জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber) আদর্শ নমুনার আমলাতান্ত্রিক ধারণা প্রদান করে এবং তাকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।
সরকার ব্যবস্থার উন্নতমান অর্জন করার জন্য আমলাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। । এ ক্ষেত্রে আমলারা রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আমলারা চাপসৃষ্টিকারী রাজনৈতিক দল ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরস্পরবিরোধী দাবিসমূহ হা সংগ্রহ এবং প্রতিযোগিতামূলক স্বার্থের মূল্যায়ন করে রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করেন
উদ্দীপকে মিস্টার 'ক' এর ঘটনায় পৌরনীতি ও সুশাসনের ধারণায় আমলাতন্ত্রের ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে। কেননা সরকারি সংগঠনের কর্মকর্তাগণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সরকারি সংগঠনের সহযোগী হিসেবে জনসেবায় নিয়োজিত থাকেন এবং এ সংগঠন পদসোপানভিত্তিক হওয়ায় নিম্নস্তরের কর্মচারীগণকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আদেশ-নির্দেশ মেনে চলতে হয়। আর এটাই হলো আমলাতন্ত্র। এই আমলাতন্ত্র প্রশাসন যন্ত্রের এক অপরিহার্য অঙ্গ এবং এই আমলাতন্ত্র সরকারি নীতির বাস্তবায়ন এবং সরকারকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে উদ্দীপকে মিস্টার 'ক'-এর ঘটনায় পৌরনীতি ও সুশাসনের ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্র ধারণাটির প্রতিফলন ঘটেছে।
আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় উদ্দীপকের ধারণায় আমলাতন্ত্রের কার্যাবলি নিম্নরূপ-
১. আমলাতন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকারের সকল প্রকার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
২. আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় অনেক সময় আমলাদের নিয়ে প্রশাসনিক আদালত গঠিত হয়। ফলে তারা বিচার সংক্রান্ত কাজও করে থাকে।
৩. আমলারা আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৪. আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আমলারা জনকল্যাণমূলক কাজও সম্পাদন করে থাকে।
৫. আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় পরামর্শ দানের পাশাপাশি দেশের স্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করে থাকে।
সর্বোপরি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলা আইনসভাকে প্রভাবিত, পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে সহযোগিতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধের ভারসাম্য রক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
Related Question
View AllBureaucracy' শব্দের প্রতিশব্দ 'আমলাতন্ত্র'।
আমলাতন্ত্রের এক বড় ত্রুটি হলো লালফিতায় দৌরাত্ম্য। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্বের নজিরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে অতি আনুষ্ঠানিকতা পালনকে লালফিতার দৌরাত্ম্য বলা হয়। পদসোপান ভিত্তিতে কাগজপত্রের অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, যা দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। এর ফলে প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়।
আমলাতন্ত্র একটি পেশাদার, দক্ষ ও নিরপেক্ষ বাহিনী। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে তারা এই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের মমতাজ আলীর কার্যক্রমেও এরূপ দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখা যায়। মমতাজ আলী তার কাজের ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করেন এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন অনুসারে তার কাজ করেন। এটি আমলাতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মমতাজ আলী সাহেব তার। দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমলাতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে তিনি তার কর্মকাণ্ডে যে সক্ষমতা প্রদর্শন। করেছেন, তা আমলাতন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আমলাতন্ত্রের পদের ধারাক্রম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এখানে আমলাতন্ত্রের কার্যপ্রণালি এবং প্রক্রিয়া দেখা যায়।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমলাদেরকে বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয়। উন্নয়মূলক কাজেও মমতাজ আলীদের মতো আমলারা মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। অনেক সময় তাদের ভূমিকা দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহকের ন্যায়। আবার ক্ষেত্রবিশেষে এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়।
আমলারা রাষ্ট্রের জনগুরুত্বপূর্ণ সব কাজের তদারকিতে নিয়োজিত থাকেন। প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ, নীতির বাস্তবায়ন তথা কাজ সম্পন্ন করা, সরকারি সম্পদের হেফাজত করা, বিচারসংশ্লিষ্ট কাজ ইত্যাদি আমলাদের রুটিনওয়ার্ক। সরকারের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা করা, সম্ভাব্যতা যাচাই করা, সমীক্ষা করা, বাজেট প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদনের সুপারিশ করা, কাজ বাস্তবায়ন করা, তদারকি করা ইত্যাদি আমলাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সূচনা ও বাস্তবায়ন করার মূল দায়িত্ব এ আমলাদের ওপরই ন্যস্ত থাকে।
আমলাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা যত বেশি হবে, এসব ক্ষেত্রে সফলতা তত দ্রুত আসবে। কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রভাগে থাকেন এ আমলারা। এছাড়া সামাজিক পরিবর্তন, অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ইত্যাদি অবস্থাগত ক্ষেত্রেও আমলাদের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। তবে আমলাতন্ত্রের অতি আনুষ্ঠানিকতা, লালফিতার দৌরাত্ম্য স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা, অবহেলা এবং অ-পেশাদারি আচরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। কিন্তু এটি আমলাতন্ত্রের নীতির পরিপন্থী। আমলাতন্ত্রে কখনো এরূপ প্রত্যাশা করা হয় না। কিন্তু জনাব আলী সাহেবের মতো দক্ষ, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ আমলারাই দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহক, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
অধ্যাপক অগ আমলাতন্ত্রকে পেশাদার দক্ষ বাহিনী বলে অভিহিত করেন।
কোনো সংগঠন পরিচালনার জন্য স্থায়ী বেতনভুক্ত দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আমলা বলা হয়। আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র বলতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী বেতনভুক্ত কর্মীবাহিনীকে বোঝায়। আমলারা সুশৃঙ্খলভাবে পরস্পর পদের ক্রম অনুযায়ী সংযুক্ত এবং রাজনীতি নিরপেক্ষ থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ম্যাক্স ওয়েবারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!