলতে অন্যের কর্তব্যকে বোঝায়। একজনের অধিকার ভোগ করা অন্যের কর্তব্য পালনের ওপর নির্ভরশীল। এজন্যই বলা হয়, অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত। যেমন- আমার বেঁচে থাকার যদি অধিকার থেকে থাকে, তবে আমার কর্তব্য হলো
অন্যের বেঁচে থাকার পথে কোনো বাধার সৃষ্টি না করা। অনুরূপভাবে অন্যের কর্তব্যও হলো আমাকে হত্যা না করা। অধিকার ও কর্তব্য একটি ছাড়া অন্যটি কল্পনা করা যায় না। সমাজের একজনের অধিকারের পরিধি অন্য সকলের কর্তব্যবোধ দ্বারা সীমাবদ্ধ। কারণ অধিকার যদি অবাধ ও সীমাহীন হয় তবে এ থেকে স্বেচ্ছাচারিতার জন্ম হবে। এতে সবল ব্যক্তি অধিকার ভোগ করবে; কিন্তু দুর্বল তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
রাষ্ট্র নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে। বিনিময়ে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করবে। নাগরিকের যা দায়িত্ব রাষ্ট্রের তা অধিকার আর রাষ্ট্রের যা দায়িত্ব নাগরিকের তা অধিকার। রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার উপভোগের নিশ্চয়তা দেয়। ফলে রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হয়। অর্থাৎ বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্য নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। কার্ল মার্কস বলেছেন, "কর্তব্য ছাড়া কোনো অধিকার নেই আর অধিকার ছাড়া কোনো কর্তব্য নেই।” সুতরাং বলা যায়, অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত থাকে
বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়
সাধারণভাবে যেকোনো বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে জানার জন বিবরণকে তথ্য বলা হয়। তথ্য অধিকার আইনে তথ্যকে সুনির্দিষ্টভাে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো কর্তৃপক্ষের গঠন কাঠামো ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত যে কোনো স্মারক, বই, নকশ মানচিত্র, চুক্তি, তথ্য- উপাত্ত, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, দলিল, আলোকচিত্র অডিও, ভিডিও, যান্ত্রিকভাবে পঠনযোগ্য দলিলাদি এবং বৈশিষ্ট নির্বিশেষে যেকোনো তথ্যবহ বস্তু ইত্যাদিকে তথ্য বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!