রাসায়নিক, ভৌতিক ও জৈবিক কারণে পরিবেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের যেকোনো নেতিবাচক পরিবর্তনই হলো দূষণ।
বায়ুতে এক বা একাধিক দূষকের উপস্থিতি ও স্থায়িত্ব সেখানকার জীব সম্পদ ও অন্যান্য সম্পদের জন্য ক্ষতিকর হলে তাকে বায়ুদূষণ বলে। ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে প্রায় এক মাইলব্যাপী ঘন মিটার বায়ু বর্তমান। এ বায়ু সাধারণত শতকরা ২১ ভাগ অক্সিজেন, ৭৮ ভাগ নাইট্রোজেন, ০.০৩১ ভাগ কার্বন ডাইঅক্সাইড, একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে ওজোন হাইড্রোজেন ইত্যাদি দ্বারা গঠিত। যদি কোনো কারণে বায়ুতে অক্সিজেন ছাড়া অন্যান্য গ্যাসের ঘনত্বের পরিবর্তন 'অথবা ধূলিকণার ভাগ বৃদ্ধি পায় তখনই বায়ু দূষিত হয়।
উদ্দীপকের মি. ক্যালিস দূষণ ও সংরক্ষণের একজন গবেষক। তিনি তার গবেষণায় বায়ুদূষণের গুরুত্বপূর্ণ কিছু উৎস তুলে ধরেন। নিচে বায়ুদূষণের উৎসগুলো উপস্থাপন করা হলো-
নন-ফটোসিনথেটিক জীব- যারা বায়ুতে ত্যাগ করে। মোটরযান- মোটরযানের জ্বালানির দহনের ফলে বিভিন্ন গ্যাস ও অনেক ধাতব দূষক নির্গত হয়। শিল্পকারখানা- চিমনি হতে ধোঁয়া ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ, নির্গত CFC গ্যাস ইত্যাদি। পুষ্পক উদ্ভিদ- যা থেকে ক্ষতিকর পরাগরেণু ছড়ায়। ঝড়ো হাওয়া- যা বায়ুতে ধূলিকণা ছড়ায়। বর্জ্য পদার্থ- যা থেকে ইত্যাদি বায়ুতে আসে। অগ্ন্যুৎপাত- যা থেকে বিভিন্ন ধাতব পদার্থ ও বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়। পারমাণবিক বিস্ফোরণ- যা থেকে বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ে।
বৃক্ষ নিধন- যার ফলে বায়ুতে গ্যাস বৃদ্ধি পায়।
মি. ক্যালিস তার গবেষণায় বায়ুদূষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কতকগুলো কারণকে দায়ী করেছেন। তন্মধ্যে অন্যতম হলো- কার্বন ডাইঅক্সাইড, ধোঁয়া, ধোয়াশা বা স্মগ, ইন্জস্ট গ্যাস, সালফার ডাইঅক্সাইড, ক্লোরোফ্লুরো কার্বন এবং পরাগরেণু। উল্লিখিত কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- একটি গ্রিন হাউস গ্যাস। সকল প্রাণী শ্বসন ক্রিয়াকালে গ্যাস বাতাসে ত্যাগ করে এবং সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ ক্রিয়াকালে গ্রহণ করে। বনভূমি ধ্বংস ও গাছপালা নির্বিচারে কাটার ফলে জীবকূলের ত্যাগ করা সবটুকু গ্যাস সবুজ উদ্ভিদ গ্রহণ করতে পারে না। তাই বাতাসে গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। কলকারখানার চিমনি হতেও গ্যাস বাতাসে যোগ হয়। ধোঁয়া হলো এক ধরনের এরোসল (aerosol) যা দহনকৃত নির্গত বস্তু ও বাতাসে ভাসমান কলয়ডাল কণা এবং বাষ্পীভবন বা দহনোদ্ভূত গ্যাস নিয়ে গঠিত হয়। ধোঁয়ার প্রকোপ মূলত শহর ও শিল্প এলাকাতেই সীমিত থাকে। কারণ এখানকার দালানকোঠা ও প্রতিষ্ঠান এমনভাবে নির্মিত হয় যার ফলে বাতাস অনেকটা আবদ্ধ থাকে। ইন্জস্ট গ্যাস তেল জাতীয় জ্বালানিসমূহের দহন ক্রিয়ার ফল এবং সাধারণত অদৃশ্যমান। এ জাতীয় গ্যাস সাধারণত ধোঁয়ার সাথে কারখানার চিমনি ও অটোরিকশা, বাস, ট্রাক হতে নির্গত হয়। এ গ্যাসে সিসা, তামা, জিংক, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি ভারি ধাতু ও কার্বন মনোক্সাইড (CO), সালফার ডাইঅক্সাইড হাইড্রোজেন সালফাইড হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCI), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ ইত্যাদি থাকে। এসব গ্যাসের ঘনত্ব একটু বৃদ্ধি পেলে এরা জীবকুলের বেশ ক্ষতিসাধন করে। সাধারণত শিল্পকারখানার ধোঁয়া হতে গ্যাস বায়ুতে মিশে। বিভিন্ন জ্বালানি দহনের ফলেই সৃষ্টি হয়। বায়ুর সাথে মিশে এই গ্যাস সালফিউরিক অ্যাসিড সৃষ্টি করে এবং অ্যাসিড বৃষ্টির মাধ্যমে জীবকুলের ক্ষতি করে। ক্লোরোফ্লুরোকার্বন বা CFC, গন্ধহীন, অবিষাক্ত, অদাহ্য এবং ক্ষয়কারক পদার্থ নয়। এছাড়াও এদের বাষ্পীয়চাপ ও বাষ্পীকরণের তাপমাত্রার সুবিধাজনক কারণে এদেরকে শীতলকারক যন্ত্র (এয়ারকন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর ইত্যাদি), এরোসোল প্রপালেন্ট, ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতির পরিষ্কারক পদার্থ এবং প্লাস্টিক সামগ্রী ও রং তৈরির কারখানায় ব্যবহার করা হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, ধোঁয়া, স্মগ, ইন্জস্ট গ্যাস, এবং পরাগরেণু বায়ুদূষণের জন্য বিশেষভাবে দায়ী।
Related Question
View AllCFC এর পূর্ণরূপ হলো- Chloro Fluoro Carbon,
জীবের বেঁচে থাকার জন্য বায়ুমণ্ডলের ট্রপোমণ্ডল স্তরটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর। এ স্তরে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন-ডাইঅক্সাইড, ধূলিকণা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে যা প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য খুবই প্রয়োজন। এছাড়া এ স্তরে মেঘ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ, কুয়াশা, ঝড়, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সবকিছুই ঘটে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের শতকরা ৮০ ভাগ বায়ু এ স্তর ধারণ করায় এ স্তরের নিচে উদ্ভিদ ও প্রাণীর অস্তিত্ব দেখা যায়। তাই ট্রপোমণ্ডল স্তরটি জীবের বেঁচে থাকার জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণটি হলো বায়ুদূষণ। নিচে মানবস্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-
বায়ুদূষণের অন্যতম দূষক হচ্ছে সালফার ডাইঅক্সাইড , নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড () যা ব্রঙ্কাইটিস সৃষ্টি করে। ব্রঙ্কাইটিসের প্রধান উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী কাশি, অত্যধিক মিউকাস ক্ষরণ ও সঞ্চয় এবং বিঘ্নিত শ্বসন। বায়ুদূষণ এবং ধূমপান ফুসফুস ক্যানসারের প্রধান কারণ। শহরের বায়ুদূষণ তীব্র হওয়ায় গ্রামের তুলনায় শহরে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। উৎপাদন স্থলে বা অট্টালিকা নির্মাণের সময় অ্যাজবেস্টাসের প্রভাবে ফুসফুসীয় কলা অমসৃণ হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে ফুসফুসে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ফুসফুসের এরূপ অস্বাভাবিক অবস্থাকে অ্যাজবেস্টোসিস বা ফুসফুসীয় ফাইব্রোসিস বলে। বায়ুতে বিভিন্ন ধরনের তেজস্ক্রিয় উপাদানের উপস্থিতির কারণে অতিশয় মন্দ প্রভাব
যথা- অ্যানিমিয়া, লিউকেমিয়া এবং ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে। তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের প্রভাবে এর মিউটেশন, বন্ধ্যাত্ব, ভ্রূণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ এবং জন্মত্রুটি ঘটতে পারে। উদ্দীপকে নজীব দীর্ঘ দশ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে ঢাকায় আসে। এখানকার গাড়ির কালো ধোঁয়া, কলকারখানায় নির্গত গ্যাস ব্যাপকভাবে বায়ু দূষণ সৃষ্টি করে। যা মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
উদ্দীপকে সৃষ্ট দূষণটি হলো বায়ুদূষণ যা মানব স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি করে।
নিচে, বায়ুদূষণ প্রতিরোধে করণীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- সমাজের সকল স্তরের মানুষকে বায়ুদূষণের কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। বায়ুদূষণের বর্তমান অবস্থা পরিমাপের জন্য ব্যাপক জরিপ ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জনসাধারণকে বায়ুদূষণের ফলে মানুষের স্বাস্থ্য ও সম্পদের কী ক্ষতি হতে পারে সে সম্বন্ধে পরিচিতি প্রদান করতে হবে।
পরিবেশে জনসংখ্যা ভার কমাতে হবে। পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বায়ুদূষণ প্রতিরোধে দেশে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। ইটের ভাটায় কাঠের পরিবর্তে কয়লা ব্যবহার করতে হবে। যানবাহনে ডিজেলের পরিবর্তে সিএনজির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করে বনায়ন করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, জাতিসংঘের পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিশেষ করে বায়ুদূষণ প্রতিরোধে গৃহীত বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের দেশকে যথার্থ ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাতাসে নাইট্রোজেনের শতকরা হার ৭৮.০৮%।
বায়ুমণ্ডলে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সংঘটিত কার্বনচক্রের মাধ্যমে কার্বন-ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় থাকে।
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপন্ন করে এবং প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয়ই গ্লুকোজরূপে তা গ্রহণ করে। প্রাণী খাদ্য হিসেবে উদ্ভিদ গ্রহণ করে এবং উভয়ের দেহেই কার্বন যৌগ তথা গ্লুকোজ জারিত হয়ে কার্বন-ডাইঅক্সাইডরূপে প্রকৃতিতে ফিরে যায়। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার উদ্ভিদ গ্রহণ এবং প্রাণী ত্যাগ করে। এভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!