আত্মা থেকে আত্মীয় শব্দের উৎপত্তি। যার সাথে আত্মার সম্পর্ক আছে তিনিই আত্মীয় বা আপন।
আল্লাহ তায়ালা পিতামাতার পর আত্মীয়স্বজনের প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, "পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনের সাথে উত্তম ব্যবহার কর।" (সূরা নিসা : ৩৬)
তিনি আরও বলেন, "তুমি আত্মীয়স্বজনের হক দিয়ে দাও।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ৩৬) উপরিউক্ত কুরআনের বাণীর আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, ইহকালীন ও পরকালীন সফলতার জন্য আত্মীয়স্বজনের সাথে সদাচরণ করা আমাদের ইমানী দায়িত্ব।
ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মীয়স্বজনের প্রতি মিজান সাহেবের করণীয় নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. সদ্ব্যবহার করা: আত্মীয়স্বজনের প্রতি সদ্ব্যবহার করা ইসলামি শরিয়তের বিধান। কাজেই মিজান সাহেব তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে।
2 অধিকার আদায় করা: মিজান সাহেব আত্মীয়স্বজনের প্রাপ্য হক বা অধিকার প্রদান করবে।
৩. সাহায্য প্রদান করা: মিজান সাহেব আত্মীয়দের বিপদে-আপদে সাহায্য-সহযোগিতা করবে।
৪. সুসম্পর্ক বজায় রাখা: মিজান সাহেব আত্মীয়স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক রাখবে।
৫. কষ্ট না দেওয়া: মিজান সাহেব আত্মীয়স্বজনকে কোনোভাবেই কষ্ট দেবে না।
আত্মীয়স্বজনের সাথে ঝগড়া-বিবাদ ও হিংসা-বিদ্বেষ করা অত্যন্ত নিন্দনীয় অপরাধ। যারা এ ধরনের গর্হিত কাজে লিপ্ত হয়ে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতে চান, আল্লাহ তাদের আদৌ ভালোবাসেন না। তারা আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত থাকে এবং পরকালেও জান্নাতের পরম শান্তি, থেকে বঞ্চিত হবে। এ সম্পর্কে মহানবি (স.) বলেছেন, "আত্মীয়তার রক্ত সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।"
আত্মীয়স্বজনের সদ্ব্যবহারের বিনিময়ে শুধু সদ্ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়; বরং কোনো আত্মীয় যদি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নও করে তথাপি তার সাথে সদ্ব্যবহার করা বা সর্বোত্তম সম্পর্ক বজায় রাখা কর্তব্য। হাদিসে আছে- এক ব্যক্তি রাসুল (স.)-এর কাছে এসে অভিযোগ করল যে, সে তার সকল আত্মীয়ের সকল অধিকার আদায় করে। কিন্তু তারা আদায় করে না। সে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করে আর তারা তার সাথে দুর্ব্যবহার করে। সে তাদের সাথে ভদ্র ব্যবহার করে। কিন্তু তারা তার সাথে অভদ্র ব্যবহার করে। একথা শুনে রাসুল (স.) বলেছেন, "তুমি যেরূপ বর্ণনা করলে তুমি যদি সেরূপ হয়ে থাক, তবে যেন তাদের মুখমণ্ডলে কালিমা লেপন করছ এবং আল্লাহ তায়ালা সবসময় তোমারই সাহায্য করতে থাকবেন যে পর্যন্ত তুমি এ অবস্থার ওপর কায়েম থাকবে।"
আত্মীয়দের সাথে মনোমালিন্য, কপটতা, অসদ্ব্যবহার করা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি কঠিন গুনাহ ও জঘন্য পাপ। এরূপ দুর্ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পর্ক ছিন্ন করাকে বলে 'কিয়ে রেহমী'। এ সম্পর্কে রাসুল (স.) বলেন, “যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করল, সে যেন আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল।"
Related Question
View Allসিদক-এর অর্থ হলো- সত্যবাদিতা, সততা, সত্য কথা বলা, সত্য সাক্ষ্য দেওয়া ইত্যাদি।
মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে যেসব উত্তম আচার-ব্যবহার, চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ পায় সেসবের সমষ্টিকে আখলাকে হামিদা বা উত্তম চরিত্র বলা হয়।
ফারজানার কর্মকাণ্ডে গিবত প্রকাশ পেয়েছে। কারণ সে তার বন্ধবী কাকলির বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু দোষত্রুটি অন্য সহকর্মীদের নিকট বলে বেড়ায়।
গিবত একটি সামাজিক অনাচার। কারও অগোচরে তার দোষত্রুটি অন্যের কাছে প্রকাশকে গিবত বলে। একে পরনিন্দাও বলা যায়। গিবত একটি ঘৃণিত ও জঘন্য কাজ। এটি কবিরা গুনাহ। এ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। রাসুল (স.) বলে, 'গিবত কী তা কি তোমরা জান?' লোকেরা উত্তরে বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। রাসুল (স.) বললেন, গিবত হলো তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে তোমার এমন কথা বলা যা সে অপছন্দ করে। জিজ্ঞাসা করা হলো, আমি যা বলি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, এটাও কি গিবত হবে? রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন, 'তুমি যা বলো তা যদি তার মধ্যে থাকে তাহলেই গিবত হবে। আর তুমি যা বলো তা যদি তার মধ্যে না থাকে, তবে তা হবে 'বুহতান' বা অপবাদ।' (মুসলিম)
গিবত একটি নিন্দনীয় কাজ। গিবতের মাধ্যমে মানুষে মানুষে ঘৃণা ও শত্রুতা সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে সমাজজীবনে ঝগড়া-ফাসাদসহ নানা অশান্তি সৃষ্টি হয়।
পবিত্র কুরআনুল করিমে গিবত করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে।
আল্লাহর বাণী : "তোমরা একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে, নিশ্চয়ই তা তোমরা অপছন্দ করবে।" (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২)
তাই ফারাজানার উচিত গিবত পরিহার করা এবং স্বাভাবিকভাবে কাকলির পদোন্নতিকে মেনে নেওয়া।
ফারজানা কাকলির দোষত্রুটি প্রকাশ করলে, হামিদা বেগম বলেন, "আপা, কোনো অবস্থাতেই কাকলি আপার অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে সমালোচনা করা ঠিক নয়।" হামিদা বেগমের এ বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষত্রুটি প্রকাশ করার নাম গিবত। গিবত করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এটি কবিরাহ গুনাহ। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “তোমরা একে অপরের গিবত করো না।" (সূরা আল 'হুজুরাত : ১২) গিবত একটি নিন্দনীয় কাজ। এর মাধ্যমে মানুষে মানুষে ঘৃণা ও শত্রুতা সৃষ্টি হয় এবং সমাজজীবনে ঝগড়া ফাসাদসহ নানা অশান্তি সৃষ্টি হয়। গিবত শোনাও পাপ, কেউ গিবত করলে 'তাকে এ জঘন্য কাজ হতে বিরত রাখা উচিত। আর এ কাজটিই হামিদা বেগম করেছেন। গিবত থেকে বিরত থাকলে কবিরাহ গুনাহ হতে বেঁচে থাকা যায়, অন্যের শত্রুতা হতে রক্ষা পাওয়া যায়। সর্বোপরি আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়।
সুতরাং সবার উচিত গিবত হতে নিজেকে রক্ষা করা এবং গিবত চর্চা প্রতিরোধে এগিয়ে আসা।
গিবত একটি সামাজিক অনাচার। কারও অগোচরে তার দোষত্রুটি অন্যের কাছে প্রকাশকে গিবত বলে।
আখলাকে হামিদাহ্ বা সচ্চরিত্র আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নিয়ামত। দুনিয়ায় আগত সকল নবি-রাসুলই উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। এছাড়াও পৃথিবীর স্মরণীয় ও বরণীয় মনীষিগণও উত্তম নৈতিক আদর্শ অনুশীলন করতেন। সচ্চরিত্রের মাধ্যমেই ইসলামের যাবতীয় সৌন্দর্য ফুটে ওে ওঠে। এছাড়া এর মাধ্যমে ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবন সুন্দর ও কল্যাণময় করা যায়। এজন্য আখলাকে হামিদাত্র বিশেষ প্রয়োজন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!