যে মানসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চেতনাকে একাধিক বিষয় থেকে সরিয়ে নিয়ে এসে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে সীমাবদ্ধ করা হয়, তাকে মনোযোগ বলে।
মনোযোগের কেন্দ্রপ্রান্ত হলো অনেক প্রান্তীয় চেতনা বা উদ্দীপকের মধ্য থেকে সর্বাধিক শক্তিশালী উদ্দীপকটির মনোযোগের কেন্দ্রে প্রবেশ করার সক্ষমতা।
প্রতিনিয়তই অসংখ্য উদ্দীপক আমাদের চেতনায় আঘাত করে। কিন্তু সব উদ্দীপকের প্রতি আমরা সমানভাবে প্রতিক্রিয়া করি না। আমরা প্রতিক্রিয়া না করলেও সকল উদ্দীপকই আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রে আসার চেষ্টা করে। তবে কেবল সেই উদ্দীপকটিই কেন্দ্রে আসতে সক্ষম হবে যেটির প্রতি আমরা গভীর মনোযোগ প্রদান করি; যেটি তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আমাদের মনোযোগকে সর্বাধিক আকর্ষণ করে থাকে।
উদ্দীপকে মালেকের স্থানীয় ছেলেমেয়েদের চিনতে পারা প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ।
প্রেষণা শিক্ষণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু এমন অনেক শিক্ষণ রয়েছে যেখানে প্রেষণার অনুপস্থিতিতেও শিক্ষণ সম্ভব হয়ে থাকে। প্রাণীর কোনোরূপ প্রেষণা ব্যতীত এ ধরনের শিক্ষণকে প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ বলে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ মোহাম্মদপুর থেকে নিউমার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে ঢাকা কলেজ দেখতে পেল। পরবর্তীতে তার বন্ধুর চাকরির পরীক্ষার কেন্দ্র ঢাকা কলেজে পড়লে, সে সহজেই তার বন্ধুকে কলেজের লোকেশন বলে দিতে পারে। এখানে ব্যক্তির কোনোরূপ আগ্রহ বা প্রেষণা ছাড়াই শিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। একে প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ বলে। প্রকৃতপক্ষে, প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ হলো কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে এমন নিষ্ক্রিয় শিক্ষণ যা উদ্দেশ্যবিহীনভাবে সম্পন্ন হয়।
উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই, মালেক একেবারে প্রথম ঢাকায় এসেছে। সে প্রতিদিন কলেজে যাওয়া-আসার পথে বাড়ির সামনের খেলার মাঠে অনেক ছেলেমেয়েকে খেলা করতে দেখে। সে ধীরে ধীরে একপর্যায়ে অনেকের নাম ধরে চিনে ফেলে। তার এই চিনতে পারার পেছনে কোনোরূপ প্রেষণা কাজ করেনি, বরং স্বাভাবিক নিয়মেই সে এগুলো শিখেছে। এটাই প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ। কেননা, প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে প্রাণী কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া ছাড়াই শিখে থাকে। তাই উদ্দীপকে মালেকের স্থানীয় ছেলেমেয়েদের চিনতে পারাটাও নিঃসন্দেহে প্রাসঙ্গিক শিক্ষণেরই উদাহরণ।
উদ্দীপকে মালেকের স্থানীয় ছেলেমেয়েদের চিনতে পারা এবং রুমির ঘুড়ি উদ্ধার প্রক্রিয়া যথাক্রমে প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ এবং পরিজ্ঞানমূলক শিক্ষণের উদাহরণ।
যেকোনো সমস্যাসংকুল ঘটনার উপাদানগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক অনুধাবন করে সমস্যা সমাধানকরণকে পরিজ্ঞান বলে। সংগঠনবাদী মনোবিজ্ঞানী কোহলার এই মতবাদের প্রবর্তক। এ ধরনের শিক্ষণে প্রাণী কোনো কিছু শেখার সময় অন্ধের মতো বারবার ভুল সংশোধনের বদলে গোটা পরিবেশের তাৎপর্য সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি লাভের মাধ্যমে নতুনকে আয়ত্ত করে।
উদ্দীপকে মালেকের স্থানীয় ছেলেমেয়েদের চিনতে পারা প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ হলেও রুমির ঘুড়ি উদ্ধার প্রক্রিয়া পরিজ্ঞানমূলক শিক্ষণের উদাহরণ। কেননা, পরিজ্ঞানমূলক শিক্ষণের শিক্ষার্থী- উদ্বুদ্ধ সমস্যার জরিপ, পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান বা পর্যালোচনা করে উপযুক্ত কর্মপন্থা গ্রহণে সচেষ্ট হয়। এছাড়া প্রাথমিক কর্মপন্থা ব্যর্থ হলে সে অবিলম্বে ও দ্রুততার সাথে ভিন্ন কর্মপন্থা গ্রহণ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে থাকে। উদ্দীপকে রুমির ক্ষেত্রে লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই সে প্রথমে একটি বাঁশ দিয়ে কার্নিশে আটকে যাওয়া ঘুড়ির নাগাল পায় না। সে বিষয়টি নিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ চিন্তা করে, নতুন একটি বাঁশ পূর্বের বাঁশের সাথে জোড়া লাগিয়ে ঘুড়িটি উদ্ধার করে। অবশ্য এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো রুমি পূর্বে কোথাও না কোথাও এরূপ লাঠি বা বাঁশ জোড়া দিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা সঞ্চার করেছে। তাই এখানে মালেক ও রুমির ক্ষেত্রে শিক্ষণ পদ্ধতির সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সম্পন্ন হলেও মালেক ও রুমির ক্ষেত্রে সংগঠিত হওয়া শিক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ উভয় ধরনের শিক্ষণ প্রক্রিয়া ব্যক্তিকে নতুন অভিজ্ঞতা ও সমস্যা মোকাবিলায় বিশেষভাবে সহযোগিতা করে থাকে।
Related Question
View Allখুব সহজভাবে বলতে গেলে স্মৃতি হলো তথ্য সংরক্ষণের এমন ক্ষমতা যা পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা যায়।
বলবৃদ্ধি শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে বলে তাকে শিক্ষণের অন্যতম উপাদান বলা হয়। বর্ধন ক্রিয়া বা বলবৃদ্ধি হলো এমন কোনো শর্ত বা অবস্থা যা সংযোগকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এর ফলে উদ্দীপক-উদ্দীপক সংযোগ বা উদ্দীপক প্রতিক্রিয়া সংযোগ প্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী হয়ে থাকে। ক্ষুধার্ত প্রাণী সঠিক প্রতিক্রিয়া করার পর যদি খাবার না পায় তাহলে সে এই প্রতিক্রিয়াটি আর শিখবে না। তবে বলবর্ধক পেলে উক্ত প্রতিক্রিয়াটি সে আরও বেশি করবে। তাই প্রেষণার উপযুক্ত বর্ধনক্রিয়া শিক্ষণের একটি প্রয়োজনীয় উপাদান।
উদ্দীপকের মায়ার ক্ষেত্রে শিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত 'সংযোগ বা অনুষজ্ঞঙ্গ' ফুটে উঠেছে।
শিক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বদাই কতকগুলো সাধারণ শর্ত বা উপাদান উপস্থিত থাকে। এসব শর্তসমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সংযোগ বা অনুষঙ্গ। প্রকৃতপক্ষে কোনো স্থান বা কালে দুটি ঘটনার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হওয়াকে সংযোগ বা অনুষঙ্গ বলে। দুটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ঘটনা পাশাপাশি ঘটলেও শিক্ষণ তরান্বিত হয়। দুই ধরনের সংযোগ রয়েছে। যথা-উদ্দীপক সংযোগ; যেমন- আগুন ও ধোঁয়া এ দুটি উদ্দীপক আমরা একইসাথে প্রত্যক্ষ করি। দ্বিতীয়টি উদ্দীপক প্রতিক্রিয়া সংযোগ যেমন-রাস্তার গাড়ি চালাতে গিয়ে লাল বাতি গাড়ি থামানো এবং সবুজ বাতি দেখে গাড়ি চালানো শুরু করা। এভাবে সংযোগ বা অনুষঙ্গ শিক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই, একদিন মায়া ঘুম থেকে উঠে তার মাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না। পরবর্তীতে জুতার সেলফে মায়ের জুতার অনুপস্থিতি দেখে সে বুঝতে পারে তার অফিসে গেছেন। এখানে দুটো ঘটনার মধ্যে সংযোগ বা অনুষঙ্গ স্থাপিত হয়েছে। প্রথমত, মায়ের অনুপস্থিতি এবং দ্বিতীয়ত জুতার সেলফে জুতা না থাকা এভাবে কোনো স্থানে বা কালে দুটি ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক বা যোগাযোগ তৈরি হওয়াকে সংযোগ বা অনুষঙ্গ বলে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মায়ার ক্ষেত্রে শিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুষঙ্গ ফুটে উঠেছে।
হ্যাঁ। আমেনা বেগমের পরামর্শ ছায়ার মতো অন্য শিক্ষার্থীদের স্মৃতিকে উন্নত করতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
আমরা যা শিখি আর যা কিছু ভুলে যাই এ দুয়ের পার্থক্য হলো স্মৃতি। তবে আমাদের সবার স্মৃতিশক্তি এক রকম নয়। এক রকম না হলেও স্মৃতির বিভিন্ন উপাদান যথা: শিক্ষণ, সংরক্ষণ, পুনরুদ্রেক, প্রত্যভিজ্ঞা প্রভৃতিকে অনুশীলনের মাধ্যমে স্মৃতিকে উন্নত করা যায়। স্মৃতিকে উন্নত করার কিছু কৌশল রয়েছে যার মধ্যে আবৃত্তি, যুক্তিনিষ্ঠ শিক্ষণ, সামগ্রিক শিক্ষণ, যথাযথ অনুষঙ্গ, সময়ের ব্যবধানে পুনরাবৃত্তি, স্মৃতি, সংকেত, গভীর মনোযোগ, তাল ও ছন্দ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। কোনো পাঠ মুখস্থ করার সময়ে একই সঙ্গে অনেকবার চেষ্টা না করে সময়ের ব্যবধানে পুনরাবৃত্তি করলে পাঠ-অভ্যাস দ্রুত হয় এবং দীর্ঘদিন মনে রাখা সম্ভব হয়। কোনো পাঠ্যবিষয়ের মধ্যে তাল ও ছন্দের উপস্থিতি থাকলে তার সাহায্যে শিখলেও শেখাটি দ্রুত হয়।
প্রদত্ত উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, ছায়া সহজে পড়া মনে রাখতে পারে না। তার মা আমেনা বেগম তাকে একই বিষয় বার বার পড়া, ছন্দের মাধ্যমে মনে রাখা, শিক্ষণীয় বিষয়গুলোর মাঝে মাঝে পুনরাবৃত্তি এ ধরনের কিছু নিয়ম শিখিয়ে দিয়েছিলেন। বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা গেল ছায়া খুবই ভালো ফলাফল করেছে। এ থেকে বোঝা যায় ছায়ার স্মৃতির উন্নতি হয়েছে। কেননা, সে পাঠ্যবিষয় মনে রাখতে পেরেছে বলেই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পেরেছে।
পরিশেষে উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আমনো বেগমের পরামর্শ ছায়ার মতো অন্য শিক্ষার্থীদের স্মৃতিকে উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে।
অন্তর্দৃষ্টিমূলক শিক্ষণ হলো কোনো সমস্যা সমাধানে ক্ষেত্রে হঠাৎ করে সঠিক সমাধানের আবিষ্কার, যা প্রাথমিকভাবে প্রচেষ্টা ও ভুল সংশোধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
বলবর্ধক উদ্দীপক বা উদ্দীপক প্রতিক্রিয়া সংযোগ প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে শিক্ষণকে ত্বরান্বিত করে।
বলবৃদ্ধি বা বলবর্ধক শিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বা অবস্থা যা সংযোগকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। সঠিক প্রতিক্রিয়া করার পরও যদি ক্ষুধার্ত প্রাণী খাবার না পায় তাহলে সে এই প্রতিক্রিয়াটি আর করবে না। আবার বলবর্ধক পেলে প্রাণীর সঠিকভাবে ওই প্রতিক্রিয়া পুনরায় করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। এভাবে সংযোগকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বলবর্ধক শিক্ষণকে ত্বরান্বিত করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!