নতুন ধান ঘরে তোলার সময় কৃষকেরা যে উৎসব করে তাকে নবান্ন উৎসব বলে।
হালখাতা হলো পহেলা বৈশাখের একটি উৎসব। হাট বাজারের দোকানিরা তাদের গ্রাহক-খদ্দেরদের পহেলা বৈশাখে মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করেন। আর খদ্দেররাও এই দিনে তাদের বাকি পাওনা পরিশোধ করেন। এই আনুষ্ঠানিকতা হালখাতা নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত উৎসবটি হলো নবান্ন উৎসব।
হাড়ভাঙা খাটুনি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের উৎকণ্ঠা, রোগবালাই ইত্যাদি অতিক্রম করে কৃষ্ণ যখন ধান কেটে আপন আঙ্গিনায় এনে জড়ো করে তখন শুরু হয় নবান্ন উৎসব। এ ধান মাড়াই করে শুকিয়ে মেয়েরা ঢেঁকিতে ধান ভেনে চাল করে, নতুন চাল গুঁড়ো করে। নতুন চালের ভাতের পাশাপাশি পায়েস, পিঠা-পুলি তৈরি হতে থাকে। বাড়ির ছেলেরা নতুন গেঞ্জি, লুঙ্গি পায়; মেয়েরা পায় নতুন শাড়ি, চুড়ি, লেস-ফিতা। বাড়িতে বসেই নতুন ধান দিয়ে ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে এসব কেনা হয়। খালি হাতে ফিরে যায় না কেউ, এমনকি ভিক্ষুকও না। এভাবেই উদযাপিত হয় নবান্নের উৎসব।
রকির নানার উক্তিটি ছিল "বাঙালি সংস্কৃতি কৃষিকাজের দ্বারা ব্যাপক প্রভাবিত।”
আমাদের দেশের ঋতু বৈচিত্র্যের মতো সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিনোদনের সাথে কৃষি ও কৃষকের সম্পর্ক রয়েছে। পল্লীগীতি, জারিসারি, ভাটিয়ালি, যাত্রাপালা সৃষ্টিতে কৃষি ও কৃষক সমাজের অবদান রয়েছে। বাঙালির সংস্কৃতির একটি বড় উৎসব হলো নবান্ন উৎসব। কৃষকেরা যখন নতুন ধান ঘরে তোলে তখন এই উৎসব শুরু হয়। যদি আমন ধান হয় তাহলে শারদীয় উৎসবের সঙ্গে আর যদি বোরো ধান হয় তাহলে বৈশাখ মাসে নববর্ষের উৎসবের সাথে এই উৎসব মিলে যেতে পারে। এ সময় গ্রামে মেলা বসে এবং গ্রামের কৃষকরা দা-কান্তে, হাঁড়ি-ঝুড়িসহ পরিবারের অনেক জিনিস ক্রয় করে। অতএব বলা যায়, বাংলাদেশের সংস্কৃতি কৃষি নির্ভর অর্থাৎ রকির নানার উক্তিটি যথাযথ।
Related Question
View Allকৃষিকে পেশা হিসেবে নেওয়ার আগে মানুষ ২টি উপায়ে, যথা-পশুপাখি শিকার অথবা ফলমূল আহরণ করে খাদ্য সংগ্রহ করত।
কতদিনের দৈর্ঘ্যের তারতম্যের কারণে বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন ফসল জন্মায়। কিন্তু কলা সব ঋতুতে জন্মায়, কারণ দিনের দৈর্ঘ্যের তারতম্য কলার ফুল ধারণের ওপর কোন প্রভাব ফেলে না। তাই কলাকে ঋতু নিরপেক্ষ ফল বলা হয়।
উদ্দীপকে রফিকের কৃষিজ সম্পদ বলতে একটি ছোট্ট বসতবাড়ি, ভর মাঝারি আকারের পুকুর ও ৫০ শতাংশ ফসলি জমি ছিল।
রফিক তাঁর চাচার পরামর্শমতো কৃষিজ সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহারের দ উদ্যোগ নেন। তিনি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। উৎপাদিত মাছের ৬ মাধ্যমে তাঁর পরিবারের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ হয়। অতিরিক্ত মাছ নয় তিনি বাজারে বিক্রি করেন, যার ফলে তাঁর অর্থনৈতিক সংকট দূর হয়। পরবর্তীতে রফিক তাঁর জমিতে ঋতুভিত্তিক ও লাভজনক ফসলের চাষাবাদ ২ শুরু করেন। এক্ষেত্রেও পারিবারিক খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জন অতিরিক্ত ফসল বিক্রি করে তিনি বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হন।
অর্থাৎ, রফিক উল্লিখিত উপায়ে তাঁর কৃষিজ সম্পদের বহুমাত্রিক ব্যবহার জন করে লাভবান হয়েছিলেন।
রফিক তাঁর পুকুরে মাছ চাষ ও ৫০ শতাংশ জমিতে ফসল আবাদের উদ্যোগ নেন।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বাংলাদেশের কৃষি জমি, নদনদী ও খালবিল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে দেখা দিচ্ছে খাদ্য ও পুষ্টির ঘাটতি। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৮০ গ্রাম আমিষের প্রয়োজন অথচ আমরা বর্তমানে গড়ে মাত্র ২১ গ্রাম আমিষ পেয়ে থাকি। রফিকের পুকুরে মাছ চাষ করার উদ্যোগ তাঁর পরিবারের সদস্যদের আমিষের চাহিদা পূরণ করবে। এছাড়াও অতিরিক্ত মাছ বাজারে বিক্রির ফলে তার অর্থনৈতিক সংকট দূর হবে এবং দেশে মাছের মোট উৎপাদনের সাথে সেটা যোগ হবে। এই বাড়তি উৎপাদন দেশের খাদ্য ও পুষ্টির ঘাটতি কিছুটা হলেও কমিয়ে আনবে। জমি পতিত না রেখে যথাযথভাবে ব্যবহারের ফলে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
সুতরাং, রফিকের কৃষিজ সম্পদ ব্যবহারের উদ্যোগগুলো যুক্তিযুক্ত ও সময়োপযোগী।
মানুষ শিকারের যুগে আগুনের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ শিখেছিল।
পরিবার হলো মানব সমাজের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
খাদ্যসহ সার্বিক নিরাপত্তার প্রথম ও প্রধান কেন্দ্র হলো পরিবার। পরিবারসমূহ স্নেহ, ভালোবাসা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে সুরক্ষিত।
এছাড়া বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরা কাজ ভাগ করে নেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
