মুন্সীগঞ্জ জেলায় গত বছর আলুর উৎপাদনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। কৃষি কর্মকর্তার পরিদর্শনে দেখা যায় জলবায়ুর প্রভাবে আলুর উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ঘন কুয়াশায় রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ার প্রেক্ষিতে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে বেশকিছু আধুনিক কলাকৌশল গ্রহণ করে। এর ফলে এ বছর কৃষক সাফল্যজনকভাবে আলুর ফলন পেয়েছে।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রভাব এবং ফসল জন্মানোর সময়ের কথা বিবেচনা করে প্রতি বছরের জন্যে শস্য উৎপাদনের সময়কে বিভিন্ন মৌসুমে ভাগ করাই হলো কৃষি মৌসুম।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

মৌসুমি বায়ুপ্রবাহের দ্বারা সৃষ্ট জলবায়ুকে মৌসুমি জলবায়ু বলে। পরিমিত বৃষ্টিপাত, মধ্যম শীতকাল ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল বাংলাদেশের মৌসুমি জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। শীতকালে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত বায়ুতে বেশি পরিমাণে জলীয়বাষ্প থাকে না, ফলে তেমন বৃষ্টিপাত হয় না। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে (এপ্রিল-আগস্ট) দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত মৌসুমি বায়ুতে যথেষ্ট জলীয়বাষ্প থাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। তাছাড়া মার্চ-এপ্রিল মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ ঝড় ও ঘূর্ণিঝড় হতে দেখা যায়। এটি কালবৈশাখী ঝড় নামে পরিচিত। এ ঝড়ের সাথে প্রায়ই শিলাবৃষ্টি হয়ে থাকে। এছাড়া গ্রীষ্মকালে সমুদ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। যার ফলে মাঝে মাঝে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে মুন্সিগঞ্জ জেলায় গত বছর আলুর ফলন ব্যাহত হয়েছে। শিশির ও কুয়াশা বাতাসের আর্দ্রতা বাড়িয়ে ফসলে রোগ ও পোকার বিস্তার ঘটায়, গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত করে, ফলন কমে যায়। ঘন কুয়াশায় আলুর মড়ক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। Phytophthora infestans নামক ছত্রাক ঘন কুয়াশাযুক্ত আবহাওয়ায় ২-৩ দিনের মধ্যে আলুর জমির অধিকাংশ ফসল আক্রান্ত করে ফেলে। ভোরের দিকে আক্রান্ত আলু পাতার নিচে সাদা পাউডারের মতো ছত্রাক চোখে পড়ে। আক্রান্ত ক্ষেতে পোড়া গন্ধ পাওয়া যায় এবং মনে হয় জমির ফসল পুড়ে গেছে। এভাবে মাঠের সমস্ত ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি অল্প আক্রান্ত গাছের আলু গুদামজাত করার পরেও নষ্ট হয়ে যায়।

অতএব, ঘন কুয়াশায় রোগ বিস্তারের অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকার কারণে গত বছর আলুর ফলন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের মুন্সিগঞ্জ জেলার কৃষকেরা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী আলু চাষে আধুনিক কলাকৌশল গ্রহণ করে। আলু বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় আলুর রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আধুনিক কলাকৌশল অবলম্বন করার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

আগাম আলু চাষ অর্থাৎ ১৫ নভেম্বরের মধ্যে আলু রোপণ অথবা আগাম জাত চাষের মাধ্যমে এ রোগের মাত্রা অনেকটা কমানো সম্ভব। রোগ সহনশীল জাত যেমন- বারি আলু-১৩, বারি আলু-৪৬, বারি আলু-৫৩, বারি আলু-৭৭ ইত্যাদি চাষ চাষ করা যেতে পারে। এছাড়া রোগমুক্ত প্রত্যায়িত বীজ ব্যবহার করা যেতে পারে। আলুর সারি হতে সারির দূরত্ব ৬০ সেন্টিমিটার এবং প্রতি সারিতে আলু হতে আলুর দূরত্ব আস্ত বীজ আলুর ক্ষেত্রে ২৫ সেন্টিমিটার আর কাটা আলুর ক্ষেত্রে ১৫ সেন্টিমিটার অনুসরণ করতে হয়। আলুর সারিতে ভালোভাবে মাটি উঁচু করে দিতে হয়। সেচের পর আলু গাছের গোড়ার মাটি সরে গেলে তা পুনরায় ঢেকে দিতে হয়। যে সকল অঞ্চলে লেইট ব্লাইট রোগ প্রায়ই হয় সে সকল স্থানে আলুর গাছ ৮- ১০ সেমি হলেই তাতে বোর্দোমিক্সার বা ডায়াথেন এম-৪৫ ছিটাতে হয়। এর পরে ২০-২৫ দিন অন্তর ছত্রাকনাশক নিয়মিতভাবে ছিটালে রোগাক্রমণের আশঙ্কা থাকে না। নিম্ন তাপমাত্রা, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া ও বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়ার সাথে সাথে রোগ প্রতিরোধের জন্য ৭-১০ দিন অন্তর ম্যানকোজেব গ্রুপের অনুমোদিত অন্যান্য ছত্রাকনাশক যেমন- ইন্ডোফিল এম-৪৫ বা পেনকোজেব ৮০ ডব্লিউপি প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করে গাছ ভালোভাবে ভিজিয়ে দিয়ে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

অতএব, সফলভাবে আলুর ফলন পেতে কৃষি কর্মকর্তার দেওয়া পরামর্শ যথার্থ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
227

Related Question

View All
উত্তরঃ

জিটিআই বা গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে কর্মমুখী করার লক্ষ্যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠান।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
427
উত্তরঃ

কৃষি ডাইরি কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক প্রকাশিত ডাইরি যেখানে আধুনিক কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের উল্লেখ থাকে।

বর্তমান গবেষণার ফলাফল ও আধুনিক কৃষির তথ্য উপাত্ত, যেমন- বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত, বীজ, সারের মাত্রা, সেচ, বালাইনাশক, সর্বশেষ প্রযুক্তি, বিভিন্ন পরিসংখ্যান ইত্যাদি তথ্য এ ডাইরিতে পাওয়া যায়। এ ডাইরিতে কৃষি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থা, ব্যক্তি, সমিতি, সংগঠন ইত্যাদির ফোন/ফ্যাক্স নম্বর, ই- মেইল, ওয়েবসাইটসহ প্রয়োজনীয় যোগাযোগের ঠিকানা থাকে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
458
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আয়োজনটি হলো উঠোন বৈঠক। সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে এলাকার কোনো একজন কৃষকের বাড়ির উঠোনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যাতে আশেপাশে বসবাসরত ৫০-৬০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন। এখানে কৃষকেরা তাদের কৃষি সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে মূলত এই বৈঠক আয়োজন করা হয়। একটি এলাকার কৃষকদের মধ্যে সম্প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন কৃষি সমস্যা সমাধান করে থাকে উঠোন বৈঠক। উঠোন বৈঠকে কোনো কৃষক যদি তার কৃষি সংক্রান্ত সমস্যা উত্থাপন করেন তবে অন্যান্য কৃষক তাকে সেই সংক্রান্ত সমাধান দিয়ে থাকেন। মাঝেমাঝে কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অনেক সময় এমন সব সমস্যার উদ্ভব হয়, যা এলাকার সব কৃষক একসাথে মিলে সমাধান করেন। যেমন- খরাকালীন সময়ে সেচ সমস্যা, ফসলে রোগ বা পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ করা, মূল্যবান কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়, নতুন কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ ও বর্জন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি। উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষি কর্মকর্তা সহজেই কোনো এলাকার কৃষি সংক্রান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকেন। যার মাধ্যমে অল্প সময়ে তিনি কৃষকদের কৃষি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান ও নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন।

তাই বলা যায়, কৃষি সেবা প্রাপ্তিতে উঠোন বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
336
উত্তরঃ

উদ্দীপকের কৃষি কর্মকর্তা বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী দিবা দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে ফসল চাষ করতে পরামর্শ দেন। দিবা দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে ফসলকে ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়- 

i. স্বল্প দিবস ফসল 

ii. দীর্ঘ দিবস ফসল ও 

iii. দিবস নিরপেক্ষ ফসল।

যেসব ফসলের পুষ্পায়নের জন্য স্বল্পকালীন সময়ব্যাপী দিবালোক প্রয়োজন হয়, সেসব ফসলকে স্বল্প দিবস ফসল বলে। যেমন- ফুলকপি, সরিষা, আমন ধান ইত্যাদি। সাধারণত এসব ফসলের ফুল উৎপাদনের জন্য ১২ ঘণ্টার কম অর্থাৎ, গড়ে ৯-১১ ঘণ্টা দিবালোকের প্রয়োজন হয়। যেসব ফসলের পুষ্পায়নের জন্য দীর্ঘ দিবালোকের প্রয়োজন হয় সেসব ফসলকে দীর্ঘ দিবস ফসল বলে। যেমন- মুলা, আলু ইত্যাদি। এসব ফসলের ফুল উৎপাদনের জন্য দৈনিক ১২ ঘণ্টার বেশি দিবা দৈর্ঘ্য ও অল্প সময়ের অন্ধকারের প্রয়োজন পড়ে। আবার, যেসব ফসলের পুষ্পায়নের উপর দিবা দৈর্ঘ্যের কোনো প্রভাব পড়ে না তাদের দিবস নিরপেক্ষ ফসল বলে। যেমন- আউশ ধান, আমন ধান, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি। কারণ এগুলোর ফুল-ফল উৎপাদনে দিবা দৈর্ঘ্যের প্রভাব কম থাকায় এগুলো আলোক স্থিতিকাল দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

অর্থাৎ, ফসলের ফুল ধারণের ওপর দিবালোকের প্রভাব বিবেচনা করে চাষ করলে সব ধরনের ফসল ফলানো সম্ভব। অতএব, কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শটি যথার্থ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
646
উত্তরঃ

বসতবাড়ির আশেপাশে, রাস্তার পাশে, পতিত জমিতে, রেললাইনের পাশে, প্রতিষ্ঠানের আশেপাশেসহ বিভিন্ন সামাজিক এলাকায় যে বন গড়ে উঠেছে তাকে সামাজিক বন বলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
335
উত্তরঃ

মাটিতে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্বের ঋণাত্মক লগারিদমকে মাটির অম্লমান বা মাটির pH বলে। এটি মাটির একটি রাসায়নিক ধর্ম। মাটির অম্লমান বা pH ১-১৪ সংখ্যা দ্বারা উল্লেখ করা হয়। কোনো মাটির pH ৭.০ হলে তাকে প্রশম মাটি ধরা হয় আবার মাটির pH ৭.০ এর নিচে গেলে উক্ত মাটিতে অম্লত্ব সৃষ্টি হয় এবং pH ৭.০ এর উপরে উঠে গেলে মাটিতে ক্ষারত্ব দেখা যায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
990
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews