"মিল থাকলেও উদ্দীপকের বিষয়বস্তু এবং 'রূপাই' কবিতার বিষয়বস্তু এক নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। এদেশের বনে বনে সবুজ পাতা, ফুল-ফলের সমারোহ। মাঠে মাঠে ঢেউ খেলানো নবীন ফসল। নতুন ধানের স্বপ্নে বিভোর কৃষক। ঋতু পরিবর্তনের ধারায় বাংলার প্রকৃতি অপরূপ সাজে সজ্জিত এবং স্নিগ্ধকোমল হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি গ্রামবাংলার প্রকৃতি ও মানুষের কথা বলেছেন। কবির মতে গ্রামবাংলাই এদেশের সৌন্দর্যের আধার। মাঠের পর মাঠ সবুজ ধানখেতের উপর দিয়ে বাতাস বয়ে যায়। প্রজাপতি উড়ে বেড়ায়। কালো কাকেরা ঠোঁটে জল ছিটিয়ে গোসল করে। সাদা বক-কনেরা মালা তৈরি করে সেই সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। শরৎকালের শিশির এ সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। আসন্ন ফসল ঘরে তোলার আনন্দে কৃষকের মন নেচে ওঠে। তাদের কাছে ধানের ছড়া মায়ের আঁচলের স্পর্শের মতো মনে হয়। উদ্দীপকের এই বিষয়টি আলোচ্য 'রূপাই' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ সেখানেও কৃষক ও কৃষকের পরিশ্রমের সোনালি ধানের কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং কৃষকের ঘরে নতুন ধানের আনন্দের কথা বলা হয়েছে। এখানে প্রাকৃতিক নিয়মে ঋতু পরিবর্তন, মাঠ ভরা সবুজ সতেজ ধান গাছে বাতাসের দোল খাওয়া, নানা পাখির সৌন্দর্য তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়টি 'রূপাই' কবিতার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে পরিপূর্ণভাবে ছুঁয়ে গেলেও কৃষকদের রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সবার জন্য খাদ্য উৎপাদনের কঠিন কাজটির কথা এখানে অনুপস্থিত। কবিতায় চাষার ছেলে রূপাইয়ের কর্মদক্ষতা ও তার রূপের যে বর্ণনা করা হয়েছে তাও উদ্দীপকে নেই। এসব দিক বিচার-বিবেচনা করলে মনে হয় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ হয়েছে।
Related Question
View Allচাষির ছেলের 'গা-খানি' দেখতে শাওন মাসের তমাল তরুর মতো।
আলোচ্য চরণটির মধ্য দিয়ে কবি বোঝাতে চেয়েছেন সভ্যতা নির্মাণে চাষির ছেলের কৃতিত্ব।
কৃষক সভ্যতার নির্মাতা। দেশের অর্থনীতির চালক। কালো কৃষকরা সারা দিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলিয়ে পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যান। চাষির ওই কালো ছেলে রূপাইও তার শ্রম দিয়ে সবকিছু জয় করেছে।
উদ্দীপক ও 'রূপাই' কবিতার আলোকে বলতে পারি আমার দেখা পল্লিগ্রামটি অতি মনোরম।
বাংলাদেশ গ্রামপ্রধান দেশ। এদেশের মানুষ প্রকৃতির নিবিড় বন্ধনে জড়িয়ে রয়েছে। বাংলার মাটে-ঘাটে ছড়ানো অবারিত সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে।
'রূপাই' কবিতায় শস্য-শ্যামল বাংলার অপরূপ রূপের প্রকাশ ঘটেছে রূপাইয়ের শারীরিক বর্ণনার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে উদ্দীপকেও গ্রাম বাংলার ছায়াময় মায়াময় অবস্থার কথা প্রকাশ পায় গ্রাম্য বালক ছমির শেখের কাজে-কর্মে ও অবস্থায়। আমার নানাবাড়ির গ্রামটি ঠিক একই রকম। চারদিক সবুজে ঘেরা। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদী। সোনালি ফসল মাঠে বাতাসে দোল খায়। কৃষকরা সারা দিন মাঠে পরিশ্রম করে ফসল ফলান। এককথায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর গ্রামটি।
"উদ্দীপকটি 'রূপাই' কবিতার মূলভাবের খন্ডাংশ মাত্র"-মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রকৃতি মনোমুগ্ধকর। এদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। পেশাজীবীদের মধ্যে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ হচ্ছে কৃষিজীবী। কৃষকরা সরাসরি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। তারা এ দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে নিরলস পরিশ্রম করেন।
উদ্দীপকে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা একজন দুরন্ত বালকের কর্মতৎপরতা ও মানবিক গুণের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়টি 'রূপাই' কবিতায় প্রতিফলিত গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রূপাইয়ের কর্মতৎপরতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে তা সব দিক থেকে সমানভাবে নয়। কারণ কবিতায় রূপাইয়ের বাহ্যিক গড়ন ও মানসিক গঠনের যে পরিচয় দেওয়া হয়েছে অনুরূপ পরিচয় উদ্দীপকের বালকটির বেলায় দেওয়া হয়নি। রুপাইকে নিয়ে খেলার দলে টানাটানির বিষয়টিও অনুপস্থিত। কবিতায় কবি 'কালো' রঙের কৃষকের বিশেষত্বের কথাও প্রকাশ করেছেন যা উদ্দীপকে নেই।
'রূপাই' কবিতায় কবি গ্রাম-বাংলার প্রকৃতি, কৃষকের রূপ ও কর্মোদ্যোগ অসাধারণ ভাষায় প্রকাশ করেছেন। গ্রাম-বাংলার প্রকৃতির মধ্যে কালো ভ্রমর, রঙিন ফুল, কাঁচা ধানের পাতা, জালি লাউয়ের ডগার মতো চাষার ছেলের বাহু ইত্যাদি বিষয় আছে, যা আলোচ্য উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে বর্ণিত বালকটি ফসলের বীজ বোনা ও যাত্রাদলায় অভিনয় করায় দক্ষ। তবে তা কবিতায় বর্ণিত কালো চাষার ছেলের মানবিকতা, পরিশ্রমী মনোভাব ও আখড়ায় লাঠি খেলায় বা জারির গানের দক্ষতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
কবিতায় 'মরণ'-এর রং কালো।
কর্মদক্ষ এবং সাহসী বলে কবিতায় রূপাইকে 'বাপের বেটা' বলা হয়েছে।
'রূপাই' কবিতায় রূপের বর্ণনাসহ রূপাইয়ের স্বভাব বৈশিষ্ট্যের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। কৃষকের ছেলে রূপাইয়ের গায়ের রং কালো। সে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে মাঠে সোনার ফসল ফলায়। এ কাজে তার ক্লান্তি নেই। শুধু কৃষিকাজই নয়, রূপাই খেলার মাঠেও দূরন্ত খেলোয়াড়। সবাই তাকে দলে নিতে টানাটানি করে। রূপাই আখড়াতে বাঁশের বাঁশি বাজায়, জারির গান গায়। গাঁয়ের বৃদ্ধরা রূপাইকে অনেক ভালোবাসেন। তারা রূপাইয়ের মঙ্গল কামনা করেন। রূপাইয়ে কর্মদক্ষতা ও সাহসে তারা মুগ্ধ। এ মুগ্ধতা থেকেই তারা প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!