Related Question
View Allবাস থেকে নামতেই বিরাট শহরের বৈচিত্রা দোখ অনেকটাই ভয় পেয়ে গেল শামীম। এখানেই তাকে থাকতে হবে। আলমরে ভাবছিল সে। হঠাৎ একটা রিকসা এসে থামলো তার পাশে। সে অবাক হয়ে দেখল একজন ভদ্রলোক তার দিকেই তাকিয়ে আছে। রিকসা থেকে নামলেন লোকটা।
তোমার বাড়ি নবাবগঞ্জ না?
জি না তো।
ও স্যরি। চেনা চেনা লাগছিল।
বলেই হনহনিয়ে চলে গেলো লোকটা। হোঁচট খেলো শামীম- কী-রে বাবা। ফুটপাথের দোকানে দাঁড়িয়ে একটা কলা আর এক কাপ চা খেলো সে। দাম মেটাতে পকেটে হাত দিতেই দেখলো মানিব্যাগটা নেই। কী রে বাবা। আবার হোঁচট খেলো সে। শামীদের বাড়িতে বৃদ্ধ মা আর কৃষক বড়ো ভাই। সে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে আর পড়াশুনা করতে পারেনি। তিন বছর বেকার থেকে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছে। এখানে অনেক কাজের সুযোগ। যা হয় একটা কাজের খোঁজে। সে চায়ের দোকানিকে ঘটনা খুলে বাল জানালো-
পরে একদিন আপনার পয়সা পরিশোধ করব।
দোকানি কটমট করে তাকালেন
আইচ্ছা- যান গা।
অপমানবোধে কষ্ট হলো শামীমের। কিন্তু কী আর করা। তার পকেটে কোনো টাকাকড়ি নেই। সন্ধ্যা নেমে আসছে। ক্ষিদে পেয়েছে। এখন সে কী খাবে? কোথায় যাবে। হাঁটতে হাঁটতে কিছুটা এগুলো। ভাবছিল কোনো একটা দোকানে সমস্যার কথা বলে কিছু খাবে। এরই মধ্যে খেয়াল হলো ঐ চায়ের দোকানে সে তার ব্যাগটা ফেলে এসেছে। হনহনিয়ে সেখানটায় গিয়ে হতাশ হতে হলো তাকে। ঐ দোকানিকে তাকিয়ে থাকতে দেখেই শামীম জিজ্ঞেস করলো-
ভাই, একটা কালো ব্যাগ ফেলে গেছি এখানটায়। কিছু বলতে পারবেন?
একবার কইলেন পকেটে টাকা নাইক্যা। কইলাম আচ্ছা যান গা। এখন কইতাছেন ব্যাগ নাইক্যা। বাড়ি কোনখানে মিয়া।
শামীম হোঁচট খেলো আবার।
কিন্তু সেতো সহজে হার মানবে না। এই শহর বহু লোককে টিকে থাকার পথ দেখায়। সে বড়ো আশা করে এসেছে এখানে। শামীম ঠিক করলো আজ রাতে আর তার খাওয়া হবে না। আনমনে হাঁটতে হাঁটতে সেই জায়গাটায় গিয়ে দাঁড়ালো। যেখানটায় সে নেমেছে। ভাবছে, ঐখানটায়, ঐযে পেট্রোল পাম্পের ওখানে ফাঁকা জায়গাটায় বসে ঝিমিয়ে রাতটা কাটাবে। তারপর সকাল হলে দেখা যাবে বাঁ
করা যায়।
হঠাৎ সে দেখে সে-ই ভদ্রলোক। যে ওকে রিকসা থেকে দেখে নেমে এসেছিলেন। শামীম তার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টা করলো। তার দিকে এগিয়ে গেলো বড়ো প্রত্যাশা নিয়ে। লোকটা শামীমকে কিছু বলার আগেই শামীম বলল-
ভাইজান।
আপনি যে জিজ্ঞাসা করেছিলেন আমার বাড়ি নবাবগঞ্জ কি না, আমি মিথ্যে কথা বলেছিলাম।
কেন?
বলো-
ভয়ে ভাইজান। ভয় পেয়েছিলাম।
লোকটি অবাক হয়ে শামীমের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। তিনি কিছু বলবেন- শামীম সেই আশায় কান খাড়া করে একইভাবে তার দিকে তাকিয়ে থাকল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!