এ দেশের প্রকৃতি একেক সময়ে একেক রূপে সাজে ঋতুভেদে। ছয়টি ঋতুতে এ দেশের প্রকৃতিতে বিভিন্ন পরিবর্তন আসে। গ্রীষ্মে মাঠঘাট ফেটে চৌচির হয়ে যায়, বর্ষায় নদীনালা ভরে যায়, শরতের আকাশে সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়, হেমন্তে গাছের পাতা ঝরে এবং বসন্তে শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়াফুলসহ নানা ফুল ফোটে। এভাবে এ দেশের প্রকৃতি ঋতুভেদে একেক রূপে সাজে।
গ্রীষ্ম ও বর্ষা ঋতুর দুটি করে বৈশিষ্ট্য হলো:
গ্রীষ্ম:
১. গ্রীষ্মে মাঠঘাট ফেটে চৌচির হয়ে যায়।
২. এ সময়ে পাওয়া যায় আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু।
৩. এ সময়ে প্রচুর গরম পড়ে।
বর্ষা:
১. বর্ষায় নদীনালা পানিতে ভরে যায়।
২. এ সময়ে ফোটে কদম, কেয়া, দোলনচাঁপা ইত্যাদি ফুল।
৩. বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টি হয়।
নিচে শরৎ ও হেমন্তের রূপ বর্ণনা করা হলো:
শরৎ:
১. শরতের নির্মল আকাশে সাদা মেঘ তুলোর মতো ভেসে বেড়ায়।
২. শরৎকালে নদীর তীরে কাশফুল দেখা যায়।
৩. শরৎকালে শিউলি ফুল ফোটে।
হেমন্ত:
১. হেমন্তে ধান পাকে।
২. পাকা সোনালি ধানে মাঠ ভরে যায়।
৩. হেমন্তকালে গ্রামে উৎসবের আমেজ দেখা যায়।
শীতের আগমনে উত্তুরে ঠান্ডা হাওয়া বয়। গাছের পাতা ঝরে যায়। এই শীতের পরই শিমুল, পলাশ ও কৃষ্ণচূড়া ফুল নিয়ে আসে বসন্ত। এ সময় কোকিল কুহু কুহু ডাকে। শীত ও বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে এসব পরিবর্তন দেখা যায়।
বাংলাদেশের প্রকৃতির বিশেষ এক সৌন্দর্য নদী। অসংখ্য ছোটো-বড়ো নদী এ দেশে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে বড়ো তিনটি নদী হলো- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা। নদী, খাল, বিলে পাওয়া যায় নানা জাতের মাছ। যেমন: রুই, কাতলা, টেংরা, পুঁটি, খর্লসে ইত্যাদি।
বাংলাদেশের সুন্দরবন পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত। এই বনে আছে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া, গোলপাতা ইত্যাদি গাছ। সেখানে আছে বাঘ, হরিণ, কুমিরসহ নানা প্রাণী। পাখির মধ্যে দেখা যায় মাছরাঙা, মৌটুসি, মদনটাক প্রভৃতি।
বাংলাদেশের বেশিরভাগ এলাকা সমতল হলেও কোনো কোনো জায়গা, পাহাড়ি। রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পাহাড়ি এলাকা। এছাড়াও ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে ছোটো-বড়ো পাহাড় রয়েছে। পাহাড়ে নানা জাতের গাছ, পশু ও পাখি দেখতে পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের অবস্থান। এর মোহনায় ইলিশের আবাস। অত্যন্ত সুস্বাদু এই মাছটি বাংলাদেশের জাতীয় মাছ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বঙ্গোপসাগরে আরও আছে রূপচাঁদা, রিঠা, লইট্টাসহ নানা রকম মাছ।
সবুজ প্রকৃতি বাংলাদেশকে করেছে সুন্দর। সেই সৌন্দর্যে বৈচিত্র্য এনেছে এ দেশের নদী, পাহাড়, বন ও সাগর। ছোটো-বড়ো নদী জালের মতো ছড়িয়ে আছে সারা দেশে এবং প্রকৃতিকে করেছে শস্য-শ্যামলা। সমতল বাংলাদেশে কিছু কিছু এলাকায় ছোটো-বড়ো পাহাড় নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের মাধ্যমে বৈচিত্র্য এনেছে। বন-জঙ্গল ও সাগর এ দেশকে সৌন্দর্যের সাথে সাথে সমৃদ্ধ করেছে। এভাবে বাংলাদেশে নানা বিচিত্র সৌন্দর্যে ভরিয়ে দিয়েছে এ দেশের নদী, পাহাড়, বন ও সাগর।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allআমাদের এই বাংলাদেশ এত সুন্দর তার অপরূপ প্রকৃতির জন্য। সবুজ গাছপালা, ফসলের খেতসহ এ দেশের চারদিকেই সবুজের
গ্রীষ্মে মাঠঘাট ফেটে চৌচির হয়। এ সময়ে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ইত্যাদি ফল পাওয়া যায়।
বর্ষা ঋতুতে নদীনালা পানিতে ভরে যায়। সেই ঋতুতে ফোটা ফুল হলো- কদম, কেয়া, দোলনচাঁপা ইত্যাদি।
১. শরতের আকাশে সাদা মেঘ তুলোর মতো ভেসে বেড়ায়।
২. এ সময়ে নদীর তীরে সাদা কাশফুল দেখা যায়।
শত্র ঋতুর পর হেমন্ত ঋতু আসে। হেমন্ত ঋতুতে ধান পাকে। এ সময় সোনালি ধানে মাঠ ভরে যায়।
শীতকালের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো:
১. শীতকালে উত্তুরে ঠান্ডা হাওয়া বয়।
২. গাছের পাতা ঝরে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!