মোক্ষ কথাটির মানে হচ্ছে চিরমুক্তি লাভ। জন্ম ও মৃত্যুর চক্র' থেকে মুক্তি। জীবের আত্মা ঈশ্বর বা পরমাত্মার অংশ, চিরমুক্তি লাভ করে জীবাত্মা ঈশ্বর বা পরমাত্মার সঙ্গে মিলে যায়। তখন আর জন্মগ্রহণ করতে হয় না। একেই বলে মোক্ষ।
হিন্দুধর্ম একটি সুপ্রাচীন ধর্ম। এ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কোনো একজন মাত্র ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় না। বহু সাধকের সাধনায় এ ধর্ম বিকশিত হয়ে চলছে। ঈশ্বরের স্বরূপ, তাঁর প্রতি বিশ্বাস, কর্মবাদ, জন্মান্তর, অবতারতত্ত্ব, দেব- দেবীর পূজা, মোক্ষলাভ, নারীর প্রতি মর্যাদাবোধ এগুলো হিন্দুধর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এসকল বৈশিষ্ট্যের মধ্য দিয়েই হিন্দুধর্মের স্বরূপ উপলব্ধি ও ব্যাখ্যা করা যায়।

আবার হিন্দুধর্মের স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমরা হিন্দুধর্মের ভিত্তিস্বরূপ কতিপয় বিশ্বাস ও ধর্মকৃত্যের সঙ্গে পরিচিত হই।
এ অধ্যায়ে দুটি পরিচ্ছেদে যথাক্রমে হিন্দুধর্মের স্বরূপ ও ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- হিন্দুধর্মের স্বরূপ-বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করতে পারব
- হিন্দুধর্মের বৈশিষ্ট্য হিসেবে ঈশ্বরতত্ত্ব, ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি ও বিশ্বাসের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
- হিন্দুধর্মের কতিপয় মৌলিক বিশ্বাসের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব (যেমন-কর্মবাদ ও জন্মান্তরবাদ জগতের কল্যাণ এবং মোক্ষ)
- ধর্মকৃত্য হিসেবে উপাসনা পদ্ধতি, পূজা, ধর্মাচার ও সংস্কার ব্যাখ্যা করতে পারব
- ধর্মবিশ্বাস হিসেবে কর্মবাদ ও জন্মান্তরবাদ ধারণা দুটি ব্যাখ্যা করতে পারব
- কর্মফল ও জন্মান্তর সম্পর্কে একটি ধর্মীয় উপাখ্যান ও তার শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব
- ধর্মীয় শিক্ষার আলোকে নারীর মর্যাদার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
- নারীর মর্যাদা প্রদানে করণীয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারব
- কর্মবাদ ও জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস রেখে ত্যাগী হয়ে শুভকর্মে লিপ্ত থাকব
- নারীর প্রতি মর্যাদা ও শ্রদ্ধা পোষণ করব।
Related Question
View Allমোক্ষ' কথাটির মানে হচ্ছে চিরমুক্তি লাভ।
কর্মবাদ ও জন্মান্তর হিন্দুধর্মের দুটি ভিত্তি।
চলতি জন্মে কর্মফলের ভোগ যদি শেষ না হয় তাহলে কৃতকর্মের ফল ভোগের জন্যই মানুষের পুনরায় জন্ম হয়। এটিই কর্মবাদ। আর জন্মের পর মৃত্যু, মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম এটি জন্মান্তর। তাই বলা হয়, জন্মান্তরের পেছনে রয়েছে কর্মবাদ।
ঈশ্বরের বিশ্বাস আত্মমুক্তি ও জগতের হিতসাধন এগুলো হচ্ছে হিন্দুধর্মের মূল বৈশিষ্ট্য।
উদ্দীপকের অধীর বাবু তার মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন সকলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। সবার প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। এসব বৈশিষ্ট্য হিন্দুধর্মে প্রতিফলিত হয়েছে। হিন্দুধর্ম পবিত্রভাবে জীবনযাপন করতে উদ্বুদ্ধ করে। সৎ, মহৎ, সহনশীল ও মনুষ্যত্ব অর্জন করতে শিক্ষা দেয়। এক প্রকৃত ধর্ম পালনকারীর মধ্যে যেসব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান সেগুলোর সব বৈশিষ্ট্যই অধীর বাবুর চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।
হিন্দুধর্ম আমাদের মঙ্গল এবং জীবজগতের কল্যাণে নিবেদিত। এসব বৈশিষ্ট্য থেকে শিক্ষা নিয়ে যে কেউ তার জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে ও সর্বদা মনকে ঈশ্বর চিন্তায় নিবিষ্ট করে পরম শান্তি লাভ করতে পারে।
যে পরিবারে নারীর প্রতি যথাযোগ্য সম্মান বা মর্যাদা প্রদর্শন করা হয়, দেবতারা সে পরিবারে আনন্দে বাস করে।
উদ্দীপকের অধীর বাবুর মা, বোন ও স্ত্রীর প্রতি রয়েছে অগাধ ভালোবাসা। যা পঠিত বইয়ে নারীর মর্যাদার কথা মনে করিয়ে দেয়। স্বামী হিসেবে অধীর বাবু স্ত্রীকে যথেষ্ট ভালোবাসেন এবং তাকে যথেষ্ট মর্যাদা দেন। অপরদিকে মা ও বোনকে সে প্রাণাধিক ভালোবাসেন। হিন্দুধর্মে ঈশ্বরের প্রকৃতি বা শক্তি হচ্ছে নারী। এ শক্তিকে বলা হয় আদ্যা শক্তি বা মহামায়া। শক্তি ছাড়া কোনো কাজ হয় না। আর সেই শক্তির দেবী হচ্ছেন নারী। এভাবে নারী শক্তির প্রতি হিন্দুধর্মে যথেষ্ট মর্যাদা দান করা হয়েছে। এসব বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে অধীর বাবু তার মা, বোন ও স্ত্রীকে যথেষ্ট মর্যাদা দিয়েছেন।
পরিশেষে বলা যায়, আমাদের উচিত ধর্মগ্রন্থের অনুশাসন মেনে নারীর প্রতি সমতাপূর্ণ আচরণ করা। নারীর মধ্যেও আত্মারূপে - ঈশ্বর অবস্থান করেন, তাই নারীর প্রতি মর্যাদা প্রকাশ তো ঈশ্বরের - প্রতি মর্যাদা প্রকাশ করারই নামান্তর।
হিন্দুধর্মে ঈশ্বরকে নিরাকার বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রত্যেক ধর্মের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। হিন্দুধর্মেরও বিশেষ তত্ত্ব, কতকগুলো ধর্ম বিশ্বাস ও ধর্মকৃতা রয়েছে। যেগুলো হিন্দুধর্মের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। যেমন- ঈশ্বরতত্ত্ব, ঈশ্বরে বিশ্বাস ও ভক্তি, কর্মবাদ ও জন্মান্তর, অবতারবাদ, মোক্ষলাভ, জীব ও জগতের কল্যাণ ভাবনা ইত্যাদি। আর এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে হিন্দুধর্মের স্বরূপ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!