রচনামূলক প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

(রচনামূলক প্রশ্ন)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

রাজপুত্র ও রাখালের বন্ধুত্ব সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য-
ক. রাজপুত্র ও রাখাল ছেলের মধ্যে খুব ভাব।
খ. তারা দুই বন্ধু পরস্পরকে খুব ভালোবাসে।
গ. রাখাল রাজপুত্রকে বাঁশি বাজিয়ে শোনায়।
ঘ. বাঁশির সুর শুনে রাজপুত্রের মন খুশিতে ঝলমলিয়ে ওঠে।
ঙ. রাজপুত্র বড়ো হয়ে রাজা হলে রাখালকে মন্ত্রী বানাবে বলে প্রতিজ্ঞা করে।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

একদিন ভোরবেলা যখন রাজার ঘুম ভাঙে, তখন দেখা যায়, তাঁর সারা শরীরে অগুনতি সুচ গেঁথে আছে। তিনি কথা বলা, শোয়া, খাওয়া কোনো কিছুই করতে পারেন না। রাজার এ অবস্থার সংবাদ শুনে রাজ্যজুড়ে কান্নাকাটির রোল পড়ে যায়।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

শরীরে সূচ বিঁধে থাকার কারণে সুচরাজার কষ্টের সীমা নেই। তাঁর সুচবিদ্ধ শরীর ব্যথায় টনটন করে। সারা শরীর চিনচিন করে জ্বলতে থাকে, ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি এসে রাজার গায়ে বসে। এছাড়া রাজাকে দেখার বা বাতাস করারও কেউ নেই।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

রাজার সারা গায়ে সূচ বিঁধে গিয়েছিল। একা একা এত সুচ খোলা কঠিন ছিল রানির জন্য। সেই সুচ খুলতেই রানির দরকার হয়েছিল একজন লোকের। তাই নদীর ঘাটে আসা মেয়েটিকে দাসী হিসেবে কিনে নিয়েছিলেন রানি।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

রানি তার শাড়ি-গয়না দাসী কাঁকনমালার কাছে রেখে গোসলে নেমেছিলেন। তিনি পানিতে ডুব দিতেই কাঁকনমালা রানির সেই শাড়ি-গয়না নিজে পরে নেয়। আর রানির জন্য রেখে দেয় নিজের পোশাক। ফলে রানি হয়ে যায় দাসী, আর দাসী হয়ে যায় রানি।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

রানি কাঞ্চনমালা নানাবিধ গুণাবলির অধিকারী। তিনি সুস্বাদু পিঠা বানাতে পারেন। এসব পিঠার মধ্যে আছে চন্দ্রপুলি, মোহনবাঁশী, ক্ষীর মুরলি পিঠা। রানি কাঞ্চনমালা খুব সুন্দর আলপনা আঁকতে পারেন। তিনি পদ্মলতা, সোনার সাত কলস, ধানের ছড়া, ময়ূর-পুতুল আঁকেন।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

কাঁকনমালার আসল পরিচয় ফাঁস হয়ে গেলে সে রেগে গিয়ে অচেনা মানুষ ও কাঞ্চনমালার গর্দান নেওয়ার হুকুম দিল। কাঁকনমালা ছিল দাসী ও নকল রানি। অচেনা মানুষ কৌশলে তার আসল পরিচয় প্রকাশ করে দেওয়ায় সে রেগে যায়। তখন সে অচেনা মানুষ ও আসল রানি কাঞ্চনমালার গর্দান নেওয়ার হুকুম দেয়।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

বিদ্যালয়ের কোনো অনুষ্ঠানের জন্য আলপনা আঁকতে হলে প্রথমে বিভিন্ন ধরনের রঙের ব্যবস্থা করব। যে অনুষ্ঠান হবে সেই অনুষ্ঠানের সাথে মানানসই আলপনা মনে মনে চিন্তা করব। তারপর তুলি দিয়ে বিদ্যালয়ের মেঝেতে চিন্তা করে রঙের প্রলেপ দিব। এভাবেই বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানের জন্য আমি আলপনা আঁকতে পারব।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

রাজপুত্র গাছতলায় বসে রাখাল বন্ধুর বাঁশি শুনত।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

রাজপুত্র রাজা হওয়ার পর রাখাল বন্ধুর কথা ভুলে যায়।
রাজপুরী লোকলস্কর, সৈন্যসামন্তে সবসময় মুখর থাকত। রানি কাঞ্চনমালা রাজপুরীর সৌন্দর্য যেন আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। চারদিকে শুধু সুখ আর সুখ। সুখের এই রাজ্যে বাস করায় রাজপুত্র রাখাল বন্ধুর কথা ভুলে যায়।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

রাজপুত্র একদিন তার রাখাল বন্ধুর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিল বড়ো হয়ে রাজা হলে বন্ধুকে মন্ত্রী বানাবে। কিন্তু রাজপুত্র রাজা হওয়ার পর ব্যস্ততা আর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ভরা জীবনে তাঁর প্রতিজ্ঞার কথা ভুলে যায়। রাখাল বন্ধু শত চেষ্টা করেও গরিব হওয়ার কারণে রাজার দেখা পায় না। হঠাৎ একদিন ভোরবেলা ঘুম থেকে জাগার পর রাজা দেখেন যে তাঁর সারা শরীরে সুচ গেঁথে আছে। তখন তাঁর বোধোদয় হয় এবং মনে হতে থাকে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের কারণেই তাঁর এই দশা হয়েছে।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

অচেনা লোকটি রাজার প্রাণ রক্ষার জন্য এগিয়ে না এলে হয়তো রাজা আর কখনো সুস্থ হয়ে উঠতেন না।
অচেনা লোকটার বুদ্ধিতে সুচ রাজা ও রানি কাঞ্চনমালার কষ্ট দূর হয়। অচেনা লোকটির মন্ত্রবলে রাজার শরীরের সবগুলো সুচ নকল রানির চোখেমুখে, সারা শরীরে গেঁথে যায়। লোকটা যদি রাজার প্রাণ রক্ষায় এগিয়ে না আসত তাহলে রাজা হয়তো শেষ পর্যন্ত মারা যেতেন এবং রানি কাঞ্চনমালাকে আজীবন দাসী হয়ে থাকতে হতো।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

অচেনা লোকটির কারণেই রাজার প্রাণ রক্ষা পেল।
অচেনা লোকটার বুদ্ধিতে সুচ রাজা ও রানি কাঞ্চনমালার কষ্ট দূর হয়। অচেনা লোকটির মন্ত্রবলে রাজার শরীরের সবগুলো সুচ নকল  রানির চোখেমুখে, সারা শরীরে গেঁথে যায়। লোকটি যদি রাজার প্রাণ রক্ষায় এগিয়ে না আসত তাহলে রাজা হয়তো শেষ পর্যন্ত মারা যেতেন।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

অচেনা মানুষটির বুদ্ধিতে নকল রানি আর আসল রানির গুণের তফাত দেখে সবাই নকল রানির পরিচয় বুঝে ফেলল। নকল রানির বানানো পিঠা কেউ মুখেও তুলতে পারে না। তার আল্পনা হয় কুশ্রী। আর আসল রানির পিঠার স্বাদ সবার মন ভরিয়ে দেয়। তার হাতে করা আলপনার সৌন্দর্য দেখেই সবাই বুঝে যায় কে আসল রানি আর কে নকল রানি।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

রাজা তাঁর রাখাল বন্ধুকে মন্ত্রী বানিয়ে প্রতিজ্ঞা পালন করলেন। ছোটোবেলায় রাজপুত্র তার রাখাল বন্ধুর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি রাজা হলে বন্ধুকে মন্ত্রী বানাবেন। কিন্তু রাজা হওয়ার পর নানা কারণে তিনি প্রতিজ্ঞার কথা ভুলে যান। একদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর রাজা দেখেন তাঁর শরীরে গেঁথে আছে অগুনতি সুচ। এমন বিপদে পড়ার পর তাঁর প্রতিজ্ঞার কথা মনে পড়ে এবং প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকেই বিপদের কারণ মনে করেন। আর তাই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার পর তিনি তাঁর কথামতো রাখাল বন্ধুকে মন্ত্রী বানান। এভাবে তিনি তাঁর প্রতিজ্ঞা পালন করেছিলেন।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

গল্পে কাঞ্চনমালা ছিল রানি এবং কাঁকনমালা দাসী। আচার-আচরণে দুজন সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী চরিত্র।
কাঞ্চনমালা ছিলেন সত্যিকারের রানি। ভাগ্যের দোষে তিনি হয়ে যান দাসী। তার সহ্যশক্তি ছিল প্রখর। দাসী কাঁকনমালা কূটকৌশলে রানির স্থান দখল করে তার সাথে দুর্ব্যবহার করে। তবুও কাঞ্চনমালা ভয়ে সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করেন। তিনি ঘরকন্নার কাজেও পটু ছিলেন। নানা রকমের পিঠা বানানো, নিখুঁত আলপনা আঁকা এসব কাজে রানি ছিলেন পারদর্শী।  অন্যদিকে, দাসী কাঁকনমালা ছিল প্রতারক। সে কুবুদ্ধি কাজে লাগিয়ে নিজে নকল রানি সাজে। আসল রানি কাঞ্চনমালাকে ভয় দেখিয়ে রাজবাড়ির বিভিন্ন কাজ করায়। রানি হওয়ার অহংকারে সকলের সাথেই খারাপ আচরণ করে। ঘরের কোনো কাজেই কাঁকনমালার দক্ষতা ছিল না। মূলত সে ছিল প্রতারক ও লোভী চরিত্রের।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
121

কাঞ্চনমালা আর কাঁকনমালা

অনেক দিন আগের কথা। এক দেশে ছিল এক রাজা। রাজার একটাই পুত্র। রাজপুত্রের সঙ্গে সেই রাজ্যের রাখাল ছেলের খুব ভাব। দুই বন্ধু পরস্পরকে খুব ভালোবাসে। রাখাল মাঠে গর্ চরায়, রাজপুত্র গাছতলায় বসে তার জন্য অপেক্ষা করে। নিঝুম দুপুরে রাখাল বাঁশি বাজায়। রাজপুত্র তার বন্ধু রাখালের গলা জড়িয়ে বসে সেই সুর শোনে। বন্ধুর জন্য বাশি বাজিয়ে রাখাল বড় সুখ গায়। আর, তা শুনে রাজপুত্রের মন খুশিতে ঝলমলিয়ে ওঠে। রাজপুত্র বন্ধুর কাছে প্রতিজ্ঞা করে, বড় হয়ে রাজা হলে রাখালকে তার মন্ত্রী বানাবে।

তারপর একদিন রাজপুত্র রাজা হয়। লোকলস্কর, সৈন্যসামন্তে গমগম করে তার রাজপুরি। রাজপুরি আলো করে থাকে রানি কাঞ্চনমালা। চারদিকে সুখ। এত সুখের মধ্যে রাখালবন্ধুর কথা মনে পড়ে না। রাজপুত্র বন্ধুকে ভুলে যায় ।

এদিকে, রাখালবন্ধুর কিন্তু খুব মনে পড়ে বন্ধু রাজপুত্রের কথা। শেষে সে একদিন চলেই আসে বন্ধুকে একটুখানি দেখার জন্য। কিন্তু রাজপ্রাসাদের রক্ষীরা অমন গরিব রাখালকে ভিতরে ঢুকতে দেয় না। মনভরা কষ্ট নিয়ে সারাদিন প্রাসাদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে সে। রাজার দেখা মেলে না। দিনশেষে মনের কষ্ট নিয়ে দুঃখী রাখাল চলে যায়, কেউ তা জানে না ৷

এক রাতে রাজা ঘুমাতে যান। কিন্তু ভোরবেলা যখন তার ঘুম ভাঙে, তখনই দেখা যায় কী সর্বনাশ ঘটেছে! রাজা দেখেন যে তার শরীরে গেঁথে আছে অগুনতি সুচ। রাজা কথা বলতে পারেন না, শুতে পারেন না, খেতেও পারেন না। রাজ্যজুড়ে কান্নাকাটির রোল পড়ে যায়। রাজা বোঝেন – প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের সেই অপরাধেই আজকে তার এই দশা। রানি কাঞ্চনমালা চোখের জল মুছতে - মুছতে রাজ্য দেখাশোনা শুরু করেন।

কাঞ্চনমালা একদিন নদীর ঘাটে স্নান করতে যান ৷ কোথা থেকে জানি একটা মেয়ে এলো। এসে তাকে বলে, রানির যদি দাসীর দরকার হয়, তো সে দাসী হবে। রাজার শরীর থেকে সুচ খোলার জন্য একজনের দরকার ছিল রানি কাঞ্চনমালার। মেয়েটাকে সেই কাজের জন্য নিয়ে নেন রানি। নদীর ঘাটে গেছেন রানি, সঙ্গে কী করে থাকে টাকাকড়ি! তখন হাতের সোনার কাঁকন দিয়েই রানিকে কিনতে হয় ওই দাসী। তাই তার নাম কাঁকনমালা ৷

গায়ের গয়নাগুলো কাঁকনমালার কাছে রেখে নদীতে ডুব দিতে যান রানি । চোখের পলকে কাঁকনমালা রানির সব গয়না আর শাড়ি পরে নেয়। রানি ডুব দিয়ে উঠে দেখেন দাসী হয়ে গেছে রানি, আর

রানি কাঞ্চনমালা হয়ে গেছেন দাসী। নকল রানি কাঁকনমালার ভয়ে কাঁপতে থাকে কাঞ্চনমালা। কাঁপতে থাকে রাজপুরীর সকলে। সকলে ভাবতে থাকে, তাদের রানি তো আগে এমন ছিল না।

সুচর্বিধা রাজা জানতেই পারেন না, তার রাজ্যে আরেক কী ঘোর ঝামেলা এসে গেছে। দুখিনী কাঞ্চনমালা রাজবাড়ির সকল কাজকর্ম করেন। চোখের জল ফেলেন।

  
 

 

 

 

 

 

 


 

তারপর একদিন রাজপুত্র রাজা হয়। লোকলস্কর, সৈন্যসামন্তে গমগম করে তার রাজপুরি। রাজপুরি আলো করে থাকে রানি কাঞ্চনমালা। চারদিকে সুখ। এত সুখের মধ্যে রাখালবন্ধুর কথা মনে পড়ে না। রাজপুত্র বন্ধুকে ভুলে যায় ।

এদিকে, রাখালবন্ধুর কিন্তু খুব মনে পড়ে বন্ধু রাজপুত্রের কথা। শেষে সে একদিন চলেই আসে বন্ধুকে একটুখানি দেখার জন্য। কিন্তু রাজপ্রাসাদের রক্ষীরা অমন গরিব রাখালকে ভিতরে ঢুকতে দেয় না। মনভরা কষ্ট নিয়ে সারাদিন প্রাসাদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে সে। রাজার দেখা মেলে না। দিনশেষে মনের কষ্ট নিয়ে দুঃখী রাখাল চলে যায়, কেউ তা জানে না ৷

এক রাতে রাজা ঘুমাতে যান। কিন্তু ভোরবেলা যখন তার ঘুম ভাঙে, তখনই দেখা যায় কী সর্বনাশ ঘটেছে! রাজা দেখেন যে তার শরীরে গেঁথে আছে অগুনতি সুচ। রাজা কথা বলতে পারেন না, শুতে পারেন না, খেতেও পারেন না। রাজ্যজুড়ে কান্নাকাটির রোল পড়ে যায়। রাজা বোঝেন – প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের সেই অপরাধেই আজকে তার এই দশা। রানি কাঞ্চনমালা চোখের জল মুছতে - মুছতে রাজ্য দেখাশোনা শুরু করেন।

কাঞ্চনমালা একদিন নদীর ঘাটে স্নান করতে যান ৷ কোথা থেকে জানি একটা মেয়ে এলো। এসে তাকে বলে, রানির যদি দাসীর দরকার হয়, তো সে দাসী হবে। রাজার শরীর থেকে সুচ খোলার জন্য একজনের দরকার ছিল রানি কাঞ্চনমালার। মেয়েটাকে সেই কাজের জন্য নিয়ে নেন রানি। নদীর ঘাটে গেছেন রানি, সঙ্গে কী করে থাকে টাকাকড়ি! তখন হাতের সোনার কাঁকন দিয়েই রানিকে কিনতে হয় ওই দাসী। তাই তার নাম কাঁকনমালা ৷

গায়ের গয়নাগুলো কাঁকনমালার কাছে রেখে নদীতে ডুব দিতে যান রানি । চোখের পলকে কাঁকনমালা রানির সব গয়না আর শাড়ি পরে নেয়। রানি ডুব দিয়ে উঠে দেখেন দাসী হয়ে গেছে রানি, আর

রানি কাঞ্চনমালা হয়ে গেছেন দাসী। নকল রানি কাঁকনমালার ভয়ে কাঁপতে থাকে কাঞ্চনমালা। কাঁপতে থাকে রাজপুরীর সকলে। সকলে ভাবতে থাকে, তাদের রানি তো আগে এমন ছিল না।

সুচর্বিধা রাজা জানতেই পারেন না, তার রাজ্যে আরেক কী ঘোর ঝামেলা এসে গেছে। দুখিনী কাঞ্চনমালা রাজবাড়ির সকল কাজকর্ম করেন। চোখের জল ফেলেন।

মাথার বোঝা নামিয়ে কাঞ্চনমালা যান ছুটে তার কাছে। বলেন, गाখ লাখ সুচ চাও তো? আমি দিতে পারি। এ কথা শুনে সেই মানুষ ঝটপট তার সুতার পুঁটলি তুলে নিয়ে কাঞ্চনমালার সাথে হাঁটা ধরে। যেতে যেতে পথে কাঞ্চনমালা চোখের জল ফেলতে ফেলতে দুঃখের সব কথা বলে। অচেনা মানুষ শোনে, মুখ থমথমে হয়ে যেতে থাকে তার ।

রাজপুরীতে গিয়ে ওই অচিন মানুষ সুচ নেবার কথাটাও বলে না। বলতে থাকে অন্য কথা। বলে, আজকের দিন বড় শুভ দিন। আজ হচ্ছে পিটকুডুলির ব্রত, আজকের দিনে রানিদের পিঠা বিলাতে হয়- এমনই নিয়ম। নকল রানি পিঠা বানাতে যায়। সে কাঞ্চনমালাকেও পিঠা বানাতে ফরমাস দেয়। নকল রানি বানায় পিঠা। সে পিঠা কেউ মুখেও তুলতে পারে না, এমনই বিবাদ। দুখিনী কাঞ্চনমালা বানান চন্দ্রপুলি, মোহনবাণী, ক্ষীর মুরলি পিঠা। মুখে দেওয়া মাত্র সকলের মন ভরে যায়। এমনই স্বাদ তার। নকল রানি উঠানে আল্পনা দিতে যায়। কোথায় নকশা কোথায় কী- এখানে এক খাবলা রং লেপে দেওয়া, ওখানে এক খাবলা লেপা। দেখতে যে কি অসুন্দর দেখায়! আর কাঞ্চনমালা আঁকেন পদ্মলতা। তার পাশে আঁকেন সোনার সাত কলস, ধানের ছড়া, ময়ূর- পুতুল। লোকে তখন বুঝতে পারে কে আসল রানি, আর কে দাসী।

তখন সেই অচেনা মানুষটা কাঁকনমালাকে ডাক দেয়, বলে- হাতের কাঁকনে কেনা দাসী, জলি সত্যি কথা কা। কাঁকনমালার সেকি রাগ। সে গর্জে উঠে জল্লাদকে হুকুম দেয়, অচেনা মানুষ আর কাঞ্চনমালার গর্দান নিতে। জল্লাদ ওদের ধরতে আসার আগেই অচেনা মানুষ তার সুতার পুঁটলিকে হুকুম দেয়। এক গোছা সুতা গিয়ে জন্মাদকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে। নকল রানি আবার গর্জে ওঠার আগেই অচিন মানুষ নতুন মন্ত্র পড়া ধরে

সুতন সূত্ৰন সরুলি, কোন দেশে ঘর

সুচ রাজার সূচ গিয়ে আপনি পর।

সঙ্গে সঙ্গে লাখ লাখ সুতা রাজার গায়ের লাখ লাখ সুচে ঢুকে যায়। আবার মন্ত্র পড়ে অচিন মানুষ। সব সূচ রাজার শরীর থেকে বেরিয়ে এসে নকল রানির চোখেমুখে বিধে যায়। জ্বালা যন্ত্রণায় ছটফট করে। নকল রানি শেষে মারা যায়। কাঞ্চনমালার দুঃখের দিন শেষ হয় ৷

 

 

 

 

 

এদিকে, রাজা বহু বছর পরে চোখ মেলেন। সামনে কে যেন দাঁড়িয়ে! কে! সেই রাখালবন্ধু! রাজা দুহাতে জড়িয়ে ধরেন তাকে। রাজা ক্ষমা চান তাঁর বন্ধুর কাছে। কথা দিয়ে কথা রাখেন নি। রাজা বলেন,“আজ থেকে তুমি আমার মন্ত্রী। এই রইল রাজ্য আমার, শুধু তুমি আমার পাশে থেকো সারা জীবনের জন্য থেকো।” রাখাল বন্ধু কি তখন না থেকে পারে।

রাজা তাঁর বন্ধুকে নতুন সোনার বাঁশি গড়িয়ে দেন। রাখাল সারাদিন মন্ত্রীর কাজ করে, প্রজাদের দুঃখ সরিয়ে তাদের মুখে হাসি আনে। সারাদিনের কাজ শেষে রাজা বন্ধুকে নিয়ে যান। পুরানো দিনের মতো রাখালবন্ধু তখন বাঁশি বাজায়, আর রাজা সেই সুর শোনেন। সুখে রাজার মন ভরে ওঠে।

Related Question

View All
উত্তরঃ

প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের অপরাধে আজকে তার এই দশা

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

রাজপুত্রের জন্য বাঁশি বাজিয়ে রাখাল বড়ো সুখ পায়।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

নিঝুম দুপুরে রাখাল বাঁশি বাজায়।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

লোকলস্কর, সৈন্যসামন্তে  গমগম করে রাজার রাজপুরী।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

রাজপুত্র রাখালকে মন্ত্রী বানানোর  প্রতিজ্ঞা করে।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

নকল রানি রাজার  রাজ্য দখল করে নিয়েছে।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

কাঞ্চনমালার সকল  দুঃখের  দিন শেষ হয়।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
70
উত্তরঃ

তারপর একদিন রাজপুত্র রাজা হয়।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

লোকলস্কর, সৈন্যসামন্তে গমগম করে তার রাজপুরী।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

শেষে সে একদিন চলেই আসে বন্ধুকে একটুখানি দেখার জন্য

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

তাদের রানি তো আগে এমন   ছিল না।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

সুচরাজা জানতেই পারেন না, তার রাজ্যে তখন কী হচ্ছে।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
65
উত্তরঃ

সন্তানের মৃত্যুতে তিনি কান্না ধরে রাখতে পারলেন না।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

মন্দ লোকটির ফাঁদে পা দিয়ে সে তার সবকিছু হারিয়েছে।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

রাসেল বয়সে ছোটো হলেও সংসারের অনেক কাজে মাকে সাহায্য করে।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

লোকটিকে আমি কোথায় যেন দেখেছি, খুব চেনা মনে হচ্ছে।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
উত্তরঃ

বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চারদিকে আঁধার নেমে এলো।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
72
উত্তরঃ

রাজপুত্র ও রাখালের বন্ধুত্ব সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য-
ক. রাজপুত্র ও রাখাল ছেলের মধ্যে খুব ভাব।
খ. তারা দুই বন্ধু পরস্পরকে খুব ভালোবাসে।
গ. রাখাল রাজপুত্রকে বাঁশি বাজিয়ে শোনায়।
ঘ. বাঁশির সুর শুনে রাজপুত্রের মন খুশিতে ঝলমলিয়ে ওঠে।
ঙ. রাজপুত্র বড়ো হয়ে রাজা হলে রাখালকে মন্ত্রী বানাবে বলে প্রতিজ্ঞা করে।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
127
উত্তরঃ

একদিন ভোরবেলা যখন রাজার ঘুম ভাঙে, তখন দেখা যায়, তাঁর সারা শরীরে অগুনতি সুচ গেঁথে আছে। তিনি কথা বলা, শোয়া, খাওয়া কোনো কিছুই করতে পারেন না। রাজার এ অবস্থার সংবাদ শুনে রাজ্যজুড়ে কান্নাকাটির রোল পড়ে যায়।

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
124
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews