গ্রামীণ ব্যাংক হলো জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী বেসরকারি সংস্থা।
বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড) থেকে উদ্ভূত ও বিকশিত একটি গ্রামোন্নয়ন উদ্যোগ হল্যে কুমিল্লা মডেল।
কুমিল্লা মডেল হলো কুমিল্লা জেলা শহরে অবস্থিত এমন একটি প্রশিক্ষণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান যা তৃণমূল পর্যায়ের জনগণ তথা কৃষকদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ও সমবায়ের ভিত্তিতে কৃষি ও পল্লি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। উন্নত কৃষি পদ্ধতির প্রসার, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনসমূহ প্রয়োগে কৃষকদের উৎসাহ দান, কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, পুঁজিগঠনে উৎসাহ দান, ঋণপ্রাপ্তিতে সাহায্য প্রভৃতির মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে গ্রামীণ সমাজ জীবনের সমস্যা সমাধান করা তথা সার্বিক গ্রামোন্নয়নই কুমিল্লা মডেলের মূল লক্ষ্য।
উদ্দীপকের মিসেস আমিনা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
মানব সমাজের বিভিন্নমুখী চাহিদা পূরণ ও সমস্যা সমাধানে জনগণের উদ্যোগ ও অর্থানুকূল্যে বেসরকারি সংস্থার উদ্ভব। বেসরকারি সংস্থা বলতে সেসব সংস্থাকে বোঝানো হয় যেগুলো উন্নয়ন বা সেবামূলক কর্মকাণ্ডে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। অর্থাৎ, সহজভাবে বলতে গেলে, জনগণের বহুমুখী চাহিদা ও প্রয়োজন পূরণের মাধ্যমে সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে জনগণ কর্তৃক স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠানই বেসরকারি সংস্থা। উদাহরণস্বরূপ: BRAC, ASA, Grameen Bank, Proshika প্রভৃতি বেসরকারি সংস্থা। বেসরকারি সংস্থাসমূহের তহবিলের উৎস হলো বিভিন্ন পুঁজিবাদী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- USAID, CIDA, NORAD। এছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা যেমন- Oxfam, Vivid, Kusso প্রভৃতি। শিক্ষাবিস্তার, ক্ষুদ্র ঋণদান, কৃষি উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতি উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বেসরকারি সংস্থা পরিচালনা করে থাকে।
উদ্দীপকের মিসেস আমিনা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, সেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক উৎস হলো বিভিন্ন দেশি-বিদেশি আর্থিক ও ত্রাণ সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান। উক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কাজ হলো দরিদ্র। নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সাহায্য করা। সুতরাং, উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, মিসেস আমিনা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তার সাথে বেসরকারি সংস্থার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
উদ্দীপকের মিসেস আমিনা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং মুনির সাহেব সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। বাংলাদেশের আর্থ- সামাজিক উন্নয়নে উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ একসাথে কাজ করলে সর্বাধিক সাফল্য অর্জিত হবে এ বিষয়ের সাথে আমি একমত।
কোনো দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে সর্বাধিক সাফল্য অর্জন করতে। হলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় সংস্থার একসাথে কাজ করা উচিত। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বিদ্যমান আর্থ- সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দরিদ্রতা অন্যতম প্রতিবন্ধক। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা পাশাপাশি কাজ করার মাধ্যমে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দারিদ্রদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে সরকার শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক গুরুত্বারোপ করেছে। প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক, সর্বজনীন ও অবৈতনিক করেছে, বিনামূল্যে মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বই বিতরণ করছে, মেয়েদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছে। এক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থা বৃত্তির ব্যবস্থা, খাদ্যবিতরণ, কারিগরি শিক্ষা প্রভৃতির মাধ্যমে সরকারের পরিপূরক ও সহায়ক শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করছে যা শিক্ষার প্রসারকে গতিশীল করে তুলেছে। জনসংখ্যা সমস্যা বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা। এই বিরাট জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে। রূপান্তর করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশাল সাফল্য অর্জিত হবে। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এছাড়াও কৃষি ও শিল্পের সমন্বিত উন্নয়ন সাধন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা প্রভৃতি ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা একত্রে কাজ করলে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে সর্বাধিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায় যে, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে সর্বাধিক সাফল্য লাভে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার একত্রে কাজ করা এখন সময়ের দাবি মাত্র।
Related Question
View Allবাংলাদেশের মুসলিম সমাজব্যবস্থায় বিধবা বিবাহের স্বীকৃতি রয়েছে।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
'৬৯' এর গণ আন্দোলনের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এর আগে তিনি ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা তুলে নেন। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয়। গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে।
উদ্দীপকের 'আলোর দিশারী' সংস্থাটি একটি বেসরকারি সংস্থা।
বেসরকারি সংস্থা বলতে কোনো অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে বোঝায়, যা উন্নয়ন সহযোগিতা অথবা শিক্ষা ও নীতিগত কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকে। বাংলাদেশে বেসরকারি সংস্থাসমূহ বিভিন্ন আর্থ- সামাজিক কর্মকাণ্ড যেমন- দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সুরক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রামীণ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এ সংস্থাসমূহ জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান, বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা, কৃষি উন্নয়নসহ নানা ফলপ্রসু পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বর্তমানে দেশে রেজিস্ট্রিকৃত প্রায় ২,৫০০ দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থা প্রায় দুই কোটি উপকারভোগী তৈরি এবং অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। যেমনটি উদ্দীপকেও দেখা যায়।
উদ্দীপকে লক্ষণীয় যে, নিরক্ষরতা, অনুর্বর জমি, মূলধনের অভাব ইত্যাদি কারণে নীলফামারী জেলার খানাবাড়ি গ্রামের মানুষ দারিদ্র্যের শিকার। এমতাবস্থায় 'আলোর দিশারী' নামক স্থানীয় একটি সংস্থা গ্রামের মানুষের মাঝে শিক্ষার বিস্তার, মূলধন যোগান, ফসলের চারা বিতাড়ন ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করে। ফলে কিছুদিন পর দেখা যায়, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছে। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটা স্পষ্ট যে, 'আলোর দিশারী' নামক সংস্থাটি একটি বেসরকারি সংস্থা।
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্থা অর্থাৎ বেসরকারি সংস্থাগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
সমকালীন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে অনেক বেসরকারি সংস্থা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এসব সংস্থা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের মানসিক, দৈহিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালায়। পাশাপাশি এসব বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নেও প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। ফলে গ্রামে রাস্তাঘাট, বাজার, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ কারণে সমকালীন বাংলাদেশের সমাজকাঠামো নানাভাবে পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ লাভ করছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, দারিদ্র্য বিমোচন প্রতিটি ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাসমূহের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যা বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে বেসরকারি সংস্থাসমূহের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, নিজেকে বয়স্ক ভাবা একটি মানসিক রোগ।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থার প্রথম সোপান ইউনিয়ন পরিষদ। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা গ্রামীণ সমাজে ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করেন। এদের বেশিরভাগই ধনী লোক, প্রভাবশালী পরিবার থেকে আগত। এরা মূলত গ্রামীণ জনগণের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী অবস্থান নেয়। গ্রামের নানা রকম উন্নয়নমূলক কাজ ক্ষমতাসীন সরকার এদের মাধ্যমেই সম্পন্ন করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!