ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের নাম দিয়েছিলেন বুলগাকপুর।
শায়েস্তা খান তার শাসন আমলে বিভিন্ন জনহিতকর কাজের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন।
তার সময়ে সাম্রাজ্যের সর্বত্র অসংখ্য সরাইখানা, রাস্তা ও সেতু নির্মিত হয়েছিল। দেশের অর্থনীতি ও কৃষিক্ষেত্রে তিনি অভাবিত সমৃদ্ধি এনেছিলেন। শায়েস্তা খান তার জনকল্যাণকর শাসনকার্যের জন্য শুধু বাংলা নয়, বরং সমগ্র ভারতবর্ষেই খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তার সময়ে দ্রব্যমূল্য এত কম ছিল যে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। শায়েস্তা খানের আমলে বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূলে ছিল শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার। এসময় বাংলায় স্থাপত্য শিল্পেরও ব্যাপক বিকাশ ঘটে।
উদ্দীপকের মামুন খানের কর্মকাণ্ড তুর্কি সেনানায়ক ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির সাথে সংগতিপূর্ণ।
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি বাংলায় সেন শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন। বখতিয়ার খলজি ছিলেন জাতিতে তুর্কি এবং আফগানিস্তানের গরমশিরের অধিবাসী। গজনিতে শিহাবউদ্দিন ঘোরির সৈন্য বিভাগে চাকরিপ্রার্থী হয়ে তিনি ব্যর্থ হন। অতি লম্বা হাত ও কুৎসিত চেহারার অধিকারী ছিলেন বলে বখতিয়ার বিভিন্ন স্থানে ঘুরেও চাকরি পাচ্ছিলেন না। একসময় তিনি বদাউনে যান এবং সেখানকার শাসনকর্তা মালিক হিজবরউদ্দিন তাকে মাসিক বেতনে সৈন্য বিভাগে নিযুক্ত করেন। তবে অল্পকাল পরেই তিনি বদাউন ত্যাগ করে অযোধ্যা যান। সেখানকার শাসনকর্তা হুসামউদ্দিন বখতিয়ারের সাহস ও বুদ্ধিমত্তায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে দুটি পরগনার জায়গির দান করেন। বখতিয়ার তখন থেকে অল্পসংখ্যক সৈন্য সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হিন্দু রাজ্য আক্রমণ ও লুণ্ঠন করতে শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি নদীয়ায় আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়ে বাংলা জয় করেন। বলা হয়, তিনি এত দ্রুত অগ্রসর হয়েছিলেন যে নদীয়া জয়ের সময় তার সঙ্গে মাত্র ১৭ জন সৈন্য ছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন খান ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে এক শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন এক শাসনের সূচনা করেন। তিনি ছিলেন জাতিতে তুর্কি। বখতিয়ার খলজির মতই শারীরিক গঠন আকর্ষণীয় না হলেও কর্মকুশলতার বলে তিনি নতুন শাসনের সূচনা করেন।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে তাই বলা যায়, মামুন খানের কর্মকাণ্ড মধ্যযুগের বাংলার শাসক বখতিয়ার খলজির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'উক্ত শাসক তথা ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি বাংলায় সর্বপ্রথম নিজ ধর্মের শাসন বা মুসলিম শাসন কায়েম করেন'- এ বক্তব্যের পক্ষেই আমার অবস্থান।
শিহাবউদ্দিন ঘোরি ভারতবর্ষে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করলেও তা উত্তর ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এ সময় বাংলার শাসন ক্ষমতায় ছিলেন সেন বংশের শাসকরা। তখন দূরত্ব, দুর্গমতা এবং বাংলার শাসকদের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে এখানে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে ১২০৪ সালে কুতুবউদ্দিন আইবেকের সেনাপতি বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করে যে শাসন প্রতিষ্ঠা করেন, তা-ই ছিল বাংলায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম মুসলিম শাসন। সমকালীন ইতিহাসবিদ মিনহাজ উস সিরাজ রচিত 'তবকাত-ই-নাসিরী' গ্রন্থও এ তথ্যকে সমর্থন করে। বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের আগেই অবশ্য বঙ্গভূমিতে আরব বণিক, ইসলাম প্রচারক ও সুফি সাধকদের আগমন ঘটেছিল। তাদের মাধ্যমে এ অঞ্চলে ইসলামের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। তবে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয় বখতিয়ার খলজির মাধ্যমেই। তিনি বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাংশে দুর্বল হয়ে পড়া সেন শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজির বঙ্গ বিজয়ের পূর্বে এ অঞ্চলে ইসলামের আগমন ঘটলেও তিনিই সর্বপ্রথম বাংলায় মুসলিম শাসন কায়েম করেন।
Related Question
View Allরাজা গণেশ দিনাজপুরের ভাতুলিয়া অঞ্চলের রাজা ছিলেন।
ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলাকে একত্রিত করে এর প্রকৃত স্বাধীনতা সূচনা করেন। তাই তাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রবক্তা বলা হয়।
ইলিয়াস শাহ ফিরোজাবাদের সিংহাসনে আরোহণের মাধ্যমে উত্তর ও উত্তর পশ্চিম বাংলার অধিপতি হন। তারপর তিনি সোনারগাঁও, সাতগাঁও, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম ইত্যাদি জয় করে বৃহত্তর বাংলার সৃষ্টি করেছিলেন। এ সময় থেকেই বাংলার সকল অঞ্চলের অধিবাসী 'বাঙালি' বলে পরিচিত হয়। আর এ কারণেই ইলিয়াস শাহকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা বলা হয়।
উদ্দীপকে বিজয়ী সেনাপতির যুদ্ধ কৌশলের প্রতিফলন পাঠ্যবইয়ের ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির কর্মে প্রতিফলিত হয়েছে।
বখতিয়ার খলজি বিহার বিজয় করার পর নদীয়া আক্রমণ করার মনোস্থির করেন। রাজা লক্ষণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন। বিহার হতে বাংলায় প্রবেশ করতে হলে তেলিয়াগড় ও শিকড়িগড় এই দুই গিরিপথ দিয়ে আসতে হতো। কিন্তু এ গিরিপথ দুটি সুরক্ষিত থাকায় বখতিয়ার খলজি এ পথে না এসে ঝাড়খণ্ডের অরণ্যময় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়াতে তার সৈন্যদল খণ্ড খণ্ড ভাবে অগ্রসর হয়। মাত্র ১৭/১৮ জন সৈনিক নিয়ে বখতিয়ার খলজি মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া বিজয় করেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, রোমান যোদ্ধারা একইভাবে উপদলে বিভক্ত হয়ে জঙ্গল পথে বিপক্ষদলের প্রাসাদ আক্রমণের পরিকল্পনা করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বিজয়ী সেনাপতির কৌশলের প্রতিফলন পাঠ্যবইয়ের বখতিয়ার খলজির যুদ্ধকৌশলে প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বখতিয়ার খলজির যুদ্ধকৌশল প্রতিফলিত হয়েছে। ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি প্রথম জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও ভাগ্য ও কর্মশক্তির সংমিশ্রণ তাকে সফলতা এনে দেয় বলে আমি মনে করি।
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশির বা আধুনিক দশত-ই-মার্গের অধিবাসী ছিলেন। তিনি ১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দে নিজ জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে জীবিকার অন্বেষণে গজনিতে আসেন। এখানে তিনি শিহাবউদ্দিন ঘোরীর সৈন্য বিভাগে চাকরিপ্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হন। গজনিতে ব্যর্থ হয়ে তিনি দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের দরবারে গিয়েও চাকরি পেতে ব্যর্থ হন। এরপর বদাউনের শাসনকর্তা মালিক হিজবরউদ্দিন তাকে মাসিক বেতনে সৈন্য বিভাগে নিযুক্ত করেন। কিন্তু উচ্চাভিলাষী বখতিয়ার এ ধরনের সামান্য বেতনে সন্তুষ্ট না হয়ে বদাউন ত্যাগ করে অযোধ্যায় যান। সেখানকার শাসনকর্তা তার সাহস ও বুদ্ধিমত্তায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ভাগবত ও ভিউলি নামক দুটি পরগনার জায়গীর দান করেন। বিহার জয় করে বখতিয়ার খলজি অনেক ধনরত্নের মালিক হন। এরপর তিনি রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া দখল করেন। তারপর তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে রাজধানী স্থাপন করেন।
তাই বলা যায়, প্রাথমিক জীবনে ব্যর্থ হলেও বখতিয়ার খলজি ভাগ্য ও কর্মের সমন্বয়ে পরবর্তীতে সফলতা লাভ করেন।
বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন।
বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হওয়াতে বাংলাকে 'বুলগাকপুর' বলা হয়েছিল।
বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনা থেকে অর্থাৎ ১২০৪ সাল থেকে ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত সময়কাল ছিল খুবই গোলযোগপূর্ণ। বাংলার শাসকগণ দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীন হতে চাইলে দিল্লির আক্রমণের মুখে তা ব্যর্থ হয়। ফলে মুসলমান শাসনের এ সময় ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলাময়। তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাকে 'বুলগাকপুর' অর্থাৎ বিদ্রোহের নগরী বলে আখ্যায়িত করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!