মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অত্যাবশ্যকীয় চাহিদাগুলোকে (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা বিনোদন ইত্যাদি) মৌলিক চাহিদা বলে।
কৃষির সঙ্গে সংস্কৃতির সম্পর্ক রয়েছে। মানব সমাজের ইতিহাস এগিয়েছে মানুষের কৃষিকাজ শুরু করার মাধ্যমে। মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, আবাসন ইত্যাদি মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য কৃষিকে প্রধান উৎপাদন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। জীবনকে নিরাপদ ও আনন্দঘন করার জন্য মানুষের হাজার বছরের ক্রমাগত প্রচেষ্টা চলেছে। এর মধ্য দিয়েই নানা পরিবেশে নানা আঞ্চলিক ও জাতিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে। উৎপাদন কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত মানুষের এই অর্জনগুলোই ক্রমে ঐ মানবগোষ্ঠীর সংস্কৃতি হিসেবে গণ্য হয়েছে। কৃষি ও সংস্কৃতির এই আন্তঃসম্পর্কই এই অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা -
- পরিবার ও সমাজ গঠনে কৃষির ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি এবং কৃষকের উপর মানুষের নির্ভরশীলতার সম্পর্ক স্থাপন করতে পারব;
- কৃষি পরিবেশ ও ঋতু পরিবর্তনের সাথে কৃষি উৎপাদনের সম্পর্ক স্থাপন করতে পারব;
- কৃষির বৈচিত্র্যপূর্ণ উৎপাদন বর্ণনা করতে পারব;
- সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে কৃষি মৌসুমের সম্পর্ক তৈরি করতে পারব।
Related Question
View Allকৃষিকে পেশা হিসেবে নেওয়ার আগে মানুষ ২টি উপায়ে, যথা-পশুপাখি শিকার অথবা ফলমূল আহরণ করে খাদ্য সংগ্রহ করত।
কতদিনের দৈর্ঘ্যের তারতম্যের কারণে বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন ফসল জন্মায়। কিন্তু কলা সব ঋতুতে জন্মায়, কারণ দিনের দৈর্ঘ্যের তারতম্য কলার ফুল ধারণের ওপর কোন প্রভাব ফেলে না। তাই কলাকে ঋতু নিরপেক্ষ ফল বলা হয়।
উদ্দীপকে রফিকের কৃষিজ সম্পদ বলতে একটি ছোট্ট বসতবাড়ি, ভর মাঝারি আকারের পুকুর ও ৫০ শতাংশ ফসলি জমি ছিল।
রফিক তাঁর চাচার পরামর্শমতো কৃষিজ সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহারের দ উদ্যোগ নেন। তিনি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। উৎপাদিত মাছের ৬ মাধ্যমে তাঁর পরিবারের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ হয়। অতিরিক্ত মাছ নয় তিনি বাজারে বিক্রি করেন, যার ফলে তাঁর অর্থনৈতিক সংকট দূর হয়। পরবর্তীতে রফিক তাঁর জমিতে ঋতুভিত্তিক ও লাভজনক ফসলের চাষাবাদ ২ শুরু করেন। এক্ষেত্রেও পারিবারিক খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জন অতিরিক্ত ফসল বিক্রি করে তিনি বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হন।
অর্থাৎ, রফিক উল্লিখিত উপায়ে তাঁর কৃষিজ সম্পদের বহুমাত্রিক ব্যবহার জন করে লাভবান হয়েছিলেন।
রফিক তাঁর পুকুরে মাছ চাষ ও ৫০ শতাংশ জমিতে ফসল আবাদের উদ্যোগ নেন।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বাংলাদেশের কৃষি জমি, নদনদী ও খালবিল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে দেখা দিচ্ছে খাদ্য ও পুষ্টির ঘাটতি। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৮০ গ্রাম আমিষের প্রয়োজন অথচ আমরা বর্তমানে গড়ে মাত্র ২১ গ্রাম আমিষ পেয়ে থাকি। রফিকের পুকুরে মাছ চাষ করার উদ্যোগ তাঁর পরিবারের সদস্যদের আমিষের চাহিদা পূরণ করবে। এছাড়াও অতিরিক্ত মাছ বাজারে বিক্রির ফলে তার অর্থনৈতিক সংকট দূর হবে এবং দেশে মাছের মোট উৎপাদনের সাথে সেটা যোগ হবে। এই বাড়তি উৎপাদন দেশের খাদ্য ও পুষ্টির ঘাটতি কিছুটা হলেও কমিয়ে আনবে। জমি পতিত না রেখে যথাযথভাবে ব্যবহারের ফলে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
সুতরাং, রফিকের কৃষিজ সম্পদ ব্যবহারের উদ্যোগগুলো যুক্তিযুক্ত ও সময়োপযোগী।
মানুষ শিকারের যুগে আগুনের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ শিখেছিল।
পরিবার হলো মানব সমাজের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
খাদ্যসহ সার্বিক নিরাপত্তার প্রথম ও প্রধান কেন্দ্র হলো পরিবার। পরিবারসমূহ স্নেহ, ভালোবাসা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে সুরক্ষিত।
এছাড়া বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরা কাজ ভাগ করে নেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!