বুদ্ধি হলো ব্যক্তির সেই ক্ষমতা যা দ্বারা সে বাস্তবজগত সম্বন্ধে অবগত হতে পারে, বিভিন্ন ঘটনার সমন্বয় সাধন করতে পারে এবং সমস্যাজনিত পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হতে পারে।
প্রজন্মের পর থেকে যে বয়স গণনা করা হয় তাকে প্রকৃত বয়স বলা হয় এবং কেউ যে বয়সের উপযোগী প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম তা-ই হলো তার মানসিক বয়স। বুদ্ধ্যঙ্ক নির্ণয়ে মানসিক বয়স বিশেষ প্রয়োজন হয়, কেননা বুদ্ধ্যঙ্ক নির্ণয়ের জন্য ব্যক্তির মানসিক বয়সকে প্রকৃত বয়স দ্বারা ভাগ দিয়ে ১০০ দ্বারা গুণ করা হয়।
বুদ্ধ্যঙ্কের সূত্র হলো- বুদ্ধ্যঙ্ক = মানসিক বয়স/প্রকৃত বয়স ১০০
সুতরাং বলা যায়, মানসিক বয়স ছাড়া বুদ্ধ্যঙ্ক নির্ণয় মোটেই সম্ভব নয়। এজন্য বুদ্ধ্যঙ্ক নির্ণয়ে মানসিক বয়স প্রয়োজন।
রাখির ক্ষেত্রে ভাষাভিত্তিক বুদ্ধি অভীক্ষার কথা বলা হয়েছে।
যেসব বুদ্ধি অভীক্ষায় ভাষার ব্যবহার রয়েছে তাকে ভাষাভিত্তিক বুদ্ধি অভীক্ষা বলা হয়। এটা একটা ব্যক্তিভিত্তিক অভীক্ষা এবং যারা শিক্ষিত ও ভাষা ব্যবহারে পটু কেবল তাদের জন্যই এ অভীক্ষা প্রযোজ্য। এ অভীক্ষায় লিখিত বা মৌখিকভাবে প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করা হয়। অর্থাৎ ভাষাগত বুদ্ধি অভীক্ষার ক্ষেত্রে মূল উপজীব্য বিষয় হলো ভাষা বিনে-সিমোঁ অভীক্ষা কিংবা স্ট্যানফোর্ড-বিনে অভীক্ষা অথবা আমি আলফা অভীক্ষা হলো ভাষাভিত্তিক বুদ্ধি অভীক্ষা।
উদ্দীপকে রাখিকে সংখ্যার সাতটি সারি সামনের দিকে এবং সাতটি সারি পেছনের দিকে পুনরাবৃত্তি করতে বলা হয়। অর্থাৎ রাখির বুদ্ধি পরিমাপে ভাষাগত মানক ব্যবহার করা হয়েছে। তাকে কথিত ভাষার সাহায্যে অভীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়েছিল। সুতরাং বলা যায়, রাখির ক্ষেত্রে ভাষাভিত্তিক বুদ্ধি অভীক্ষার কথাই বলা হয়েছে।
হ্যাঁ, মিতা ও মিনার উপর আরোপিত অভীক্ষা একই যা কার্যসম্পাদনী অভীক্ষাকে নির্দেশ করে।
শিশু, নিরক্ষর কিংবা মূক ও বধির অর্থাৎ যারা ভাষার ব্যবহারে অসুবিধা বোধ করে অথবা যেসব বিদেশি অপরের ভাষা জানে না, তাদের জন্য ব্যবহার করা হয় কৃতি বা কর্মসম্পাদনী অভীক্ষা। ডিয়ার বর্ণের 'ফর্ম বোর্ড অভীক্ষা' আলেকজান্ডারের' 'পাস এলোং অভীক্ষা' 'ব্লক ডিজাইন অভীক্ষা' 'ছবি সম্পূর্ণকরণ অভীক্ষা' প্রভৃতি কৃতি বা কর্মসম্পাদনী অভীক্ষার উদাহরণ। অবাচনিক বুদ্ধি অভীক্ষায় নানা আকার ও রঙের কাঠের বা প্লাস্টিকের টুকরার সাহায্যে প্রদত্ত কোনো বিশেষ নকশার অনুকরণে নকশা তৈরি করতে হয়। 'প্রধানত দৈহিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা হয়-বলে এসব অবাচনিক বুদ্ধি অভীক্ষা কৃতি বা কর্মসম্পাদনী অভীক্ষা নামে পরিচিত। কর্মসম্পাদনী অভীক্ষায় সমস্যাটির সমাধানে বা প্রদত্ত নকশা গঠনের সাফল্য ও দ্রুততার নিরিখে অভীক্ষার্থীর বুদ্ধি পরিমাপ করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মনোবিজ্ঞানী মিতাকে লাল ও সাদা রঙের তৈরি বেশকিছু নকশাসম্বলিত কার্ড এবং আয়তাকার ও বর্গাকার কিছু গুটি দিলেন। এলোমেলো গুটিগুলোকে কার্ডের নকশা অনুযায়ী সাজাতে বললেন। এ অভীক্ষাটি কর্মসম্পাদনমূলক আলেকজান্ডার পাস এলং বুদ্ধি অভীক্ষাকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে মনোবিজ্ঞানী মিনাকে ছবিসম্বলিত বেশকিছু কার্ড দিলেন এবং এমনভাবে সাজাতে বললেন যেন একটি অর্থপূর্ণ গল্প হয়। এ অভীক্ষাটি ওয়েক্সলার এর কর্মসম্পাদনমূলক মানককেই নির্দেশ করে।
সুতরাং সার্বিক আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, মিতা. ও মিনার উপর আরোপিত উভয় অভীক্ষা হলো কার্যসম্পাদনমূলক অভীক্ষা।
Related Question
View Allমেধা হলো ব্যক্তির জ্ঞানগত মানসিক ক্রিয়াগুলোর একটি সমন্বিত বিশেষ মানসিক ক্ষমতা বা সামর্থ্য।
বংশগতসূত্রে প্রাপ্ত সম্ভাবনাকে বিকশিত করার জন্য যথোপযুক্ত পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বুদ্ধির ক্ষেত্রে পরিবেশের প্রভাব বিশেষভাবে দায়ী। অনুকূল পরিবেশ হিসেবে যদি শিশুকে বেড়ে ওঠার জন্য বাড়িতে সঠিক পরিবেশ, ভালো স্কুল এবং শিক্ষণ সুবিধা দেয়া যায়, তাহলে ফলাফলে দেখা যায় শিশুর বুদ্ধির বিকাশকে উৎসাহিত করে। এছাড়া পারিবারিক পরিবেশের আরো অনেক উপাদান যেমন- পিতামাতার শিক্ষা, পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা, পুষ্টি, বাড়ির অবস্থান ও সামাজিক পারিপার্শ্বিকতা ইত্যাদি বুদ্ধির বিকাশের সাথে জড়িত।
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত মানসিক ক্ষমতাটি হলো বুদ্ধি।
ডেভিড ওয়েক্সলারের মতে, “বুদ্ধি হচ্ছে ব্যক্তির এমন বহুমুখী ক্ষমতা যা দ্বারা ব্যক্তি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাজ করে, যুক্তিযুক্তভাবে চিন্তা করে এবং - পরিবেশের সাথে কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া করে।” সুতরাং বুদ্ধি ব্যক্তির এমন ক্ষমতা যার দ্বারা সে জগতের সব বিষয় সম্পর্কে অবহিত হতে পারে, বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে পারে এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে 'সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। বুদ্ধিকে বস্তুনিষ্ঠভাবে বিশ্লেষণ করলে যে বিষয়গুলো পাওয়া যায় তা হলো- উদ্দেশ্যের সাথে উপায়ের সামঞ্জস্যকরণ, বস্তুবিবর্জিত সাধারণ চিন্তার ক্ষমতা, নতুন পরিবেশে-মোকাবিলা করা এবং অতীত থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন। উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ শ্রেষ্ঠ মানসিক ক্ষমতা বলতে বুদ্ধিকেই বোঝানো হয়েছে।
মানুষের জীবনে বুদ্ধি একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। বুদ্ধির কমবেশি ব্যবহার ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। যার যত বেশি বুদ্ধি থাকবে জীবনে সে তত বেশি সাফল্য লাভ করতে পারবে। তাই বলা যায়, বুদ্ধি হলো কাজ বা আচরণের একটি গুণগত উৎকর্ষের সূচক।
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত রীমা ও সীমার বুদ্ধি পরিমাপে প্রয়োগকৃত অভীক্ষাগুলো হলো যথাক্রমে ব্যক্তিভিত্তিক বুদ্ধি অভীক্ষা এবং দলগত বুদ্ধি অভীক্ষা।
যেসব বুদ্ধি অভীক্ষার সাহায্যে কেবল একজন ব্যক্তির বুদ্ধি পরিমাপ করা যায়, সেসব অভীক্ষাকে ব্যক্তিভিত্তিক বুদ্ধি অভীক্ষা বলে। অন্যদিকে দলগত বুদ্ধি অভীক্ষার সাহায্যে একসাথে অনেক লোকের বুদ্ধি পরিমাপ করা যায়। এজন্য দলগত বুদ্ধি অভীক্ষায় সময় কম লাগে। অন্যদিকে ব্যক্তিগত বুদ্ধি অভীক্ষায় সময় বেশি লাগে। ব্যক্তিগত 'বুদ্ধি 'অভীক্ষায় অভীক্ষার্থীর সাথে অভীক্ষকের সরাসরি যোগাযোগ থাকে এবং ফলাফল বেশি নির্ভরযোগ্য। অন্যদিকে দলগত অভীক্ষায় অভীক্ষার্থীর সাথে অভীক্ষকের সরাসরি যোগাযোগ থাকে না এবং ব্যক্তিগত অভীক্ষার তুলনায় ফলাফল কম নির্ভরযোগ্য। এ অভীক্ষায় অভীক্ষকের পরিশ্রম ব্যক্তিগত অভীক্ষার তুলনায় কম হয়।
ব্যক্তিগত বুদ্ধি অভীক্ষায় অভীক্ষার্থী কোনো সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হলে অভীক্ষক তাকে সহযোগিতা করতে পারেন। কিন্তু দলগত অভীক্ষায় এরূপ ক্ষেত্রে অভীক্ষার্থীকে কোনো সহযোগিতা করা সম্ভব হয় না।
দলগত বুদ্ধি অভীক্ষায় নম্বর প্রদান করা সহজ। কিন্তু ব্যক্তিগত বুদ্ধি অভীক্ষায় নম্বর প্রদান করা কঠিন। দলগত বুদ্ধি অভীক্ষায় ব্যক্তিগত অভীক্ষার তুলনায় ব্যয় কম হয়। এ অভীক্ষায় অভীক্ষককে খুব দক্ষ না হলেও চলে। কিন্তু ব্যক্তিগত অভীক্ষায় অভীক্ষককে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে। ব্যক্তিগত বুদ্ধি অভীক্ষাসমূহের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত অভীক্ষা হলো স্ট্যানফোর্ড-বিনে বুদ্ধি অভীক্ষা এবং ওয়েক্সলার বুদ্ধি অভীক্ষা।
অন্যদিকে দলগত বুদ্ধি অভীক্ষাসমূহের মধ্যে আর্মি আলফা অভীক্ষা এবং. আমি বিটা অভীক্ষা উল্লেখযোগ্য।
পরিশেষে বলা যায়, বুদ্ধিকে বাইরে থেকে এককভাবে বস্তু বা পদার্থের মতো পরিমাপ করা যায় না। বুদ্ধি পরিমাপ করতে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কিছু অভীক্ষার প্রয়োজন।
'CA' এর পূর্ণরূপ হলো- Chronological Age.
বুদ্ধির ক্ষেত্রে আন্তঃব্যক্তিক পার্থক্যের কারণ বংশগত প্রভাব ও পরিবেশের প্রভাব।
প্রত্যেক ব্যক্তির বুদ্ধি এক রকম নয়। বুদ্ধির আন্তঃব্যক্তিক পার্থক্যে দু'ধরনের কারণ বা প্রভাব লক্ষ করা যায়। যথা- বংশগত প্রভাব ও 'পরিবেশের প্রভাব। পিতা-মাতা বা পূর্বপুরুষদের নিকট থেকে জন্মগতভাবে বুদ্ধির ওপর বংশগতির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। বুদ্ধিতে যেমন বংশগত প্রভাব পড়ে তেমনি আবার পরিবেশের প্রভাবও পরিলক্ষিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!