যে কোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখো :

Updated: 2 months ago
উত্তরঃ

যশোর,
২৬ এপ্রিল, ২০২৬

প্রিয় আবিদ,
আমার প্রীতি ও ভালোবাসা নিও। আশা করি তুই রাজশাহীতে ভালো আছিস এবং পড়াশোনা ঠিকমতো চলছে। অনেকদিন হয়ে গেল আমাদের দেখা হয় না, তোর জন্য খুব মন খারাপ করে। তোকে গত সপ্তাহে যশোরাধিপতি মাইকেল মধুসূদন দত্তের পৈতৃক বাড়ি (মধুপল্লী) ভ্রমণের এক দারুণ অভিজ্ঞতার কথা জানাতেই আজ লিখতে বসেছি।

যশোর শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে কপোতাক্ষ নদের তীরে মহাকবির এই বাড়িটি অবস্থিত। আমি আব্বুর সাথে গত শুক্রবার সেখানে গিয়েছিলাম। বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই এক অদ্ভুত প্রশান্তি আমাকে গ্রাস করল। বাড়িটি আগের মতোই পুরনো ইটের গাঁথুনি এবং জমিদারী আমলের স্থাপত্যে সাজানো। বাড়িটিকে এখন যাদুঘর করা হয়েছে ।

সেখানে গিয়ে কবির ব্যবহৃত অনেক জিনিস দেখার সুযোগ হলো—তাঁর বসার ঘর, পড়ার টেবিল, বিছানা ইত্যাদি। সবচেয়ে মুগ্ধ হয়েছি কবির গ্রন্থাগারটি দেখে। কবির জন্মভিটায় এখন প্রতি বছর ২৫ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহব্যাপী ‘মধুমেলার’ আয়োজন করা হয় । বাড়িটির পেছনেই বয়ে চলা কপোতাক্ষ নদ দেখে কবি মধুসূদনের সেই বিখ্যাত কবিতার লাইনগুলো—"সতত, হে নদ, তুমি পড় মোর মনে"—আমার বারবার মনে পড়ছিল।

কবির বাড়ি ঘুরে, কপোতাক্ষ নদের পাড়ে কিছুক্ষণ বসে, এক অসাধারণ অনুভূতি নিয়ে আমরা বাড়ি ফিরেছি। মনে হয়েছে, যেন সরাসরি ইতিহাসের পাতায় চলে গিয়েছিলাম। তোর যদি সুযোগ হয়, অবশ্যই একবার এসে ঘুরে যাস। তোকে ছাড়া জায়গাটা উপভোগ করা অসমাপ্ত থেকে গেল।

আজ আর নয়। তোর বাবা-মাকে আমার প্রণাম জানাস। তুই যখনি আসবি, তোকে ভরত রাজার দেউলসহ যশোরের অন্যান্য স্থানগুলো ঘোরাব। দ্রুত ফিরতি চিঠি লিখিস।

তোর বন্ধু,
আয়ান

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 months ago
উত্তরঃ

২৬ এপ্রিল, ২০২৬

বরাবর,
চেয়ারম্যান,
নজিপুর ইউনিয়ন পরিষদ,
নওগাঁ।

বিষয়: নজিপুরে একটি পাঠাগার স্থাপনের জন্য আবেদন।

জনাব,

যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা নওগাঁ জেলার নজিপুর এলাকার বাসিন্দা। আমাদের এই জনবহুল এলাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বহু পাঠক থাকলেও জ্ঞানচর্চার জন্য কোনো আধুনিক পাঠাগার নেই ।

বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্ম বই পড়ার অভ্যাস থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, যার ফলে তারা ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হচ্ছে। এলাকার শিক্ষা ও সংস্কৃতির মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সাধারণ জ্ঞান বৃদ্ধি এবং তরুণদের বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে একটি পাবলিক লাইব্রেরি বা পাঠাগার স্থাপন অত্যন্ত জরুরি । একটি পাঠাগার বই ক্লাব, শিক্ষামূলক কর্মশালা এবং জ্ঞানভিত্তিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

অতএব, জনাবের নিকট আকুল আবেদন, আমাদের এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের জ্ঞান চর্চার কথা বিবেচনা করে, নজিপুরে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বা পৃষ্ঠপোষকতায় একটি পাঠাগার স্থাপন করে আমাদের কৃতার্থ করবেন।

বিনীত,
আপনার অনুগত,
রাকিব
নজিপুর, নওগাঁ।
[এলাকাবাসীর পক্ষে]

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 months ago
53

Related Question

View All
উত্তরঃ

বৈশাখী মেলা

বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি বিশেষ অংশ হলো বৈশাখী মেলা। প্রতি বছর বাংলা পহেলা বৈশাখ, অর্থাৎ ১৪ই এপ্রিল, এই মেলার আয়োজন করা হয়। বৈশাখী মেলা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি বাংলার জীবনযাত্রার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত এক ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান।

মেলার শুরু হয় সকালবেলায়, যেখানে গ্রামের মানুষ তাদের পোষাক ও সাজসজ্জায় মেতে ওঠে। বাজারে নানা ধরনের স্টল ও দোকান বসে, যা বিভিন্ন রকমের পণ্য ও সামগ্রী বিক্রি করে। এই মেলায় স্থানীয় হস্তশিল্প, জামদানি শাড়ি, মাটির পুতুল, কুটির শিল্পের নানা সামগ্রী পাওয়া যায়। মেলার এক দিকের গন্ধ আসে পিঠে-পুলি, মোয়া, চিড়েসুড়ির মত ঐতিহ্যবাহী খাবারের সুবাস।

বৈশাখী মেলা শুধু কেনাকাটার জন্যই নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আনন্দের মিলনমেলা। মেলা উপলক্ষে গীতিনাট্য, লোকনৃত্য, গান, কৌতুক পরিবেশিত হয়। এই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম গ্রামীণ জীবনকে প্রাণবন্ত করে তোলে এবং নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করায়।

মেলা শেষ হওয়ার পর, সবাই একসাথে আনন্দের সাথে বাড়ি ফিরে আসে, মনে মনে ভরপুর আশা ও স্মৃতি নিয়ে। বৈশাখী মেলা একদিকে যেমন বাংলার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে, অন্যদিকে এটি সামাজিক মেলবন্ধনও শক্তিশালী করে।

এভাবে, বৈশাখী মেলা বাংলার সংস্কৃতির একটি অপরিহার্য অংশ, যা সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যবাহী জীবনের সাথে সম্পৃক্ত।

66.3k
উত্তরঃ

যৌতুক প্রথা বাংলাদেশের সমাজজীবনে এক কলঙ্কজনক ব্যাধি। এটি এমন একটি কুপ্রথা যেখানে পাত্রপক্ষ বিয়ের সময় কনেপক্ষের কাছে অর্থ, অলংকার বা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী দাবি করে। এই প্রথা শুধু বাংলাদেশের নয়, ভারতীয় উপমহাদেশের অনেক দেশেই বিদ্যমান এবং এর কারণে অসংখ্য নারীর জীবন বিষিয়ে উঠেছে।

যৌতুক প্রথার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে সামাজিক অজ্ঞতা, লোভ, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং আর্থিক অসচ্ছলতা। অনেক পরিবার মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়, এমনকি ঋণগ্রস্তও হয়ে পড়ে। যৌতুক দিতে না পারায় অনেক কনেকে অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়, কখনও কখনও তাদের জীবনও কেড়ে নেওয়া হয়। এটি নারীর মর্যাদা ও অধিকার ক্ষুণ্ন করে এবং সমাজে বৈষম্য তৈরি করে।

এই ঘৃণ্য প্রথা বন্ধে আইন প্রণীত হলেও শুধুমাত্র আইন দিয়ে এর নির্মূল সম্ভব নয়। প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানসিকতার পরিবর্তন। শিক্ষা বিস্তার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী-পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা যৌতুকমুক্ত সমাজ গঠনে অপরিহার্য। প্রতিটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে এই প্রথার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে, তবেই একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠন সম্ভব হবে।

Satt AI
Satt AI
6 days ago
1k
উত্তরঃ

কাজলা, রাজশাহী।
১০ই নভেম্বর, ২০২৩

প্রিয় হাফিজ,

আমার প্রীতি ও শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছো। অনেকদিন তোমার কোনো চিঠি পাই না, তাই ভাবলাম আমিই আজ তোমাকে চিঠি লিখি।

তুমি জানতে চেয়েছিলে আমার সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে। সম্প্রতি আমি পরিবারের সাথে রাজশাহীর অদূরে অবস্থিত পুঠিয়া রাজবাড়ী পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। এটি বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান এবং এখানকার প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী আমাকে মুগ্ধ করেছে। বিশাল বিশাল দালান, মন্দিরের সূক্ষ্ম কারুকার্য এবং বিশাল খেলার মাঠ সত্যিই অসাধারণ।

আমরা রাজবাড়ীর বিভিন্ন প্রাসাদ ও মন্দির ঘুরে দেখেছি। বিশেষ করে বড় আহ্নিক মন্দির, গোবিন্দ মন্দির এবং পঞ্চরত্ন শিবমন্দির ছিল দর্শনার্থীদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। প্রতিটি স্থাপত্যই অতীতের গৌরবময় ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাক্ষ্য বহন করে। আমাদের সাথে থাকা একজন গাইড এখানকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য দিলেন, যা আমার জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এমন একটি স্থানে ভ্রমণ করে আমি যেন ইতিহাসকে আরও কাছ থেকে অনুভব করতে পারলাম।

সব মিলিয়ে ভ্রমণটি ছিল অত্যন্ত শিক্ষামূলক এবং আনন্দদায়ক। তুমিও সুযোগ পেলে একবার ঘুরে আসতে পারো। তোমার পড়াশোনা কেমন চলছে জানিও। আর তোমার নতুন কোনো ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকলে তা জানাতে ভুলো না।

আজ আর নয়। মা-বাবাকে আমার সালাম জানিও।

ইতি,
তোমার বন্ধু,
হাসিব

Satt AI
Satt AI
2 days ago
1.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews