বিপণন হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা কোম্পানিগুলো ক্রেতাদের জন্য ভ্যালু সৃষ্টি করে এবং বিনিময়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে ভ্যালু অর্জনের লক্ষ্যে সুদৃঢ় ক্রেতা সম্পর্ক গড়ে তোলে।
ভোন্তা কোনো পণ্য বা সেবা ভোেগ কিংবা ব্যবহারের মাধ্যমে যে সুবিধা পায় এবং তার বিনিময়ে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এদের মধ্যকার পার্থক্যকে বলা হয় ক্রেতাভ্যালু।
একটি পণ্য ব্যবহার বা ভোগ করে ক্রেতা কিছু সুবিধা পায়। অন্যদিকে, ঐ পণ্য অর্জনের জন্য তাকে কিছু অর্থ ব্যয় করতে হয়। পণ্য থেকে প্রাপ্ত সুবিধা এবং পণ্যের জন্য ব্যয়িত অর্থের পার্থক্যই হচ্ছে ক্রেতার ভ্যালু।
যেমন- 'ভলবো এসি' বাসে ভ্রমণ করে ক্রেতা আরাম, নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি ভোগ করে। এরূপ ভ্রমণের জন্য তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হয়। এ দু'য়ের পার্থক্য হচ্ছে ক্রেতাভ্যালু।
মি. সুমনের গাড়ি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত বিপণনের চাহিদা নামক মৌলিক ধারণার অন্তর্গত।
সাধারণত কোনো পণ্য বা সেবা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাএবং তা ক্রয়ের সামর্থ্য ও অর্থ ব্যয়ের ইচ্ছা থাকাকে চাহিদা বলে। অভাব যখন ব্যক্তির ক্রয় ক্ষমতার শর্ত পূরণ করে তখন তা চাহিদায় রূপান্তরিত হয়। কোনো অভাব চাহিদায় পরিণত হতে হলে ব্যক্তির কোনোকিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা অভাব পূরণের ইচ্ছা, ইচ্ছা পূরণের আর্থিক সক্ষমতা, অর্থ ব্যয় করার ইচ্ছা এবং বাজারে পণ্য বা সেবার পর্যাপ্ততা প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য বা শর্তের সমন্বয় থাকতে হয়।
উদ্দীপকের মি. সুমন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ছাত্রাবস্থাতেই তার একটি গাড়ি কেনার ইচ্ছা ছিল কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় কিনতে পারেন নি। পরবর্তীতে ব্যবসায়িক সফলতায় আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হন। অর্থাৎ তার যখন চাহিদার সবগুলো শর্ত পূরণ হয়েছে তখন তিনি গাড়ি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন এবং গাড়ি কিনলেন। সুতরাং বলা যায়, মি. সুমনের গাড়ি ক্রয়ের সিদ্ধান্তটি বিপণনের, চাহিদা, মৌলিক ধারণার অন্তর্গত।
উদ্দীপকের উল্লিখিত পণ্যটির মাধ্যমে ক্রেতা হিসেবে মি. সুমন বাক্তিগত ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের বহুবিধ সুবিধা পাবেন, যা যথার্থ ও বাস্তবসম্মত বলে আমি মনে করি।
গাড়ি বর্তমান সময়ের যোগাযোগের একটি অন্যতম বাহন। গাড়ির মাধ্যমে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক যেকোনো প্রয়োজনে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত করা যায়। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি থাকলে ব্যক্তির সময় এবং শ্রম উভয়ই সাশ্রয় হয়। তাছাড়া ভ্রমণও নিরাপদ এবং আনন্দময় হয়।
উদ্দীপকের মি. সুমন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ের প্রয়োজনে তাকে সবসময় বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতে হয়।তিটি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হওয়ায় বিভিন্ন মিটিং, সেমিনার এবং তিনি যদি বাস, রিকসা বা সিএনজির জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন তাহলে সময়মতো সব কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন না। এসব বিষয় চিন্তা করে মি. সুমন একটি গাড়ি কিনলেন এর ফলে বিভিন্ন জায়গায় তার যোগাযোগ যেমন সহজ ও সাবলীল হবে তেমনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে তার ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। সুতরাং উদ্দীপকের গাড়ি পণ্যটির মাধ্যমে মি. সুমন বহুবিধ সুবিধা পাবেন, যা তার জন্য যথার্থ।
Related Question
View Allকোনো পণ্য বা সেবার বর্তমান ও সম্ভাব্য ক্রেতার সমষ্টিকে বাজার বলে।
বিপণন শক্তিশালী ক্রেতাসম্পর্ক তৈরি করে"- উক্তিটি সঠিক।
সর্বোচ্চ ভ্যালু সৃষ্টি ও প্রদানের মাধ্যমে লাভজনক উপায়ে ক্রেতাদের সন্তুষ্টিবিধান, শক্তিশালী ক্রেতাসম্পর্ক সৃষ্টি ও বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে বিপণন বলে। বর্তমান সময়ে বিপণন বলতে লাভজনক শক্তিশালী ক্রেতা সম্পর্ককে বোঝায়। আর তাই একজন বিপণনকারী সম্পর্কভিত্তিক বিপণন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ক্রেতা, বিক্রেতা, পরিবেশক, ডিলার, সরবরাহকারী প্রভৃতি পক্ষের সাথে দীর্ঘমেয়াদি সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত সচেষ্ট থাকেন। কেননা একজন সন্তুষ্ট ক্রেতাই কোম্পানি এবং পণ্যের প্রতি অনুগত থাকে এবং সে নিজে পণ্য ক্রয় করে ও অন্যদেরকে পণ্য ক্রয়ে উৎসাহিত করে।
মি. পলের গাড়ি ক্রয় বিপণনের মৌলিক ধারণা চাহিদার অন্তর্গত।
কোনো পণ্য বা সেবা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং তা ক্রয়ের সামর্থ্য ও অর্থ ব্যয়ের ইচ্ছা থাকাকে চাহিদা বলে। সাধারণত অভাব যখন ব্যক্তির ক্রয়ক্ষমতার শর্ত পূরণ করে তখন তা চাহিদায় রূপান্তরিত হয়।
উদ্দীপকের মি. পলের প্রাথমিক অবস্থায় গাড়ি কেনার সামর্থ্য ছিল না কিন্তু প্রচন্ড ইচ্ছা ছিল। এ ইচ্ছাকে বাস্তবায়নের জন্য তিনি একটি পোল্ট্রি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ফার্মের উৎপাদিত ডিম ও মাংস উন্নতমানের হওয়ায় ব্যবসায়টি ব্যাপক লাভজনক হয়। পরবর্তীতে - তিনি ব্যবসায়ের মুনাফা দিয়ে ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়ের কাজে ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ি ক্রয় করেন। এক্ষেত্রে তার গাড়ি ক্রয় সম্ভব হয়েছে চাহিদার সকল শর্ত যেমন- ক্রয়ের ইচ্ছা, সামর্থ্য ও অর্থ ব্যয়ের ইচ্ছা বিদ্যমান থাকায় গাড়িটি ক্রয় করতে পেরেছেন। আর তাই বলা যায়, মি. পলের গাড়ি ক্রয় করা ছিল বিপণনের মৌলিক ধারণা চাহিদার অন্তর্গত।
মি পলের বৃহদায়তন ফার্ম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যে সকল প্রতিষ্ঠান মূলধন, আয়তন ও ব্যবস্থাপনায় বৃহৎ প্রকৃতির হয় তাকে বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান বা ফার্ম বলে। এরূপ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৃহৎ উৎপাদন ও ব্যাপক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় বিধায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
উদ্দীপকের মি. পল নাটোরে স্বল্প পরিসরে একটি পোল্ট্রি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ফার্মের ডিম ও মাংস উন্নতমানের হওয়ায় এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ব্যবসায়টিও ব্যাপক লাভজনক হয়ে উঠে।
পরবর্তীতে চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি রাজশাহীতে একটি বৃহত্তম তথা বৃহদায়তন ফার্ম প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন; যেখানে ১,০০০ জন শ্রমিক কর্মরত থাকবেন। এর ফলে একদিকে যেমন বৃহৎ উৎপাদন সম্ভব হবে তেমনি ব্যাপক সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে মানুষের আয়, ভোগ ও জীবনযাত্রার মান যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি জাতীয় আয়ও বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশের তথা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।
পরিশেষে বলা যায়, মি. পলের বৃহদায়তন ফার্ম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রয়োজন ব্যক্তির জ্ঞান, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিত্ব দ্বারা নির্দিষ্ট বস্তুগত ধারণায় রূপান্তরিত হলে তাকে অভাব বলে।
ভোক্তা কোনো পণ্য বা সেবা ভোগ কিংবা ব্যবহারের মাধ্যমে যে সুবিধা পায় এবং তার বিনিময়ে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এদের মধ্যকার পার্থক্যকে বলা হয় ক্রেতাভ্যালু।
একটি পণ্য ব্যবহার বা ভোগ করে ক্রেতা কিছু সুবিধা পায়। অন্যদিকে, ঐ পণ্য অর্জনের জন্য তাকে কিছু অর্থ ব্যয় করতে হয়। পণ্য থেকে প্রাপ্ত সুবিধা এবং পণ্যের জন্য ব্যয়িত অর্থের পার্থক্যই হচ্ছে ক্রেতার ভ্যালু। যেমন- 'ভলবো এসি' বাসে ভ্রমণ করে ক্রেতা আরাম, নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি ভোগ করে। এরূপ ভ্রমণের জন্য তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হয়। এ দু'য়ের পার্থক্য হচ্ছে ক্রেতাভ্যালু।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!