পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় এবং আদান-প্রদানকে বাণিজ্য বলে।
বিভিন্ন স্থানে সম্পদের চাহিদা থেকে বাণিজ্যের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। মানুষের প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো একই স্থানে উৎপাদন। বা তৈরি হয় না। তাই পণ্যগুলো বণ্টনের প্রয়োজন দেখা দেয়। আর তখনই বাণিজ্যের প্রয়োজন হয়।
ভৌগোলিকগত কারণে এক এক স্থানে এক এক ধরনের শস্য ভালো হয়। আবার জনসংখ্যার তারতম্যভেদে শিল্পোন্নয়ন হয়। যার কারণে উদ্বৃত্ত অঞ্চল হতে ঘাটতি অঞ্চলে পণ্যসামগ্রী পৌঁছানো হয় এবং বাণিজ্যের সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে জামাল সাহেবের সহজলভ্য ও সুলভ যাতায়াত পথ কোনো কোনো ক্ষেত্রে জলপথ আবার কোনো ক্ষেত্রে সড়কপথ ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ তিনি বরিশাল হতে চাল, দিনাজপুর হতে গম, যশোর হতে চিনি, দক্ষিণ কোরিয়া হতে হিমায়িত খাদ্য নিয়ে আসেন।
উদ্দীপকে জামাল সাহেব বরিশাল থেকে চাল আনতে নদীপথই উত্তম যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে বেছে নিবেন। কেননা বরিশালের সাথে যেকোনো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে নদীপথ দ্বারা। বিশেষ করে ঢাকার সাথে বরিশালের উত্তম যোগাযোগ বাবস্থা নদীপথ। তাই এ পথেই চাল আমদানি সুলভ ও সহজলভ্য। তিনি দিনাজপুর থেকে গম আমদানি করতে সড়কপথ অথবা রেলপথ ব্যবহার করতে পারেন। কেননা দিনাজপুর থেকে ঢাকার সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত। এরপর যশোর হতে চিনি আনতে তিনি রেলপথ ব্যবহার করতে পারেন। কারণ, ঢাকার সাথে যশোরের রেলপথের সংযোগ রয়েছে। এছাড়া রেলপথে সুলভমূল্যে অনেক বেশি মালামাল পরিবহন করা যায়। অন্যদিকে তিনি শুধু অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন নি। কেননা তিনি দেশের বাইরেও বাণিজ্য করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও অংশগ্রহণ করেছেন। যেমন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে হিমায়িত খাদ্য আমদানি করে এদেশে বিক্রি করেন। এক্ষেত্রে সমুদ্রপথ হচ্ছে সহজলভ্য ও সুলভযোগাযোগ পথ। এজন্য তিনি বিমানপথও ব্যবহার করতে পারেন।
তবে এক্ষেত্রে ব্যয়ও বেশি হবে।
সুতরাং বলা যায়, বিভিন্ন অঞ্চলভেদে ও দেশভেদে যোগাযোগ পথের সুবিধা অনুযায়ী বাণিজ্য হয়ে থাকে। আলোচ্য উদ্দীপকের জামাল সাহেব তার সুবিধা অনুযায়ী অঞ্চলভেদে এক এক ধরনের যাতায়াত পথ অবলম্বন করেন।
উদ্দীপকে জামাল সাহেবকে আমরা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের বাণিজ্যে জড়িত দেখতে পাই।
জনাব জামালের কাজগুলো কোনটি কোন ধরনের বাণিজ্য তা ছকে দেখানো হলো-
| বাণিজ্যিক অঞ্চল | বাণিজ্যের ধরন |
| i. বরিশাল হতে চাল | অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য |
| ii. যশোর হতে চিনি | অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য |
| iii. দিনাজপুর হতে গম | 'অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য |
| iv. দক্ষিণ কোরিয়া হতে হিমায়িত খাদ্য | 'অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য |
উক্ত কাজগুলোর মধ্যে বরিশাল হতে চাল, যশোর হতে চিনি এবং দিনাজপুর হতে গম অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য। কারণ কোনো একটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে পণ্যদ্রব্য ও সেবাকর্মের আদান প্রদানকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে। আবার দক্ষিণ কোরিয়া হতে হিমায়িত খাদ্য আমদানি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। কারণ যখন এক দেশের সাথে অন্য দেশের পণ্যদ্রব্য ও সেবাকর্মের ক্রয়-বিক্রয় হয় তখন তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে।
Related Question
View AllWTO এর পূর্ণরূপ হলো World Trade Organization.
শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক।
যেকোনো দেশের শিল্প স্থাপিত হলে সেখানে প্রচুর জনবল নিয়োগ হয়। একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রচুর শ্রমিক কাজ করে। বিভিন্ন বিভাগে বিভিন্ন যোগ্যতার জনবল শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকে। অর্থাৎ যে অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেশি সে অঞ্চলে কাজের সুযোগও বেশি থাকে।
তাই বলা যায় শিল্প কর্মসংস্থানের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে 'ক' দেশটি হলো বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে রপ্তানি দ্রব্যের মধ্যে বেশিরভাগই কৃষিজদ্রব্য, পাট, চা, চিংড়ি, তামাক প্রভৃতি। তবে বর্তমানে তৈরি পোশাক, কাগজ, রেয়ন প্রভৃতি দ্রব্যের মতো শিল্পজাত পণ্যও রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যের ৭৫ ভাগই শিল্প পণ্য, খনিজ তেল, ঘড়ি, ফ্রিজ, ক্যালকুলেটর প্রভৃতি। এদেশের রপ্তানির চেয়ে আমদানি পণ্যের আধিক্যই বেশি। তাই বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য সর্বদাই প্রতিকূল অবস্থায় থাকে। এদেশের নিজস্ব বিমান ব্যবস্থা ও জাহাজ কম থাকায় বৈদেশিক বিমান কোম্পানি ও জাহাজের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়।
বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে প্রতিবেশী দেশ বিশেষ করে চীন, মায়ানমার, ভারত, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। বৈদেশিক বাণিজ্য নীতি হিসেবে বাংলাদেশে রপ্তানি বৃদ্ধির প্রতি নজর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্যের গতি, বাণিজ্য এলাকার বিস্তৃতি প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ফুটে ওঠে।
উদ্দীপকে 'ক' দেশটি হলো বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক বাণিজ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের সংখ্যা যেমন কম তেমনি উৎপাদনও আশানুরূপ নয়। বাংলাদেশের অপ্রচলিত পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক আন্তর্জাতিক বাজারে খ্যাতি লাভ করেছে। তৈরি পোশাকের আইটেমের সংখ্যা বাড়িয়ে নতুন নতুন ডিজাইনের সংযোজন ঘটিয়ে এবং গুণগত মান বৃদ্ধি করে এর রপ্তানি আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। চিংড়ি বাংলাদেশের আরেকটি রপ্তানি পণ্য। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য, থাইল্যান্ড, হংকং প্রভৃতি দেশে বাংলাদেশের চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নিবিড় চাষ পদ্ধতি ও সঠিক ভূমিনীতি প্রণয়নের মাধ্যমে এদেশে চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানি বহুলাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যের কতিপয় দেশ, ভারত ও অন্যান্য দেশে বাংলাদেশের কাঁচা শাকসবজি, ফলমূল, পান, গোল আলু প্রভৃতি দ্রব্য রপ্তানি করা হয়। উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এসব দ্রব্যের রপ্তানি কাড়ানো সম্ভব। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের হস্তশিল্পজাত পণ্যদ্রব্য ক্রমশ সুনাম অর্জন করে চলছে এবং এগুলোর বাজার প্রসারিত হচ্ছে। বাঁশ, বেত, রশি, পাট, বিভিন্ন প্রকার ধাতব পদার্থ, কাঠ প্রভৃতি দ্বারা তৈরি নানা প্রকার শৌখিন হস্তশিল্পজাত দ্রব্যের ব্যাপক চাহিদা বিশ্বের অনেক দেশে রয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, বিগত প্রায় দুই দশক যাবৎ বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের গঠন ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। অপ্রচলিত পণ্যদ্রব্যের প্রাধান্য ও রপ্তানি সম্ভাবনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈদেশিক বাজার ও দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যমান পরিস্থিতিকে সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগিয়ে এসব রপ্তানি পণ্যদ্রব্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করে রপ্তানি বহুলাংশে বাড়ানো সম্ভব।
দুইটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের সীমানায় অবস্থিত অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও ক্ষুদ্র রাষ্ট্রকে বাফার রাষ্ট্র বলে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবহন ব্যয়বহুল।
পার্বত্য এলাকা ভূ-প্রকৃতি বন্ধুর। আর এ ধরনের ভূ-প্রকৃতিতে যেকোনো ধরনের পরিবহন পথ নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয় বহুল। বাংলাদেশে স্থল পরিবহনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রেলপথ ও সড়কপথ। আর এ দুই ধরনের পথের জন্য সমতল ভূমি উপযোগী। পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা উঁচু-নিচু ও পর্বতময় হওয়ায় সেখানে পরিবহন ব্যয়বহুল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!