টুকটুক গ্রীষ্মের ছুটি নিয়ে অনেক আনন্দে ছিল কারণ তার মামাতো ভাইবোনরা দুদিন পর তাদের বাড়িতে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা একসাথে মজা করবে ভাবতেই টুকটুকের মুখ আনন্দ ঝলমল করে উঠল। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার মন আনন্দে ভরে উঠল। টুকটুক গুনগুনিয়ে গান গাইছিল এবং ছুটির প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার জন্য উদগ্রীব হয়েছিল।
টুকটুক বাগানের কোণে একটি বিড়ালছানা দেখল। ছানাটি কাদামাটিতে মাখানো ও কঙ্কালসার। মনে হচ্ছিল এটির একটি পা কেটে গেছে এবং ভয়ে কাঁপছিল। টুকটুক খুব উদ্বিগ্ন হয়ে ছানাটির দিকে তাকাল। সে ছানাটিকে আলতো করে কোলে তুলে নিয়ে গেল। তার মনে সহমর্মিতা জাগল এবং সে চাইল ছানাটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে সাহায্য করতে।
টুকটুক প্রথমে নরম তোয়ালে দিয়ে বিড়াল ছানাটির গা মুছল। কাটা জায়গায় ওষুধ লাগাল। টুকটুকের মা দুধ খাওয়াল। ধীরে ধীরে ছানাটি সুস্থ হয়ে উঠল। এই প্রক্রিয়ায় টুকটুক দায়িত্ব ও সহানুভূতির গুরুত্ব শিখল।
টুকটুক ও চিকুর মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হলো। চিকু দিনে দিনে সুস্থ হয়ে ওঠার পর টুকটুকের পেছনে পেছনে ঘুরত। রাতে বিছানায় এসে পাশে ঘুমাত। তারা সারা দিন একসাথে খেলত এবং আনন্দ ভাগাভাগি করত। এই সম্পর্ক টুকটুককে দয়ালু ও যত্নশীল করে তুলল। সে বুঝল যে, বন্ধুত্ব শুধু মানুষের মধ্যে নয়, অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও হতে পারে।
মামাতো ভাইবোনেরা এসে চড়ুইভাতির আয়োজন করল। ওদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে চিকু অংশ নিল। টুকটুক ও তার মামাতো ভাইবোনরা একসাথে মজা করল। ছুটির দিনগুলো চিকুকে নিয়ে খুব আনন্দে কেটেছে ওদের। এই সময়টিতে সবাই একে অন্যের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়তে পারল।
টুকটুক দেখল কিছু ছেলে একটি বিড়ালছানাকে তাড়া করছে। সে দৌড়ে গিয়ে তাদের থামাল। টুকটুক বোঝাল যে, ছোটো প্রাণীকে আঘাত করা ঠিক নয়, মজা করার জন্য তাড়া করাও অনুচিত। সে তাদের জিজ্ঞেস করল যে, তাদের তাড়া করলে কেমন লাগত? তার এই কথা শুনে ছেলেরা শান্ত হয়ে গেল। তারপর টুকটুক সেই বিড়ালছানাটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেল।
টুকটুক প্রতিদিন জানালার ধারে পাখিদের জন্য এক মুঠো ভাত রাখত। গ্রীষ্মের দাবদাহে পাখিদের জন্য পানি রাখত। সে চাইত পাখিরা যেন নিরাপদে খাবার ও পানি পায়। এই কাজ তাকে দায়িত্বশীল ও দয়ালু বানাল। সে 'প্রাণীদের বন্ধু' নামে ছোটোখাটো একটা ক্লাব বানিয়ে ফেলল।
টুকটুকের মা বললেন, "তুমি একটা বিড়ালকে ভালোবেসে অনেক কিছু শিখে গেলে।" তিনি বোঝাতে চাইলেন যে, প্রাণীকে যত্ন নিলে মানুষ দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে। টুকটুক বুঝল, বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ভালোবাসা। মা ও মেয়ের এই সংলাপ গল্পের নৈতিক শিক্ষা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
'টুকটুক ও চিকু' গল্প থেকে আমি শিখলাম যে, প্রকৃত ভালোবাসা হলো বিপদে বন্ধুদের সাহায্য করা। সব প্রাণীর প্রতি দয়া ও সহানুভূতি থাকা উচিত। আমরা ছোটো থেকেই দায়িত্বশীল হয়ে অন্যদের পাশে দাঁড়াতে পারি। টুকটুকের মতো ছোটো কাজও বড়ো ভালোবাসার প্রকাশ হতে পারে। এটি আমাদের মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে বন্ধুত্বের গুরুত্ব অনুধাবন করতে, শেখায়।
Related Question
View Allটুকটুক খুব আনন্দিত ছিল কারণ আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হতে চলেছে। এছাড়া দুদিন পর মামাতো ভাইবোনেরা তাদের বাড়িতে আসবে। তাই তার মনে আনন্দের জোয়ার বইছে।
টুকটুকের মামাতো ভাইবোনেরা দুদিন পর তাদের বাড়িতে আসবে। তারা আসলে গ্রীষ্মের ছুটিতে সবাই মিলে মজা করবে।
টুকটুক বাড়ির কাছাকাছি এসে হঠাৎ 'মিউ মিউ' শব্দ শুনল। সে কৌতূহলী হয়ে চারদিকে তাকাল। পরে সে শব্দের উৎস খুঁজতে এগিয়ে গেল।
রাগানের কোণে টুকটুক একটি বিড়ালছানা দেখল। ছানাটি ভয়ে কাঁপছিল এবং কাদামাটিতে মাখানো ছিল। মনে হচ্ছিল যে তার একটি পা কেটে গেছে।
বিড়ালছানাটির শরীর কাদামাটিতে মাখানো কঙ্কালসার ছিল। ছানাটি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে কাঁপছিল। তার পা কেটে যাওয়ায় সে যেন কান্না করছিল।
মা বললেন, "রিড়ালের যত্ন নেওয়া কিন্তু কঠিন কাজ।" তিনি টুকটুককে সতর্ক করলেন যে, এটি সহজ কাজ নয়। কিন্তু টুকটুক মাকে আশ্বস্ত করল যে সে নিজে সবকিছু করবে, মা যেন তাকে একটু সাহায্য করেন। মা রাজি হলে টুকটুক বিড়ালছানাটির যত্ন নেওয়া শুরু করল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!