মুহম্মদ ঘুরীর সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবেকের আদেশক্রমে তুর্কী বার ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী ১২০৪ সালে মাত্র ১৭-১৮ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে বাংলার শেষ স্বাধীন সেন বংশের রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন। বখতিয়ার খলজীর বাংলা অধিকারের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়। তিনি দিনাজপুরের দেবকোটে বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
১. প্রাথমিক যুগ ও দিল্লি সালতানাতের অধীনস্থ বাংলা (১২০৪–১৩৩৮)
এই সময়ে বাংলা সরাসরি দিল্লির সুলতানদের অধীনে ছিল অথবা দিল্লির প্রতিনিধিরা এখান শাসন করতেন।
বখতিয়ার খলজী: ১২০৪ সালে সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলার একাংশ (লখনৌতি) জয় করেন।
সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজী: তিনি বাংলার রাজধানী দেবকোটে স্থানান্তর করেন এবং নৌবাহিনী গড়ে তোলেন।
বালবনের সময়: দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের সময় তাঁর পুত্র বুঘরা খাঁ বাংলার সুবাদার ছিলেন।
২. স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮–১৫৭৬)
এই ২০০ বছর বাংলা দিল্লির শাসন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত এবং স্বাধীন ছিল। একে বাংলার ইতিহাসের 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়।
ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ: ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁওয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি বাংলায় প্রথম স্বাধীন সুলতান হিসেবে স্বীকৃত।
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ: তিনি 'শাহ-ই-বাঙালা' উপাধি ধারণ করেন এবং ছোট ছোট ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত বাংলাকে ঐক্যবদ্ধ করে 'বাঙালা' নাম দেন। তাঁর বংশকে বলা হয় ইলিয়াস শাহী বংশ।
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ: তিনি ছিলেন হোসেন শাহী বংশের শ্রেষ্ঠ সুলতান। তাঁর আমলে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ব্যাপক উন্নতি হয়। তাঁকে 'নৃপতি তিলক' ও 'জগৎভূষণ' বলা হতো।
৩. মুঘল ও নবাবী আমল (১৫৭৬–১৭৫৭)
আকবরের সময় থেকে শুরু করে ব্রিটিশদের ক্ষমতা দখল পর্যন্ত এই সময়কাল।
আকবরের বাংলা বিজয় (১৫৭৬): রাজমহলের যুদ্ধে দাউদ খান কররানিকে পরাজিত করে মুঘলরা বাংলা জয় করে।
ইসলাম খাঁ ও ঢাকা: সম্রাট জাহাঙ্গীরের সুবাদার ইসলাম খাঁ ১৬১০ সালে ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন এবং বারো ভূঁইয়াদের দমন করেন।
নবাবী আমল: ১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খাঁ কার্যত স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন শুরু করেন।
পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭): ২৩শে জুন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে এবং ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
রাজবংশ/শাসক
বিশেষ অবদান
বখতিয়ার খলজী
বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা (১২০৪ খ্রি.)।
ইলিয়াস শাহ
বাংলার নাম 'বাঙালা' হিসেবে প্রচলন করেন।
খান জাহান আলী
দক্ষিণ-বঙ্গে (বাগেরহাট) ইসলাম প্রচার ও স্থাপত্য নির্মাণ।
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
শ্রীচৈতন্যের সমসাময়িক, বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক।
শায়েস্তা খাঁ
চট্টগ্রাম জয় (১৬৬৬) এবং চালের দাম ১ টাকায় ৮ মণ।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন:
বাংলার মুসলিম শাসনামলের স্থাপত্যগুলো আমাদের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ:
আদিনা মসজিদ: পান্ডুয়ায় অবস্থিত (সুলতান সিকান্দার শাহ কর্তৃক নির্মিত)।
ষাট গম্বুজ মসজিদ: বাগেরহাটে (খান জাহান আলী কর্তৃক নির্মিত)।
লালবাগ কেল্লা: ঢাকায় (মুঘল স্থাপত্য, শাহজাদা আজম ও শায়েস্তা খাঁ কর্তৃক নির্মিত)।
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!