মেয়ের বিয়ে নিয়ে বাবার উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। সমাজ এখনও কালো কিংবা শ্যামলা মেয়েদের পছন্দ করতে চায় না। হাশেম সাহেবের মেয়ে তাহমিনার গায়ের রং কালো হওয়ায় এ নিয়ে পরপর চার বার বিয়ে ভেঙে যায়। তাই তাহমিনা বিয়ের পিঁড়িতে বসার চিন্তা পরিহার করে নারী শিক্ষার উন্নয়নে জীবন উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

"মন্দ নয় হে! খাঁটি সোনা বটে।"—উক্তিটি নিরুপমার বাবার।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

"আমাকে একটি কথা বলাও তিনি আবশ্যক বোধ করিলেন না" উক্তিটির মাধ্যমে বক্তা অপর একজন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত উপেক্ষা এবং অবজ্ঞার বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। এর দ্বারা বোঝানো হচ্ছে যে, অন্য ব্যক্তিটি বক্তাকে এতটুকুও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেননি যে, কোনো বিষয়ে তার সাথে আলোচনা করা বা তাকে অবহিত করা প্রয়োজন।

এই উক্তিটি সাধারণত তখন ব্যবহৃত হয় যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা ঘটনা সম্পর্কে বক্তাকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়, যেখানে বক্তার জানার বা মতামত দেওয়ার অধিকার ছিল। এটি সম্পর্কের মধ্যে অবিশ্বাস, দূরত্ব, অথবা বক্তার প্রতি অপর ব্যক্তির চরম উদাসীনতা ও অসম্মানবোধকে তুলে ধরে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের তাহমিনার বিয়ে ভাঙার ক্ষেত্রে গায়ের রঙের প্রসঙ্গটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'অপরিচিতা' গল্পের সেই সামাজিক কুসংস্কার ও সংকীর্ণ মানসিকতাকে মনে করিয়ে দেয়, যেখানে নারীর বাহ্যিক সৌন্দর্য ও বংশমর্যাদাকে বিবাহের মূল মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়।

'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের মামা যৌতুকের লোভে শম্ভুনাথ সেনের দেওয়া কনেকে প্রত্যাখ্যান করতে চেয়েছিল এবং এক পর্যায়ে শম্ভুনাথ বাবু নিজেই অনুপমকে প্রত্যাখ্যান করে তার আত্মমর্যাদার পরিচয় দেন। এখানে বিবাহের ক্ষেত্রে বরের পরিবারের মানসিকতা ছিল নারীর গুণ বা যোগ্যতা নয়, বরং তার ধনসম্পদ এবং বংশমর্যাদা। তৎকালীন সমাজে মেয়েদের গায়ের রঙ, রূপ বা আর্থিক অবস্থান দিয়ে বিচার করার যে প্রবণতা ছিল, সেই বিষয়টি গল্পে পরোক্ষভাবে বিদ্যমান।

আলোচ্য উদ্দীপকে তাহমিনার গায়ের রঙ কালো হওয়ায় পরপর চারবার তার বিয়ে ভেঙে যায়। এই ঘটনা 'অপরিচিতা' গল্পের সেই দিকটিকে তুলে ধরে, যেখানে নারীকে তার বাহ্যিক রূপ, বিশেষ করে গায়ের রঙ দিয়ে বিচার করা হয়, যা একটি সুস্থ ও প্রগতিশীল সমাজের জন্য অন্তরায়। তাহমিনার এই অভিজ্ঞতা সমাজে নারীর প্রতি বিদ্যমান এই সংকীর্ণ ও অযৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটায়। তবে তাহমিনা বিয়ের পিঁড়িতে না বসে নারীশিক্ষায় জীবন উৎসর্গ করার যে সিদ্ধান্ত নেয়, তা যেন আত্মমর্যাদাশীল কল্যাণীদের এক নতুন রূপে আত্মপ্রকাশের দৃষ্টান্ত। কল্যাণী যেমন অনুপমকে প্রত্যাখ্যান করে নিজের ব্যক্তিত্ব ও স্বাধীনচেতা মনোভাবের পরিচয় দিয়েছিল, তেমনি তাহমিনাও সমাজের এই ভ্রান্ত ধারণাকে উপেক্ষা করে বৃহত্তর মানবকল্যাণে নিজেকে যুক্ত করে এক দৃঢ় প্রত্যয়ের পরিচয় দেয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রদত্ত মন্তব্যটি নারীর সামাজিক জীবনে বিদ্যমান নানা প্রতিবন্ধকতা কীভাবে তাদের ব্যক্তিসত্তার জাগরণে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, তার একটি গভীর তাৎপর্য বহন করে। সমাজ, লিঙ্গবৈষম্য বা অন্যান্য সীমাবদ্ধতা নারীর আত্মবিকাশের পথে বাধা সৃষ্টি করলেও, অনেক সময় এই বাধাই তাদের ভেতরের সুপ্ত শক্তিকে জাগিয়ে তোলে এবং তাদের নতুন পথ খুঁজে নিতে উদ্বুদ্ধ করে।

উদ্দীপকের তাহমিনা চরিত্রটি এই মন্তব্যের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। গায়ের রঙের কারণে সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল এবং পরপর চারবার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মতো যে চরম সামাজিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন তাকে হতে হয়েছিল, তা তাকে দুর্বল করে তোলেনি। বরং এই তিক্ত অভিজ্ঞতা তাহমিনাকে প্রথাগত বিয়ের পিঁড়ি এড়িয়ে আত্মমর্যাদাশীল হতে এবং নারী শিক্ষার উন্নয়নে জীবন উৎসর্গ করার মতো মহৎ সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। এটি তার ব্যক্তিসত্তার এক অসাধারণ জাগরণ, যা সামাজিক প্রতিকূলতার প্রত্যক্ষ ফল।

একইভাবে, বাংলা সাহিত্যের চিরস্মরণীয় চরিত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীও সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে স্বীয় সত্তার উন্মোচন ঘটিয়েছেন। যৌতুকের কারণে তার বিবাহ ভেঙে যাওয়ার অপমানে তিনি ভেঙে না পড়ে বরং আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এই প্রতিকূলতা তাকে শিক্ষাব্রতী হতে এবং বৃহত্তর সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে প্রেরণা জুগিয়েছে। তাহমিনা ও কল্যাণী উভয় চরিত্রই প্রমাণ করে যে, সামাজিক কুপ্রথা, বৈষম্য বা ব্যক্তিগত অবহেলা নারীকে বিপর্যস্ত না করে বরং তাদের ভেতরের সুপ্ত প্রতিবাদী সত্তাকে জাগিয়ে তোলে এবং তাদের কর্মমুখী ও স্বাবলম্বী করে তোলে।

পরিশেষে বলা যায়, নারীর জীবন পথের নানাবিধ সামাজিক বাধা-বিপত্তি তাদের আত্মানুসন্ধান ও ব্যক্তিসত্তার জাগরণে এক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। তাহমিনা ও কল্যাণী চরিত্রদ্বয় তাদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিবন্ধকতাকে শক্তি ও অনুপ্রেরণায় রূপান্তরিত করে নিজেদেরকে মহিমান্বিত করেছেন। তাই, "নারীর নানাবিধ সামাজিক প্রতিবন্ধকতা তাহমিনা ও কল্যাণী চরিত্রের ব্যক্তিসত্তার জাগরণের অনুঘটক" - মন্তব্যটি সর্বাংশে যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
150

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি ।

তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল 

তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল /

তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন

অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন

পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন

তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন ।

জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা 

কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা ।

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে ।

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে ।

আমি উচ্চারিত সত্যের মতো

স্বপ্নের কথা বলছি ।

উনোনের আগুনে আলোকিত

একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলছি । 

আমি আমার মায়ের কথা বলছি,

তিনি বলতেন প্রবহমান নদী

যে সাঁতার জানে না তাকেও ভাসিয়ে রাখে

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে নদীতে ভাসতে পারে না

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে মাছের সঙ্গে খেলা করতে পারে না।

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে মায়ের কোলে শুয়ে গল্প শুনতে পারে না ।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি ।

আমি বিচলিত স্নেহের কথা বলছি

গর্ভবতী বোনের মৃত্যুর কথা বলছি

আমি আমার ভালোবাসার কথা বলছি । 

ভালোবাসা দিলে মা মরে যায় / *

যুদ্ধ আসে ভালোবেসে

মায়ের ছেলেরা চলে যায়,

আমি আমার ভাইয়ের কথা বলছি ।

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে সন্তানের জন্য মরতে পারে না ।

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে ভালোবেসে যুদ্ধে যেতে পারে না ।

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে সূর্যকে হৃৎপিণ্ডে ধরে রাখতে পারে না ।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি ।

তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল

কারণ তিনি ক্রীতদাস ছিলেন ।

যে কর্ষণ করে

শস্যের সম্ভার তাকে সমৃদ্ধ করবে।

যে মৎস্য লালন করে

প্রবহমান নদী তাকে পুরস্কৃত করবে।

যে গাভীর পরিচর্যা করে

জননীর আশীর্বাদ তাকে দীর্ঘায়ু করবে ।

যে লৌহখণ্ডকে প্রজ্বলিত করে ইস্পাতের তরবারি তাকে সশস্ত্র করবে ।

দীর্ঘদেহ পুত্রগণ

আমি তোমাদের বলছি ।

আমি আমার মায়ের কথা বলছি

বোনের মৃত্যুর কথা বলছি

যুদ্ধের কথা বলছি

আমি আমার ভালোবাসার কথা বলছি ।

আমি কবি এবং কবিতার কথা বলছি ।

 সশস্ত্র সুন্দরের অনিবার্য অভ্যুত্থান কবিতা

সুপুরুষ ভালোবাসার সুকণ্ঠ সংগীত কবিতা

জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি মুক্ত শব্দ কবিতা

রক্তজবার মতো প্রতিরোধের উচ্চারণ কবিতা ।

আমরা কি তাঁর মতো কবিতার কথা বলতে পারবো

আমরা কি তাঁর মতো স্বাধীনতার কথা বলতে পারবো ।

[সংক্ষেপিত]

Related Question

View All
উত্তরঃ

“তার পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল” উক্তিটি জাহানারা ইমাম রচিত ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থে শহীদ রুমিকে পাক-হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রুমিকে আটক করে তার উপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিল। এই নির্যাতনের ফলে রুমির পিঠে তীব্র লালচে রঙের গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল, যা রক্তজবার তীব্র লাল রঙের সঙ্গে তুলনীয়।

এই উপমাটি পাকিস্তানি বাহিনীর অমানবিক পাশবিকতা এবং মুক্তিকামী বাঙালির উপর তাদের সীমাহীন অত্যাচারের প্রতীকী প্রকাশ। রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল রুমির আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার এক মর্মান্তিক দলিল। এটি একদিকে যেমন পাকিস্তানি সৈন্যদের বর্বরতাকে ফুটিয়ে তোলে, তেমনি অন্যদিকে রুমির মতো অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার আত্মদান ও অকথ্য যন্ত্রণাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, যা স্বাধীনতার জন্য অপরিহার্য ছিল।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
1.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews