উদ্দীপকের 'মি. পারভেজের সংস্থাটির অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকাই সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত'- এ বিষয়টির সাথে আমি একমত।
উদ্দীপকের মি. পারভেজ একটি সাংবিধানিক সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা করেন। এখানে সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে বোঝানো হয়েছে। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব অপরিসীম।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম উপায়। আর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করে। কমিশন দল ও প্রার্থীর জন্য আচরণবিধিও তৈরি করে। জাল ভোট বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশন একটি সঠিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং যথাসময়ে তা হালনাগাদ করে। নির্বাচনের দিন জনগণ যাতে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করাও এ কমিশনের দায়িত্ব।
এজন্য কমিশন প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও সশস্ত্র বাহিনীর সাহায্য নেয়। এছাড়াও প্রার্থীদের অনিয়ম বন্ধ করার জন্য কমিশন বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ থেকে শুরু করে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সার্বিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন নানা ধরনের ভূমিকা পালন করে। এ কারণেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন অপরিহার্য।
Related Question
View Allগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আদর্শ ও কর্মসূচিভিত্তিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি। রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতায় গিয়ে দলের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচনি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। রাজনৈতিক দল একটি আদর্শ বা কিছু নীতি বা কর্মসূচির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হয়।
'খ' ব্যক্তি প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
নির্বাচন হচ্ছে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া। স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রাপ্ত সব নাগরিক ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বাছাই করে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ এ দুই প্রকার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন। প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য অথবা গোপন ভোটদান পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। প্রকাশ্য ভোটদান পদ্ধতিতে ভোেটারগণ তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে সকলের সামনে প্রকাশ্যে ভোট দেয়। এতে ভোটাররা প্রকাশ্যে 'হ্যাঁ' ধ্বনি বা 'হাত তুলে' সমর্থন দান করে। অন্যদিকে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটারগণ গোপনে ব্যালটপত্রে পছন্দকৃত ব্যক্তির নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন একে বা সিল দিয়ে ভোট প্রদান করে।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকার একটি আসনের ভোটাররা 'খ' ব্যক্তিকে সৎ ও যোগ্য মনে করে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন। অর্থাৎ 'খ' ব্যক্তি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছেন। আর বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় গোপন ভোটদান পদ্ধতির প্রচলন রয়েছে। গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটাররা গোপনে ব্যালটপেপারে পছন্দের ব্যক্তির নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন এঁকে বা সিল দিয়ে ভোট দেন। অর্থাৎ উদ্দীপকের 'খ' ব্যক্তিও প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির কাজগুলোর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলের অন্যতম প্রধান কাজ জনমত গঠনের প্রতিফলন ঘটেছে।
রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ হচ্ছে দলীয় আদর্শ ও কর্মসূচির পক্ষে জনমত গঠন করা। এই জনমত গঠনে রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সভা, মিছিল ও গণযোগাযোগের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এছাড়াও রাজনৈতিক দল জনগণকে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে দলীয় কর্মসূচির ব্যাখ্যা এবং অন্য দলের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তি ঢাকার একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। এছাড়াও নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে মিটিং, মিছিল কর্মসূচি পালন করে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তি জনমত গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়লাভের চেষ্টা চালিয়েছেন।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময়, মিটিং, মিছিল প্রভৃতি কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের জনমত গঠনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে।
আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকায় আওয়ামী মুসলীম লীগ নামে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে 'মুসলীম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ আওয়ামী লীগের মূলনীতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই দল পাকিস্তানে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!