'বঙ্গবাণী' কবিতাটি কবির 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
'সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি' বলতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করে যারা বাংলা ভাষাকে ঘৃণা করে তাদের জন্মপরিচয় নিয়ে কবি যে সন্দিহান সেই বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
সতেরো শতকে এক শ্রেণির লোক এ দেশ, নিজের ভাষা, নিজের সংস্কৃতি এমনকি নিজের আসল পরিচয় সম্পর্কে বিভ্রান্ত ছিল। তারা বাংলাকে 'হিন্দুর অক্ষর' বিবেচনা করে ঘৃণা করত এবং আরবি-ফারসি ভাষায় কথা বলতে পছন্দ করত। নিজের মাতৃভাষাকে ঘৃণা করা এসব শেকড়হীন, পরগাছা স্বভাবের মানুষ সম্পর্কে কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। মূলত ঐ বাক্যটির মাধ্যমে বাংলা ভাষাবিদ্বেষীদের কবি কটাক্ষ করে তাদের বোধোদয় ঘটাতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের মুকুল সাহেব 'বঙ্গবাণী' কবিতার একশ্রেণির মানুষের মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করার দিকটির প্রতিনিধিত্ব করে।
মাতৃভাষায় কথা বলা মানুষের জন্মগত অধিকার। মাতৃভাষার মাধ্যমেই মানুষ যথাযথভাব মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। আবার অনেকে আছে মাতৃভাষাকে সম্মান করে না। যারা মাতৃভাষার পরিবর্তে অন্য ভাষাকে গুরুত্ব দেয় তারা নীচ ও হীন প্রকৃতির লোক।
উদ্দীপকের মুকুল সাহেব তার একমাত্র ছেলেকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ান। তিনি গর্ব করে বলেন যে, তার ছেলে বাংলা বলতেই পারে না। তার এমন আচরণের মধ্য দিয়ে মাতৃভাষাকে উপেক্ষার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। 'বঙ্গবাণী' কবিতায়ও কবি এমন মানুষের কথা বলেছেন যারা সংকীর্ণমনা। যারা বাংলায় জন্মে বাংলা ভাষাকে উপেক্ষা করত কবি তাদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। কারণ তারা মাতৃভাষা বাংলাকে 'হিন্দুর অক্ষর' বলে উপেক্ষা করেছে। এভাবে উদ্দীপকের মুকুল সাহেব 'বঙ্গবাণী' কবিতার মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করার দিকটির প্রতিনিধিত্ব করে।
উদ্দীপকের রাজু সাহেবের উক্তিটি 'বঙ্গবাণী' কবিতার কবির মনোভাবের ধারক। উক্তিটি যথার্থ।
বাঙালির মুখের ভাষা বাংলা। বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্য সবকিছুই এই ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত। মাতৃভাষার প্রতি তাই সবার মমত্ববোধ থাকা উচিত।
'বঙ্গবাণী' কবিতায় কবি আবদুল হাকিম বাংলা ভাষার প্রতি গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। তিনি মাতৃভাষায় কাব্যচর্চাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। মাতৃভাষা বাংলাকে যারা অবজ্ঞা করেছে কবি তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। কবি মনে করেন, যে ভাষা সবার বোধগম্য সেই মাতৃভাষাই মানুষের জন্য হিতকর। কারণ মাতৃভাষায় বর্ণিত বক্তব্য আমাদের মর্ম স্পর্শ করে। উদ্দীপকের রাজু সাহেবের বক্তব্যের মধ্যে দিয়েও মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। তার মতে মাতৃভাষা ব্যবহার করেই জাতি প্রকৃত মর্যাদা ও উন্নতি লাভ করতে পারে।
উদ্দীপকের রাজু সাহেব এবং 'বঙ্গবাণী' কবিতার কবির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মাতৃভাষার গুরুত্ব এবং এ ভাষার প্রতি ভালোবাসার দিকটিই প্রকাশ পেয়েছে। তাদের উভয়ের চেতনা অভিন্ন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!