আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম 'রাত্রিশেষ'।
'সর্বত্র থাকা' বলতে কবি সমগ্র বাংলাজুড়ে তাঁর অবস্থানকে বুঝিয়েছেন।
কবি বাংলার সন্তান, বাংলা ভূখণ্ডের সবুজ শ্যামলিমায় তাঁর জন্ম। এখানে তিনি শৈশব, কৈশোর আর যৌবন কাটিয়েছেন। এ মাটিতে কবির সত্তা মিশে আছে। প্রকৃতির গাছপালা কবিকে চেনে, মাছ শিকারি মাছরাঙা কবিকে চেনে। কদম আলী আর জমিলার মা তাঁকে চেনে। 'সর্বত্র থাকা' বলতে কবি কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা গ্রামকে বোঝাননি; বরং সমগ্র বাংলাকে বুঝিয়েছেন।
উদ্দীপকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার প্রকৃতি ও জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
মানুষ আপন জন্মভূমি ও তার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠে, যা তার অস্তিত্বের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। সে যত বড়ই হোক আর যত দূরেই থাক, জন্ম-মাটির মাঝেই সে তার অস্তিত্বকে খুঁজে ফেরে। নিজেকে প্রকাশ করতে সে জন্মভূমির অবদানের কথা গৌরবের সঙ্গে ঘোষণা করে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি আপন সত্তাকে জন্মভূমির মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়েছেন। আপন দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে খ্যাতি অর্জন করতে চেয়েছেন এবং এটাই যেন তাঁর শেষ পরিচয় হয় সেই কামনা করেছেন। উদ্দীপকের এ বিষয়টি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির চেতনাকে প্রতীকায়িত করেছে। কবি নিজেকে কোনো আগন্তুক হিসেবে প্রকাশ করতে চাননি। কারণ এদেশের প্রতিটি বস্তুতে তাঁর সত্তা মিশে রয়েছে। তিনি আসমান, জমিনের ফুল, মাছরাঙা সবকিছুকে চেনেন। তিনি কদম আলী, জমিলার মায়ের মতো মানুষের চিরচেনা স্বজন। তিনি এই জনপদের মানুষকেও ভালোভাবে চেনেন। জন্মভূমির প্রতি এই গভীর সম্পর্কের বিষয়টির সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
না, উদ্দীপকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সমগ্র ভাব প্রকাশ করে না।
মানুষ তার জন্মভূমির আলো-বাতাসে, প্রকৃতির স্নেহস্পর্শে বেড়ে ওঠে। জন্মভূমির প্রতি তাই মানুষের মুগ্ধতার সম্পর্কের প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অনুভূতি একই। এই মুগ্ধতার কারণেই আমরা বারবার ছুটে যাই জন্মভূমির কাছে, মাটি ও মানুষের কাছে। সেখানে গিয়ে আমরা অনির্বচনীয় প্রশান্তি লাভ করি।
উদ্দীপকে শুধু জন্মভূমির মাটি ও মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের বিষয় এবং তাদের মাঝেই নিজের খ্যাতি লাভের ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে। কবি তার শেষ পরিচয় বা ঠিকানা হিসেবে জন্মভূমিকে গ্রহণ করতে চেয়েছেন। এ বিষয়টি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার একটিমাত্র দিক। এছাড়াও আলোচ্য কবিতায় বহুমুখী ভাবের প্রকাশ ঘটেছে।
আলোচ্য কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের আজীবন সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। তিনি নিজের অস্তিত্ব নিজের অনুভূতিকে দেশের মাটি ও মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতে চেয়েছেন। কবি এদেশের প্রকৃতির ও মানুষের চিরচেনা। জন্মভূমির প্রতিটি বস্তু তার চেনা, তিনি এখানে কোনো আগন্তুক নন। এদেশের মাটির গন্ধ লেগে আছে তাঁর শরীরে। অতি পরিচিত কদম আলী, জমিলার মা তাঁকে চেনে। এদেশ তাঁর অস্তিত্ব। কবিতার এসব বিষয় উদ্দীপকে সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপিত হয়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সমগ্র ভাব প্রকাশ করে না।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!