ম্যাক্স ওয়েবার জার্মানির সমাজবিজ্ঞানী
পদসোপান নীতি আমলাতন্ত্রের একটি বৈশিষ্ট্য। পদ ও মর্যাদা অনুসারে এটা করা হয়। এখানে প্রত্যেক নিম্নপদ প্রত্যেক উচ্চতর পদের অধীন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিম্নতর পদ উচ্চতর পদকে সহায়তা করে এবং বাস্তবায়নে উচ্চতর পদের নিকট জবাবদিহি থাকে। পদসোপান কাঠামো পিরামিড আকার ধারণ করে। ফলে এখানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ সর্বদা বর্তমান থাকে।
উদ্দীপকে আমলাতন্ত্রের নেতিবাচক দিকটি ফুটে ওঠেছে। নিচে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. আমলাতন্ত্রের একটি বড় সমস্যা হলো কাজকর্মের দীর্ঘসূত্রতা। একটি তুচ্ছ কাজ বা অতি অল্প সময়ে হয়ে যাওয়ার মতো কাজও সরকারি কায়দায় নির্ধারিত নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে দীর্ঘসময় ধরে চলতে থাকে।
২. আমলাতন্ত্রের সমালোচকগণ আমলাদের দায়িত্বহীন বলে মনে করেন। আমলারা প্রজাতন্ত্রের স্থায়ী কর্মচারী বলে তারা তাদের কাজের জন্য অনেক সময় জনগণের নিকট দায়ী থাকেন না, এ ব্যাপারে বিভাগীয় মন্ত্রীরা দায়ী থাকেন। ফলে আমলারা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো কাজ করেন।
৩. ক্ষমতালিপ্সা আমলাতন্ত্রের একটি বড় ত্রুটি। তারা একদিকে আইনসভার ক্ষমতা কুক্ষিগত করে, অন্যদিকে বিচার বিভাগীয় ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করেন। আমলাদের ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে জনগণের কাছে এটি ভীতিপ্রদ হয়ে পড়েছে।
৪. আমলাতন্ত্র রাষ্ট্রের সেবক না হয়ে অনেক সময় প্রভু হিসেবে ক্ষমতাচর্চা করে। কেননা ঔপনিবেশিক চিন্তা-চেতনার রেশ এখনো তাদের মধ্যে রয়ে গেছে। তারা নিজেদেরকে অসীম ক্ষমতাশালী মনে করেন। বৃহত্তর জনসাধারণের সেবার কথা ভুলে তারা নিজের কর্মক্ষেত্রকে আপন সাম্রাজ্য মনে করেন।
৫. আমলাতন্ত্রের প্রচলিত ত্রুটি হলো লালফিতার দৌরাত্ম্য। এর অর্থ হচ্ছে, পূর্বনজিরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করা। এর ফলে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে একই বিষয় বিভিন্ন দফতরে বিভাগীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য বন্দি হয়ে থাকে। এতে জনগণের ভোগান্তি রয়ে যায়।
উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, আমলাতন্ত্রের অনেক নেতিবাচক দিক রয়েছে।
উদ্দীপকে আমলাতন্ত্রের নেতিবাচক দিক ফুটে ওঠেছে। উক্ত বিষয়ের ইতিবাচক দিকও রয়েছে।
আমলাতন্ত্র একটি দক্ষ, স্থায়ী, বেতনভুক্ত, পেশাদার কর্মচারীদের সংগঠন। এ সংগঠন আইনের ভিত্তিতে গঠিত। আমলারা আইন অনুযায়ী তাদের কাজ সম্পন্ন করেন। তারা আইন প্রণয়নে আইন বিভাগকে সহায়তা করেন। আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইন আমলারাই বাস্তবায়ন ও কার্যকর করেন। আমলাতন্ত্র বিভিন্ন ধরনের রীতিনীতি আরোপ করে সরকারি কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। এ কারণেই আমলাতন্ত্রের জনক জার্মান সমাজবিজ্ঞানী Max Weber আমলাতন্ত্রকে আইনগত ও যুক্তিসংগত মডেল হিসেবে দেখেছেন।
আমলাতন্ত্র সভ্যতার উৎকর্ষ সাধনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এটি যেকোনো রাষ্ট্রের প্রশাসনব্যবস্থার উন্নতি সাধন করে এবং আধুনিকীকরণের দিকে অগ্রসর করে। তাই আমলাতন্ত্রকে আধুনিকতার অন্যতম বাহন বলা যায়। আমলাতন্ত্র পদক্রম প্রথার ওপর নির্ভরশীল। তাই আমলাতন্ত্রকে সুষ্ঠুভাবে
নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।। বিভিন্ন স্তরে বিভাজিত আমলাতন্ত্রের প্রত্যেকটি স্তরে নির্দিষ্ট ব্যক্তি তার জন্য নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট কর্ম সম্পাদন করে। প্রতিটি স্তরই তার ঊর্ধ্বতন কোনো নির্দিষ্ট স্তরের আওতায় নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ, আমলাতন্ত্র উঁচু-নিচু স্তরে বিভক্ত থাকে, যেখানে উঁচু স্তরের প্রশাসকদের নিয়ন্ত্রণে থাকেন।
উপরিউক্ত আলোচনায় স্পষ্ট হয় যে, আমলাদের ইতিবাচক দিকও রয়েছে।
Related Question
View AllBureaucracy' শব্দের প্রতিশব্দ 'আমলাতন্ত্র'।
আমলাতন্ত্রের এক বড় ত্রুটি হলো লালফিতায় দৌরাত্ম্য। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্বের নজিরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে অতি আনুষ্ঠানিকতা পালনকে লালফিতার দৌরাত্ম্য বলা হয়। পদসোপান ভিত্তিতে কাগজপত্রের অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, যা দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। এর ফলে প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়।
আমলাতন্ত্র একটি পেশাদার, দক্ষ ও নিরপেক্ষ বাহিনী। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে তারা এই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের মমতাজ আলীর কার্যক্রমেও এরূপ দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখা যায়। মমতাজ আলী তার কাজের ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করেন এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন অনুসারে তার কাজ করেন। এটি আমলাতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মমতাজ আলী সাহেব তার। দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমলাতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে তিনি তার কর্মকাণ্ডে যে সক্ষমতা প্রদর্শন। করেছেন, তা আমলাতন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আমলাতন্ত্রের পদের ধারাক্রম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এখানে আমলাতন্ত্রের কার্যপ্রণালি এবং প্রক্রিয়া দেখা যায়।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমলাদেরকে বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয়। উন্নয়মূলক কাজেও মমতাজ আলীদের মতো আমলারা মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। অনেক সময় তাদের ভূমিকা দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহকের ন্যায়। আবার ক্ষেত্রবিশেষে এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়।
আমলারা রাষ্ট্রের জনগুরুত্বপূর্ণ সব কাজের তদারকিতে নিয়োজিত থাকেন। প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ, নীতির বাস্তবায়ন তথা কাজ সম্পন্ন করা, সরকারি সম্পদের হেফাজত করা, বিচারসংশ্লিষ্ট কাজ ইত্যাদি আমলাদের রুটিনওয়ার্ক। সরকারের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা করা, সম্ভাব্যতা যাচাই করা, সমীক্ষা করা, বাজেট প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদনের সুপারিশ করা, কাজ বাস্তবায়ন করা, তদারকি করা ইত্যাদি আমলাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সূচনা ও বাস্তবায়ন করার মূল দায়িত্ব এ আমলাদের ওপরই ন্যস্ত থাকে।
আমলাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা যত বেশি হবে, এসব ক্ষেত্রে সফলতা তত দ্রুত আসবে। কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রভাগে থাকেন এ আমলারা। এছাড়া সামাজিক পরিবর্তন, অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ইত্যাদি অবস্থাগত ক্ষেত্রেও আমলাদের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। তবে আমলাতন্ত্রের অতি আনুষ্ঠানিকতা, লালফিতার দৌরাত্ম্য স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা, অবহেলা এবং অ-পেশাদারি আচরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। কিন্তু এটি আমলাতন্ত্রের নীতির পরিপন্থী। আমলাতন্ত্রে কখনো এরূপ প্রত্যাশা করা হয় না। কিন্তু জনাব আলী সাহেবের মতো দক্ষ, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ আমলারাই দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহক, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
অধ্যাপক অগ আমলাতন্ত্রকে পেশাদার দক্ষ বাহিনী বলে অভিহিত করেন।
কোনো সংগঠন পরিচালনার জন্য স্থায়ী বেতনভুক্ত দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আমলা বলা হয়। আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র বলতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী বেতনভুক্ত কর্মীবাহিনীকে বোঝায়। আমলারা সুশৃঙ্খলভাবে পরস্পর পদের ক্রম অনুযায়ী সংযুক্ত এবং রাজনীতি নিরপেক্ষ থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ম্যাক্স ওয়েবারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!