মেয়াদপূর্তির আগে পলিসি ফেরত দিলে যে মূল্য দেওয়া হয় তাকে সমর্পণ মূল্য বলে।
বড় ঝুঁকির ক্ষেত্রে একটি বিমা প্রতিষ্ঠান সব ঝুঁকি নিতে সক্ষম না হলে ঝুঁকির অংশবিশেষ পুনঃচুক্তির মাধ্যমে অন্য কোনো বিমা প্রতিষ্ঠানের ওপর ন্যস্ত করলে তাকে পুনর্বিমা বলে।
পুনর্বিমা তখনই করা হয় যখন একটি বিমা প্রতিষ্ঠান অনুধাবন করে যে তার গৃহীত ঝুঁকির পরিমাণ অত্যধিক হয়ে যাচ্ছে এবং সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। ঝুঁকি কমাতে ও ঝুঁকি বণ্টনের উদ্দেশ্যে পুনর্বিমার মাধ্যমে ঝুঁকিকে বিমাকারীদের মাঝে পুনর্বণ্টন করা হয়।
উদ্দীপকে মি. আমিন সাধারণ মেয়াদি বিমাপত্র গ্রহণ করায় তা একই সাথে তাকে বিনিয়োগ ও আর্থিক সুরক্ষার সুযোগ দিবে।
মেয়াদি বিমাপত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদপূর্তিতে বিমাগ্রহীতাকে বিমা দাবির অর্থ একত্রে পরিশোধ করা হয়। বিমাগ্রহীতার মৃত্যুতে তার মনোনীত ব্যক্তি বিমা চুক্তির অর্থ পাওয়ার অধিকার রাখে। সাধারণত এ বিমাপত্র নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্যই গৃহীত হয়।
উদ্দীপকে মি. আমিন ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটি জীবন বিমা করলেন। বিমার মেয়াদ ১০ বছর। মি. আমিন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বিমাপত্রটি গ্রহণ করায় তা মেয়াদি জীবন বিমাপত্র। এ ধরনের বিমায় বিমাগ্রহীতা নির্দিষ্ট সময় পরপর প্রিমিয়াম দেন। এ প্রিমিয়ামের অর্থ যেহেতু মেয়াদপূর্তির আগে ফেরত দেওয়া হবে না তাই বিমা প্রতিষ্ঠান এ অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ পায়। আর কিস্তিতে প্রিমিয়াম পরিশোধ মি. আমিনকে সঞ্চয়ের সুবিধাও দিচ্ছে। এক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তিতে বা বিমাগ্রহীতার মৃত্যুতে এককালীন বিমা দাবি পেলে তা বিনিয়োগযোগ্য মূলধন হিসেবেও পরিগণিত হবে। বিমাটি বিমাগ্রহীতার বেঁচে থাকা বা মারা যাবার পর সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে। তাই বলা যায়, মি. আমিনের মেয়াদি জীবন বিমাপত্রটি একই সাথে বিনিয়োগ ও আর্থিক সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে জীবন বিমার দাবি আদায়ের পদ্ধতি অনুসরণ করে মি. আমিনের বিমাপত্রটির আর্থিক দাবি নিষ্পত্তি হবে।
বিমাকৃত ব্যক্তির মৃত্যুতে বা বিমা চুক্তির মেয়াদপূর্তিতে বিমাকারীর কাছ থেকে বিমাকৃত ব্যক্তি নিজে বা তার মনোনীত ব্যক্তি যে অর্থ পায় তাকে বিমা দাবি বলে। বিমা দাবি পরিশোধ বিমা চুক্তির সর্বশেষ ধাপ।
উদ্দীপকে মি. আমিন ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটি মেয়াদি জীবন বিমা করলেন। কিন্তু মেয়াদপূর্তির আগেই তিনি হার্ট এ্যাটাকে মারা যান। বিমাপত্রে তার উল্লেখিত কোনো নমিনি ছিল না। তবে তার ১৭ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর তার মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনিকে বিমা দাবি পরিশোধ করা হয়। তবে বিমাপত্রে কোনো মনোনীত ব্যক্তির নাম উল্লেখ না থাকলে উত্তরাধিকারী বিমা দাবি করতে পারে। এক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীকে জেলা জজের কাছ থেকে উত্তরাধিকারীর সনদপত্র সংগ্রহ করতে হয়। উদ্দীপকে মি. আমিনের ১৭ বছর বয়সী ছেলে তার একমাত্র উত্তরাধিকারী। সে প্রথমত তার বাবার মৃত্যু সম্পর্কে বিমাকারী প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করবে। এরপর বিমাকারী কর্তৃক প্রদত্ত বিমা দাবির ফর্ম পূরণ করে জমা দিবে। সাথে উত্তরাধিকারীর সনদ দাখিল করবে। এসব দলিলপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিমা প্রতিষ্ঠান আর্থিক দাবি নিষ্পত্তি করবে। তাই বলা যায়, মি. আমিনের একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে তার ছেলেকে বিমা প্রতিষ্ঠান দাবি পরিশোধ করবে।
Related Question
View Allপ্রিমিয়ামের বিনিময়ে অন্যের ঝুঁকি নিজের কাঁধে নেওয়ার জন্য বিমাকারী ও বিমাগ্রহীতার মধ্যে যে চুক্তি হয় তাকে বিমা চুক্তি বলে।
বিমাযোগ্য স্বার্থের নীতির আলোকে স্বামী তার স্ত্রীর জীবনের ওপর বিমা করতে পারে।
বিমাকৃত বিষয়বস্তুতে বিমাগ্রহীতার আর্থিক স্বার্থই বিমাযোগ্য স্বার্থ। এক্ষেত্রে বিমাকৃত বিষয়বস্তুর ক্ষতিতে বিমাগ্রহীতা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্ত্রীর জীবনে কোনো ক্ষতি হলে, স্বামীও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই স্ত্রীর জীবনের ওপর স্বামীর বিমাযোগ্য স্বার্থ রয়েছে। এই বিমাযোগ্য স্বার্থ থাকার কারণেই স্বামী তার স্ত্রীর জীবনের ওপর বিমা করতে পারে।
উদ্দীপকে মি. রকিব দ্বৈত বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন।
এ ধরনের বিমা পলিসিতে একক বিষয়বস্তুকে একাধিক বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিমা করা হয়। বিমাকৃত মূল্য না পাওয়ার ঝুঁকি এড়ানোই এরূপ বিমার মূল উদ্দেশ্য। সাধারণত অধিক মূল্যের সম্পত্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের বিমা পলিসি গ্রহণ করা হয়।
উদ্দীপকে মি. রকিব EPZ এ অবস্থিত একটি সাইকেল কারখানার মালিক। তিনি তার কারখানার জন্য 'X' বিমা কোম্পানি ও 'Y' বিমা কোম্পানির সাথে পৃথকভাবে ত্রিশ লক্ষ টাকার দুটি বিমা চুক্তি করেন। একই বিষয়বস্তুর জন্য একাধিক বিমা কোম্পানির সাথে চুক্তি করলে তাকে দ্বৈত বিমা বলে। উদ্দীপকের মি. রকিবও দ্বৈত বিমা করেছেন। এক্ষেত্রে বিমাকৃত বিষয়বস্তুর ক্ষতিতে তাকে আনুপাতিক হারে বিমা দাবি পরিশোধ করা হবে। ফলে বিমা দাবি ফেরত না পাওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পাবে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মি. রকিব তার কারখানার জন্য দ্বৈত বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন।
আনুপাতিক হারে অংশগ্রহণের নীতি অনুযায়ী বিমা কোম্পানি কর্তৃক মি. রকিবের বিমা দাবি প্রত্যাখ্যান করা যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
এ নীতি সাধারণত দ্বৈত বিমার ক্ষেত্রে অধিক ব্যবহৃত হয়। নির্দিষ্ট সম্পত্তি একাধিক বিমাকারীর নিকট বিমা করা হলে বিমা কোম্পানিগুলো আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। সব বিমা কোম্পানি একত্রে বিমাগ্রহীতাকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করে।
উদ্দীপকে মি. রকিব EPZ এ অবস্থিত একটি সাইকেল কারখানার মালিক। তিনি তার কারখানার জন্য 'X' ও 'Y' দুটি বিমা কোম্পানির সাথে পৃথকভাবে বিমা করেন। উভয় কোম্পানিতেই তিনি ৩০ লক্ষ টাকা করে বিমা করেন। পরবর্তীতে দূর্ঘটনা জনিত কারণে তার কারখানার ৪ লক্ষ ।
উদ্দীপকের টাকার ক্ষতি হয়। মি. রাকিব উভয় কোম্পানির নিকট হতে পৃথকভাবে ৪ লক্ষ টাকা করে দাবি করেন। কিন্তু বিমা কোম্পানিগুলো তা প্রত্যাখ্যান করে। মি. রকিব দ্বৈত বিমা করেন। দ্বৈত বিমায় আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। অর্থাৎ, বিমা কোম্পানিগুলো একত্রে মি. রকিবকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪ লক্ষ টাকা প্রদান করবে। মি. রকিব উভয় বিমা কোম্পানিতে সমান টাকায় বিমা করেন। তাই উভয় বিমা কোম্পানি সমানভাবে ২ লক্ষ টাকা করে মোট ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। কিন্তু মি. রকিব প্রত্যেক বিমা কোম্পানির কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা দাবি করেন, যা যৌক্তিক নয়। তাই বলা যায়, আনুপাতিক হারে অংশগ্রহণের নীতি অনুযায়ী মি. রকিবের বিমা দাবি প্রত্যাখ্যান করা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
বিমা প্রতিষ্ঠানের মুনাফার যে অংশ বিমা গ্রহীতাদের মধ্যে দেওয়া হয় তাকে বোনাস বলে।
বিমাকৃত বিষয়বস্তুতে বিমাগ্রহীতার স্বার্থ থাকায় বিমা ব্যবসায়ে বিমাযোগ্য স্বার্থ গুরুত্বপূর্ণ।
বিমাকৃত বিষয়বস্তুতে বিমাগ্রহীতার আর্থিক স্বার্থকে বিমাযোগ্য স্বার্থ বলে। আইনানুযায়ী বিমা একটি বৈধ ব্যবসায়। অসুস্থ মৃতপ্রায় কোনো ব্যক্তির জীবন বা অন্যের সম্পত্তি বিমা করে বিমা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায় করা গেলে তা জুয়াখেলা হতো। কিন্তু বিমার ক্ষেত্রে বিমাকৃত বিষয়বস্তুতে বিমাগ্রহীতার আর্থিক স্বার্থ থাকে। এ স্বার্থকে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত করতেই বিমার উদ্ভব হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!