মি. আকিব প্রাচীন বাংলায় বিভিন্ন রাজবংশের শাসন নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আলোচনার একপর্যায়ে তিনি বললেন, "প্রাচীন বাংলা শিল্প, সংস্কৃতি ও শিক্ষায় উন্নত ছিল।" তারপর তিনি প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন রাজবংশের নাম উল্লেখ করলেন। তাদের মধ্যে একটি রাজবংশের প্রশংসা করলেন, যা কয়েকশ বছর বাংলা ভূখন্ড শাসন করেছে। তিনি আরও বললেন, "এই রাজবংশের পর অন্য একটি রাজবংশ বাংলার ক্ষমতায় আসে। তারপর তারা একজন তুর্কি মুসলিম সেনাপতির কাছে পরাজিত হয়। তিনি বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।"

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

ভ্রাতৃকলহে লিপ্ত পাল রাজা দ্বিতীয় মহীপালের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ জেলে সম্প্রদায় ১০৮০ খ্রিস্টাব্দে যে বিদ্রোহ করে তাই কৈবর্ত বিদ্রোহ।

উত্তরঃ

প্রাচীন বাংলাদেশের হিন্দুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনটি ধরনের মধ্যে একটি হচ্ছে চতুষ্পাঠী। কেবল ব্রাহ্মণ ঘরের ছেলেরা চতুষ্পাঠীতে লেখাপড়া করতে পারত। এখানে সংস্কৃত ভাষা শেখানো হতো, যাতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে সুবিধা হয়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের প্রথম অংশে পাল রাজবংশের কথা বলা হয়েছে। কারণ উদ্দীপকের মি. আকিব প্রাচীন বাংলার যে রাজবংশের প্রশংসা করলেন তারা কয়েকশ বছর বাংলা ভূখন্ড শাসন করেছে- যা পাল বংশকেই নির্দেশ করে।
পাল রাজবংশ বাংলাদেশের প্রথম দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ। এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল শতবর্ষব্যাপী কলহ, নৈরাজ্য ও হানাহানির অবসান ঘটিয়ে বরেন্দ্র (গৌড়)-এর সিংহাসনে বসেন। কথিত আছে, প্রজাদের প্রতিনিধি বা কর্মচারীদের প্রতিনিধিরা গোপালকে নির্বাচন করে। গোপাল ছিলেন পাল বংশের যোগ্য শাসক। ধর্মপাল, দেবপালও এ বংশের বিখ্যাত শাসক ছিলেন। পাল বংশের দীর্ঘ ৪০০ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, স্থাপত্য, চিত্রশিল্প ও শিল্পকলাসহ অন্য অনেক ক্ষেত্রে উৎকর্ষ অর্জন করে। দীর্ঘ এ শাসনামলে পাল শাসকদের অনেকেই দক্ষতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে শাসন পরিচালনা করলেও কেউ কেউ তা পারেনি। ফলশ্রুতিতে পাল বংশের পতন অনিবার্য হয়ে পড়ে।

উত্তরঃ

উল্লিখিত তুর্কি জেনারেলের অর্থাৎ ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজির ক্ষমতা লাভের মাধ্যমেই বাংলাদেশে মধ্যযুগের সূচনা হয়- বক্তব্যটি যথার্থ।

১২০৪ খ্রিস্টাব্দে রাজা লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে তুর্কি মুসলমান সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি বংলাদেশে মুসলিম শাসনের সূত্রপাত করেন। এরপর তুর্কি মুসলমান সেনাপতিরা পুরো বাংলাদেশে মুসলিম শাসন বিস্তার করতে থাকেন। দিল্লির সুলতানদের পাঠানো সেনাপতিরা বাংলাদেশের কোনো কোনো অংশ শাসন করতে থাকেন। জয় করা অংশে প্রশাসকের দায়িত্ব পান তারা। দিল্লি থেকে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ছিল না। ধন-সম্পদে ভরা দেশটিতে দিল্লির সুলতানের অধীনে প্রশাসক হয়ে না থেকে স্বাধীনভাবে শাসন পরিচালনার ইচ্ছায় শাসকরা দিল্লির সুলতানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করতেন। এ খবর দিল্লিতে গেলে বিদ্রোহীদের দমন করার জন্য সৈন্য পাঠানো হতো। এভাবে কখনো পরাজয়ের, কখনো জয়ের মধ্য দিয়ে চলতে চলতে একসময় পুরো বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যায়। এর মধ্যে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সুলতানি শাসনের অবসান হয়। তখন ভারত দখল করে নিয়েছিল আরেকটি মুসলমান শক্তি। তারা মোগল নামে পরিচিত। এভাবে দিল্লিকে কেন্দ্র করে বাংলা মোগল বংশের শাসন শুরু হয়।

129

বাংলাদেশের ইতিহাস

১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হলেও বাংলার ইতিহাস অনেক প্রাচীন। প্রাচীন যুগ থেকে হিসেব করলে মৌর্য, শুঙ্গ, কুষাণ, গুপ্ত, পাল ও সেন শাসনের ধারাবাহিকতায় এসেছিল মধ্যযুগ। বখতিয়ার খলজির নদীয়া জয়ের পর বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম শাসন। ইলিয়াসশাহী ও হোসেনশাহী বংশ বাংলায় গড়ে তোলে শক্তিশালী শাসন কাঠামো। এরপর পলাশী যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর বাংলা ও ভারতবর্ষ চলে গিয়েছিল ইংরেজদের অধীনে। তাদের হাত থেকে মুক্তির পর বর্তমান বাংলাদেশের নাম হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান। দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি আমাদের এই বাংলাদেশ।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-

  • বাংলায় মানব বসতির ধারা বর্ণনা করতে পারব
  • রাজনৈতিক ইতিহাসের যুগ বিভাজন করতে পারব;
  • প্রাচীন বাংলার আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবন বর্ণনা করতে পারব;
  • মধ্যযুগে বাংলার রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব:
  • ঔপনিবেশিক যুগে বাংলার রাজনৈতিক জীবন বর্ণনা করতে পারব।
  • দেশটির জন্মকথা, সংস্কৃতি, সভ্যতা, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারব;

Related Question

View All
উত্তরঃ

সাধারণ অর্থে টোল বলতে বোঝায় চতুষ্পাঠী, সংস্কৃত ব্যাকরণ ও শাস্ত্রাদি অধ্যয়নের পাঠশালা। প্রাচীন বাংলাদেশে হিন্দুদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বলা হতো টোল। টোলের প্রধান পাঠ্য বিষয় ছিল হিন্দু ধর্মগ্রন্থ পাঠদান করা।

1.1k
উত্তরঃ

তথ্য-১ এর মতো প্রাচীন বাংলাদেশের গৌরবময় ক্ষেত্রটি কৃষি।
প্রাচীন যুগে বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। এ সময় কৃষিতে উদ্বৃত্ত ছিল। ধান ছিল প্রধান ফসল। প্রচুর আখও উৎপাদন হতো। আখ থেকে উৎপাদিত গুড় ও চিনির খ্যাতি ছিল। এই গুড় ও চিনি বিদেশে রপ্তানি হতো। তুলা, সরিষা ও পান চাষের জন্যও বাংলাদেশের খ্যাতি ছিল। নারিকেল, সুপারি, আম, কাঁঠাল, কলা, ডুমুর প্রভৃতি ফলের কথাও জানা যায়।

উদ্দীপকের তথ্য-১ এ প্রধান ফসল হিসেবে প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে এবং রপ্তানিকৃত দ্রব্য হিসেবে চিংড়ি ও ব্যাঙের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের এসব তথ্যে বাংলাদেশের আধুনিক যুগের কৃষি খাতের তথ্য ফুটে উঠেছে; যা প্রাচীন বাংলাদেশের গৌরবময় কৃষি ক্ষেত্রের সাথে সংগতিপূর্ণ।

488
উত্তরঃ

তথ্য-২ এ উল্লিখিত বিষয়গুলো প্রাচীন বাংলাদেশের গৌরবের সাথে সাদৃশ্যপূণ- উক্তিটির সাথে আমি একমত।
প্রাচীন বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল সমৃদ্ধ ও গৌরবময়। সে সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। তখন কৃষিতে উদ্বৃত্ত ছিল। আখ থেকে উৎপাদিত চিনি ও গুড়ের বেশ খ্যাতি ছিল এবং এসব দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি হতো। প্রাচীন যুগ থেকেই তাঁতিরা মিহি সুতি ও রেশমি কাপড় বুননে পারদর্শী ছিল। তাঁতিদের উৎপাদিত মসলিন কাপড় পৃথিবী বিখ্যাত ছিল এবং এসব কাপড় বিদেশে রপ্তানি হতো। কৃষিতে উদ্বৃত্ত হওয়ায় এবং শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বিকাশ লাড় করে। ভারতবর্ষের বিভিন্ন বন্দর ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে যেত তৎকালীন বাংলাদেশের পণ্য।
উদ্দীপকের তথ্য-২ এ আকাশপথে আমেরিকায় তৈরি পোশাক রপ্তানির কথা বলা হয়েছে এবং পাটজাত দ্রব্যের বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত এসব বিষয় প্রাচীন বাংলাদেশের বিভিন্ন দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি ও তখনকার ব্যবসা-বাণিজ্য বিকাশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নে উল্লিখিত উক্তিটি যথার্থ।

410
উত্তরঃ

মাৎস্যন্যায় হলো এমন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যেখানে শক্তিশালী দুর্বলকে শোষণ করে এবং আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে।

273
উত্তরঃ

সমতট অঞ্চল হলো বাংলাদেশে দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের একটি প্রাচীন জনপদ। এই অঞ্চলটি বর্তমানে কুমিল্লা এবং বিক্রমপুরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। খড়গ, দেব, চন্দ্র এবং বর্ম রাজবংশ এই অঞ্চলে শাসন করতেন। এটি বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ এখানে ৩০টির মতো বৌদ্ধবিহারের কথা উল্লেখ করেছেন।

924
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews