মি. 'ক' মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও ইসলামের কতিপয় মৌলিক বিষয় অবিশ্বাস করে। অপরদিকে 'খ' তার এক বন্ধুকে তিনমাসের মধ্যে ফেরত দেয়ার শর্তে পাঁচ হাজার টাকা ঋণ দেয়। কিন্তু তার বন্ধু সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যথাসময়ে টাকা ফেরত দেয়নি। এই নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাহেব বলেন, এ ধরনের আচরণ পরিত্যাগ না করলে তাকে পরকালে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ রিসালাত অর্থ বার্তা বহন বা পয়গাম পৌঁছানো। ইসলামী পরিভাষায়, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানুষের হেদায়াতের জন্য নবী-রাসুলগণের মাধ্যমে প্রেরিত জ্ঞান ও নির্দেশনাকে রিসালাত বলে।
Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

তাকদিরে বিশ্বাস ইসলামের মৌলিক স্তম্ভগুলোর অন্যতম। এর অর্থ হলো, আল্লাহ তায়ালা এ মহাবিশ্বে যা কিছু হবে বা হচ্ছে তার সবকিছু আগে থেকে নির্ধারণ করে রেখেছেন এবং তিনি এ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। এই বিশ্বাস মানুষকে আল্লাহর প্রতি অগাধ আস্থা ও নির্ভরতা স্থাপন করতে শেখায়, যা একজন মুমিনের ঈমানকে দৃঢ় করে।

তাকদিরে বিশ্বাস মানুষকে মানসিক প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তি দান করে। এটি মানুষকে দুনিয়ার লোভ-লালসা ও হতাশামুক্ত হতে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর ফায়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকতে অনুপ্রাণিত করে। এই বিশ্বাস মানুষকে বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করতে এবং সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শেখায়, যা পরকালীন মুক্তির পথ সুগম করে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

মি. 'ক' এর আচরণে কুফরির বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। ইসলামী পরিভাষায়, কুফর অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, গোপন করা, ঢেকে রাখা অথবা অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। আল্লাহ তায়ালা, তাঁর রাসূল, ফেরেশতা, কিতাবসমূহ, আখিরাত এবং তকদীরের মতো ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটিকে অবিশ্বাস করাকে কুফরি বলে গণ্য করা হয়। এটি ঈমানের বিপরীত একটি অবস্থা এবং এর ফলে একজন ব্যক্তি মুসলিম হিসেবে তার অবস্থান থেকে বিচ্যুত হতে পারে।

উদ্দীপকের মি. 'ক' মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও ইসলামের কতিপয় মৌলিক বিষয় অবিশ্বাস করেন, যা সরাসরি কুফরির পরিচয় বহন করে। মুসলিম পরিচয় ধারণ করা সত্ত্বেও ইসলামের অপরিহার্য অংশগুলোকে অস্বীকার করা একজন ব্যক্তির ঈমানের দুর্বলতা বা অনুপস্থিতি নির্দেশ করে। এটি মৌখিক স্বীকারোক্তি এবং অন্তরের বিশ্বাস ও কর্মের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট সংঘাত তৈরি করে। মি. 'ক' এর এই আচরণ ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গুরুতর অপরাধ।

ইসলামে কুফরি একটি জঘন্যতম অপরাধ। এর ফলে ব্যক্তি দুনিয়াতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি অর্জন করে এবং আখিরাতে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হয়। যে ব্যক্তি ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহকে অবিশ্বাস করে, সে আসলে আল্লাহ তায়ালার প্রতি অবিশ্বাস ও অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এই ধরনের আচরণ একজন ব্যক্তিকে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করে এবং তার পরকালীন মুক্তিকে ঝুঁকিতে ফেলে। ইমাম সাহেবের বক্তব্যেও এ ধরনের আচরণের পরিণতি সম্পর্কে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা কুফরির ভয়াবহতাকে তুলে ধরে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

ইসলামের দৃষ্টিতে ঋণ পরিশোধের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি একটি আর্থিক লেনদেন হলেও এর সঙ্গে গভীর নৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক বিদ্যমান। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা ঋণগ্রহীতার জন্য ফরজ এবং এটি আমানত রক্ষার অন্তর্ভুক্ত।

উদ্দীপকে মি. 'খ' এর বন্ধু সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ করেনি। এটি কেবল আর্থিক অসততাই নয়, বরং ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুতর অনৈতিক আচরণ। ইমাম সাহেব তার এই আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে পরকালে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হওয়ার যে মন্তব্য করেছেন, তা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও নির্দেশনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইসলামে ঋণ পরিশোধে অবহেলাকে অত্যন্ত কঠোরভাবে দেখা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, "ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম।" (সহীহ বুখারী, মুসলিম)। যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধে টালবাহানা করে, তারা অপরের হক নষ্ট করে এবং পরকালে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। এমনকি শহীদ ব্যক্তিও ঋণের বোঝা নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন না, যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ হয়। ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা গেলে তার জানাযা পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে বলে হাদিসে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সুতরাং, মি. 'খ' এর বন্ধুর আচরণ ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরিপন্থী, যা পরকালে কঠোর শাস্তির কারণ হতে পারে।

ইমাম সাহেবের মন্তব্যটি মি. 'খ' এর বন্ধুর জন্য একটি সতর্কবার্তা এবং সমাজের সবার জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয়। সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করা শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতিই ঘটায় না, বরং তা আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও পরকালে কঠিন শাস্তির কারণ হয়। তাই ইমাম সাহেবের এই মন্তব্যের যথার্থতা অনস্বীকার্য।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
855

Related Question

View All
উত্তরঃ

কুফর শব্দের আভিধানিক অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, ঢেকে রাখা, গোপন করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অবাধ্য হওয়া ইত্যাদি । ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটিরও প্রতি অবিশ্বাস করাকে কুফর বলা হয় ।

5.3k
উত্তরঃ

আখিরাত জান্নাত ও জাহান্নাম বিশ্বাস না থাকায় কাফির ব্যক্তি অনৈতিকতার  গুরুত্ব উপলব্ধি  করতে পারে না এবং দুনিয়ার স্বার্থে  মিথ্যাচার, অনাচার, ব্যভিচার, দুর্নীতি ইত্যাদি যে কোন পাপ ও অনৈতিক কাজ বিনা দ্বিধায় করতে পারে। নবী -রাসুলগণকে বিশ্বাস না করায় তাদের নৈতিক চরিত্র এবং শিক্ষা ও অনুসরণ  করে না এভাবে কুফরের  মাধ্যমে সমাজে অনৈতিকতার প্রসার ঘটে। 

Emo Akter
Emo Akter
1 year ago
2.9k
উত্তরঃ

আকাম সাহেবের কর্মকাণ্ড শিরকের অন্তর্ভুক্ত।

ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের পরিপন্থী কাজকে শিরক বলা হয়। মহান আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি, ইবাদত ও ক্ষমতার অংশীদার স্থাপন করাই হলো শিরক। এটি ইসলামে সবচেয়ে বড় ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য। শিরকের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর প্রতি তার আনুগত্য ও বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়।

উদ্দীপকে আকাম সাহেব ইচ্ছাকৃতভাবে অমুসলমানদের অনুকরণ করেন এবং তাদের ধর্মীয় চিহ্ন ব্যবহার করেন, যা স্পষ্টতই শিরকের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামে মুসলমানদের জন্য অন্য ধর্মের ধর্মীয় রীতি-নীতি বা প্রতীক অনুকরণের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আকামের এই ধরনের কাজ আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি অনাস্থা এবং অন্য ধর্মের প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের শামিল, যা শিরকের অন্যতম উদাহরণ।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
1.9k
উত্তরঃ

ইসলামে তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ হলো মৌলিক বিশ্বাস। এই বিশ্বাসে সামান্যতম বিচ্যুতিও শিরক, যা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ এবং এর পরিণতি ভয়াবহ। উদ্দীপকের মাহমুদ সাহেবের বিশ্বাসগুলো এই মৌলিক তাওহিদের পরিপন্থী এবং ইসলামে এর কঠিন পরিণতি রয়েছে।

উদ্দীপকে মাহমুদ সাহেব আল্লাহ তায়ালার পাশাপাশি বিত্তবানদেরকে রিযিকদাতা মনে করেন। এটি তাওহিদের পরিপন্থী একটি বিশ্বাস। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, "পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর উপর নেই।" (সূরা হুদ: ৬)। রিযিকদাতা একমাত্র আল্লাহ। বিত্তবানরা শুধু আল্লাহ প্রদত্ত রিযিকের মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু তারা নিজেরা রিযিকদাতা নন। এই বিশ্বাস শিরকে আকবর বা বড় শিরকের শামিল, যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত করার শামিল। দ্বিতীয়ত, তিনি ফেরেস্তাদের জগৎ পরিচালনাকারী হিসেবে মনে করেন। ফেরেস্তাগণ আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী দাস। তারা আল্লাহর নির্দেশে বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করেন, কিন্তু তারা নিজেদের ইচ্ছায় জগতের কোনো কিছুর পরিচালক নন। জগৎ পরিচালনাকারী একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, "আল্লাহই নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলকে ধারণ করে রাখেন, যাতে তারা স্থানচ্যুত না হয়।" (সূরা ফাতির: ৪১)। ফেরেস্তাদেরকে জগৎ পরিচালনাকারী মনে করা তাওহিদের সাথে সাংঘর্ষিক।

মাহমুদ সাহেবের এই ধরনের বিশ্বাসগুলো ইসলামের মৌলিক আকীদা বা বিশ্বাসের পরিপন্থী এবং শিরকের অন্তর্ভুক্ত। শিরক এমন একটি পাপ যা আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করেন না, যদি শিরকের উপর মৃত্যু হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না, তবে এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ যার জন্য ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন।" (সূরা নিসা: ৪৮)। কুরআন ও হাদিসের ভাষ্যমতে, শিরককারী জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে এবং তার জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নামের শাস্তি অবধারিত। এই বিশ্বাস একজন ব্যক্তিকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দিতে পারে, যদি সে তা থেকে তাওবা না করে।

সুতরাং, মাহমুদ সাহেবের বিশ্বাসের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এটি তার ইহকাল ও পরকালের মুক্তির জন্য চরম অন্তরায়। প্রতিটি মুসলমানের উচিত, কুরআন ও হাদিসের আলোকে সঠিক আকীদা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং সকল প্রকার শিরক থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করা, যাতে ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ জীবনযাপন করা যায়।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
1.7k
উত্তরঃ

ইসলামি পরিভাষায়, মহান আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বাণী মানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালাত বলা হয় আর যিনি এ দায়িত্ব পালন করেন তাঁকে বলা হয় রাসুল। রাসুল শব্দের বহুবচন রুসুল।

1.7k
উত্তরঃ

'খতমে নবুয়ত' এর অর্থ হল নবুওয়াতের সমাপ্তি বা শেষ হওয়া। ইসলামে বিশ্বাস করা হয় যে, হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন সর্বশেষ নবী। এর মাধ্যমে খতমে নবুয়ত বলতে বোঝানো হয় যে, কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নতুন নবী বা রাসুল আসবেন না। আল্লাহ তায়ালা তাঁর কালাম (কুরআন) হযরত মুহাম্মদ (স.) এর মাধ্যমে পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে নবুওয়াতের শৃঙ্খলা শেষ হয়ে গেছে।

Md Nafi
Md Nafi
1 year ago
1.1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews