বংশানুক্রমকে ভিত্তি করে সমাজে যে শ্রেণি ব্যবস্থা গড়ে ওঠে তাকে জাতিবর্ণ প্রথা বলে।
সম্পত্তি হলো এমন বিষয় বা বস্তু যার উপযোগিতা রয়েছে এবং যার ওপর সমাজ কর্তৃক মানুষের অধিকার স্বীকৃত।
সম্পত্তি শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। প্রথমত, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন বস্তুকে সম্পত্তি বলা হয়। যেমন- জমি- জমা, ঘরবাড়ি ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত, সম্পত্তি বলতে দ্রব্য বা বস্তুকে ব্যবহার করার অধিকারকে বোঝায়। সব মিলিয়ে বলা চলে, সম্পত্তি বলতে কোনো বিশেষ বস্তুর ওপর সমাজস্বীকৃত চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারকে বোঝায়, যার ফলে ব্যক্তি ঐ সম্পত্তিকে যথেচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অর্জন করে। এ অধিকার বলে ব্যক্তি তার সম্পত্তি ভোগ, দান, বন্ধক বা বিক্রি করতে পারে।
উদ্দীপকের মি. সোহেল চৌধুরীর মধ্যে নৈতিক গুণের প্রতিফলন ঘটেছে।
নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত সূক্ষ্ম অনুভূতি। এটি ভালো ও মন্দের মধ্যকার ইচ্ছা, সিদ্ধান্ত ও কর্মগত বিভাজন। নির্দিষ্ট দর্শন, ধর্ম ও সংস্কৃতি অনুযায়ী নৈতিক বিধানই নৈতিক ব্যবস্থা। সাধারণ অর্থে নৈতিকতা বলতে বোঝায় কোনো নির্দিষ্ট জনগণ বা সংস্কৃতির মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল কোনো কিছুর সত্যিকার ভালো বা মন্দের অবস্থা। বিস্তারিতভাবে বলা যায়, নৈতিকতা ব্যক্তিগত বা সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, আচারবিধি বা সামাজিক লোকরীতি। যার মধ্যে এ গুণ রয়েছে সে বা তারা ভালো এবং মন্দের পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে।
উদ্দীপকের মি. সোহেল চৌধুরী উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তা করেন না। বরং তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে তার অফিসিয়াল ও ব্যক্তি জীবনের সব দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সহকর্মীদেরও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। সোহেল চৌধুরীর পক্ষে এটি সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র তার নৈতিক গুণের কারণে। তাই বলা যায়, মি. সোহেল চৌধুরীর মধ্যে নৈতিক গুণের প্রতিফলন ঘটেছে।
সমাজজীবনে উক্ত গুণটি অর্থাৎ নৈতিকতার প্রভাব অপরিসীম। সামাজিক কল্যাণার্থে নৈতিকতার উদ্ভব ঘটে। এটি ব্যক্তি এবং সমাজকে ভালো ও সঠিক পথে পরিচালিত করে। যেসব কারণে মানুষের জীবনে হতাশা ও অধঃপতনের সৃষ্টি হয়, নৈতিকতা সেসব থেকে মানুষকে দূরে রাখে। তাই নৈতিকতা মানুষের জীবনকে প্রতিটি পর্যায়ে পরিবর্তন করার চেষ্টা করে। এ গুনটি ব্যক্তির চরিত্র গঠনে সহায়তা করে। ব্যক্তি কী ধরনের চরিত্রের অধিকারী হবেন, তা নির্ভর করে তিনি কোন ধরনের নৈতিকতার অধিকারী তার ওপর। সর্বোপরি নৈতিকতা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে ভূমিকা পালন করে থাকে।
উদ্দীপকের মি. সোহেল একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি ঘুষ নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। যা তার উন্নত নৈতিকতার পরিচয় বহন করে। বস্তুত নৈতিক আদর্শ ছাড়া ব্যক্তিগত ও মানবিক উন্নয়ন সম্ভব হয় না। সামাজিক দুর্নীতি প্রতিরোধেও নৈতিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া গোষ্ঠীর কল্যাণমূলক কাজেও এ শিক্ষা অন্যতম বাহন হিসেবে কাজ করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় জীবনকে কলুষতামুক্ত করার জন্য নৈতিকতা চর্চার কোনো বিকল্প নেই।
Related Question
View All'Authority' শব্দের অর্থ কর্তৃত্ব।
সমাজস্থ কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর মধ্যে সাম্যের অভাবই সামাজিক অসমতা।
অসমতা বলতে মূলত সমতার অভাবকে বোঝায়। মানুষের পদমর্যাদা, ক্ষমতা, সম্পদ, সুযোগ প্রভৃতির ভিত্তিতে সামাজিক ক্ষেত্রে সৃষ্ট অসম ও অনাকাঙ্ক্ষিত পার্থক্যই হলো সামাজিক অসমতা। মানবসমাজ বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা বৈচিত্র্যময় বিষয়ের ভিত্তিতে বিভাজিত। মানবসমাজের এ বৈচিত্র্যপূর্ণ বিভাজন সমাজজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে ধর্ম নামক সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মানবসমাজে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Religion' যার অর্থ বন্ধন বা সংহতি। ধর্মের ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ধর্ম হলো এমন একটি ধারণা যা কোনো একটি বিশেষ শক্তিধর সত্তায় বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে অভিন্ন ধারণা পোষণকারীদের ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ করে রাখে। নৃবিজ্ঞানী জেমস ফ্রেজার বলেন, "ধর্ম হচ্ছে অলৌকিক শক্তিতে বিশ্বাস। আর এ শক্তি মানবজীবন ও প্রকৃতির ধারাকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে।" সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার বলেন, "ধর্ম কেবল মানুষের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে তা নয়, ধর্ম মানুষ ও অন্য কোনো উর্ধ্ব শক্তির মধ্যে সম্পর্কের সৃষ্টি করে।" মানব সমাজের বিভিন্ন পাঠে বিভিন্ন স্থানে ধর্মের বিচিত্র রূপ লক্ষ করা যায়। প্রাচীনকাল হতেই মানুষ কোনো শক্তির ওপর ভয় ও বিশ্বাস স্থাপন করে মনস্তাত্ত্বিক পরিতৃপ্তির সাথে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে আসছে। বিপদ আপদ হতে মুক্তি পাবার আশায় মানুষ প্রার্থনা করছে। আর এ প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে ইহজাগতিক মুক্তির লক্ষ্যে নির্মিত সংস্কৃতি থেকেই ধর্মের উৎপত্তি।
উপরের আলোচনা ও ধর্মের সংজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে ধর্ম নামক সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই উক্ত প্রতিষ্ঠান তথা ধর্ম; সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে- আমি এ উক্তির সাথে একমত।
ধর্মের একটি সামাজিক দিক রয়েছে। সামাজিক সংহতি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে ধর্ম তার সামাজিক ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্যক্তি মানুষের আচার-আচরণ এবং সমাজজীবনের ধারা ধর্মীয় অনুশাসনের দ্বারা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন প্রভাব সামাজিক ব্যক্তিবর্গের পারিবারিক ও গোষ্ঠীজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনধারার ওপর ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব অপরিসীম। ধর্ম মানুষকে নীতিবান করে তুলে এবং সামাজিক বিধি-নিষেধ মেনে চলতে উৎসাহিত করে। ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে পারে। ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এর ফলে মানুষের আচার-ব্যবহার স্বভাবতই সংযত হয়ে পড়ে। ধর্ম বিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের মনে উদয় হয় ভয় মিশ্রিত এক শ্রদ্ধা-ভক্তির মনোভাব। এই মনোভাবের ভিত্তিতে ব্যক্তি মানুষ তার বাহ্যিক আচার-আচরণকে সংযত ও নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হয়। সমগ্র সমাজকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ধর্মের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সমাজজীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায় যে, মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই ধর্ম সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আর এ কারণেই আমি প্রশ্নোল্লিখিত উক্তির সাথে সহমত পোষণ করি।
মানবসৃষ্ট সবকিছুর সমষ্টিই হলো সংস্কৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!