Social Deviance-এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো সামাজিক বিচ্যুতি।
অপরাধ দমনে গণমাধ্যমের ভূমিকা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
গণমাধ্যমের দ্বারা অপরাধের ক্ষতিকর দিকগুলো প্রচার করে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা যায়। গণমাধ্যমের প্রচারণার ফলে অপরাধ ও অপরাধীর প্রতি জনগণের ঘৃণার সৃষ্টি হয় এবং দক্ষতা, সততা, সুবিচার ও আইনের প্রতি জনগণকে শ্রদ্ধাশীল করে তোলে। রেডিও, টেলিভিশন, পত্র-পত্রিকা, সিনেমা ও নাটক ইত্যাদিতে অপরাধ প্রতিরোধমূলক ছবি বা ডকুমেন্টারি প্রচারের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের 'মি. X'-এর চিকিৎসার ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তনের প্রযুক্তিগত কারণটির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
আধুনিক যান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত বিকাশ ও উন্নত জীবনযাপন প্রক্রিয়া, ঐতিহ্য, বিশ্বাস, চিন্তাধারা, মূল্যবোধ, পরিবার ও অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সূচনা করে। আধুনিক সভ্য সমাজ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তির আহার-বিহার, আমোদ- প্রমোদ, পোশাক-পরিচ্ছেদ, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তিবিদ্যার প্রভাব লক্ষ করা যায়। প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে । চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক বেশি আধুনিক ও সহজতর হয়েছে। রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পদ্ধতি, সার্জারি ইত্যাদি কাজে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. X-এর অপারেশন করার পূর্বে চিকিৎসক আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এছাড়া সার্জারির সময় চিকিৎসক বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ব্যবহারের মাধ্যমে তার অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেন যা পাঠ্যবইয়ে উল্লিখিত সামাজিক পরিবর্তনের যন্ত্রিককীরণের প্রভাবকে নির্দেশ করে। • পরিশেষে বলা যায় যে, মি. X- এর চিকিৎসায় সামাজিক পরিবর্তনের যান্ত্রিক কারণ পরিলক্ষিত হয়েছে।
"উদ্দীপকের কারণটিই তথা যান্ত্রিক কারণই সামাজিক পরিবর্তনের একমাত্র কারণ নয়"- এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত পোষণ করি।
উদ্দীপকে মি. X-এর অপারেশনে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়েছে। আর চিকিৎসা ব্যবস্থার এ যান্ত্রিকতার ব্যবহার সামাজিক পরিবর্তনের আরো অনেক কারণ। এটি ছাড়াও সামাজিক পরিবর্তনের আরো অনেক কারণ রয়েছে। যথা: সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে জৈব উপাদানের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সামাজিক পরিবর্তনের গতি-প্রকৃতি, জনসংখ্যার আয়তন, গঠন, বিন্যাস ও প্রকৃতির দ্বারা বহুলাংশে প্রভাবিত হয়। সামাজিক পরিবর্তনের কারণ হিসেবে জনসংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি, গঠন কাঠামো প্রভৃতির পরিবর্তন সমাজের বিভিন্ন প্রথা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরিবর্তন এনে দেয়।
প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষেত্রে পরিবর্তন ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আবহাওয়া, জলবায়ু, ভূমির উর্বরতাশক্তি প্রভৃতির প্রভাবে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। অর্থনৈতিক কারণ ও ধর্মীয় প্রভাবে সমাজে পরিবর্তন সাধিত হয়। এছাড়া সামাজিক পরিবর্তনের আরো কতিপয় কারণ হলো মনস্তাত্ত্বিক' উপাদান, সাংস্কৃতিক উপাদান, রাজনৈতিক কারণ বিদেশিদের প্রভাব প্রভৃতি।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনই সামাজিক পরিবর্তনের একমাত্র কারণ নয় বরং এর পেছনে আরো আরো অনেক কারণ বিদ্যমান।
Related Question
View Allবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মুখ্য উদ্দেশ্য হলো জগতের বাস্তব অবস্থা অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা।
পারিবারিক পরিবেশেই শিশুর সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়।
পরিবারের মধ্যে শিশু সমাজে প্রচলিত নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিক আদর্শ, আচার-আচরণ প্রভৃতির সাথে পরিচিত হয় এবং সেগুলোকে আয়ত্ত করে। যেসব পরিবারে বাবা-মা শিশুদের সঙ্গ দেন এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন সেসব পরিবারের ছেলে- মেয়েরা পরবর্তী সময় সহজ জীবন যাপন করতে পারে। তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে অন্যের সাথে সহজে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।
উদ্দীপকের জেলার পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা হয়।
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো উন্নয়ন। উন্নয়ন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া। সাধারণ অর্থে পূর্বের সময়ের তুলনায় একটি সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অগ্রগতি হলে তাকে উন্নয়ন বলা যেতে পারে। এ অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের সামাজিক আকাঙ্ক্ষা। এ পরিবর্তন যখন মানুষের জীবনমান, সামাজিক সম্পর্ক, শান্তি, স্থিতিশীলতা, ব্যক্তি স্বাধীনতার সম্প্রসারণ ঘটায় তখন তা সামাজিক উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকের কৃষকরা মহাজনদের মাধ্যমে শোষিত হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং সিদ্ধান্ত নেয় তারা আর তামাক চাষ করবে না। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে আত্মকর্মসংস্থানমূলক নানা কর্মকাণ্ড শুরু করে। ফলে কৃষকরা এখন সচ্ছল এবং অভাবমুক্ত। তাদের এই সচ্ছলতা উন্নয়নকেই নির্দেশ করে। কারণ উন্নয়ন মানেই অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন, যা কৃষকদের বেলায় ঘটেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের পরিবর্তন তথা উক্ত অঞ্চলের পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা যায়।
'উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ যেন কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের প্রতিচ্ছবি'- আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।
মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে তার বর্ণিত দাস, সামন্ত ও পুঁজিবাদী সমাজকে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। মার্কসের মতে প্রতিটি সমাজই দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। তেমনিভাবে দাস সমাজও দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। দাস এবং দাস মালিক। দাস সমাজের সবকিছু দাস মালিকের অনুকূলে থাকায় অধিকাংশ দাস বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা মেনে নিতে রাজি হয়নি। অবশেষে কয়েকশ বছর সংগ্রামের পর তারা বিদ্যমান সমাজব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।
দাস সমাজে যারা দাস ছিল সামন্ত সমাজে তারা ভূমিদাসে পরিণত হয়। এ সমাজে ব্যক্তি দাস সমাজ থেকে একটু বেশি স্বাধীনতা পায়, তবে পুরোপুরি স্বাধীনতা পায় না। ফলশ্রুতিতে এ সমাজের বিরুদ্ধেও তারা সংগ্রাম করে। মার্কসের মতানুসারে সামন্ত সমাজের অবসানের ফলে পুঁজিবাদী সমাজের আর্বিভাব ঘটে। এই পুঁজিবাদী সমাজে এসেই সবাই তাত্ত্বিকভাবে মুক্ত হয় এবং এ পর্যায়ে সমাজব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটে। যেমনটি আমরা উদ্দীপকে লক্ষ করি।
উপরের আলোচনায় এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, পুঁজিবাদী সমাজে পদার্পণের জন্য ব্যক্তিকে শ্রেণি সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আসতে হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বেরই প্রতিচ্ছবি।
লোকরীতি হচ্ছে সমাজের আদর্শ বা মানসম্পন্ন আচরণ যা সমাজের সদস্যদের জন্যে অবশ্য পালনীয়।
সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি ।
মানুষের চিন্তাভাবনা, শিল্প-সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, রাজনীতি, নীতিবোধ প্রভৃতি হচ্ছে অবস্তুগত সংস্কৃতি। অগবার্নের মতে, ধর্ম, ভাষা, সাহিত্য, বিশ্বাস, মানসিকতা, মূল্যবোধ প্রভৃতি হলো অবস্তুগত সংস্কৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!