অন্ধপুরের বণিক পরিবারটি একসময় খুব ধনী ছিল। তবে ধন-সম্পদ হারিয়ে তারা গরিব হয়ে যায়। সেই পরিবারের কেবল বুড়ি ঠাকুরমা এবং তার এক নাতনি বেঁচে ছিল। তারা প্রতিবেশীর বাড়িতে কাজ করে অতি কষ্টে সংসার চালাতেন। তাদের ছিল একটি সোনার থালা। বণিক যখন বেঁচে ছিলেন, সেই থালায় ভাত খেতেন। পরে সেটা কেউ ব্যবহার না করায় ময়লা পরে যায় এবং ঠাকুরমাও থালাটির কথা ভুলে যায়।
'এর আবার দাম কী! এক টাকায় নিলেও ঠকা হয়।'-কথাটি লোভী ফেরিওয়ালা সেরিবা ঠাকুরমাকে বলেন। ঠাকুরমা ও তার নাতনি সোনার থালাটি সেরিবার কাছে বিক্রি করতে চায়। সেরিবা বুঝতে পারে থালাটি সোনার যা ঠাকুরমা ও তার নাতনি জানে না। তাই তাদেরকে ঠকিয়ে সেরিবা থালাটি নেওয়ার জন্যই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
'আমার কাছে তো এত টাকা নেই।'- কথাটি নির্লোভফেরিওয়ালা সেরিবান বলেন। সেরিবান ছিলেন একজন সৎ লোক। তিনি ঠাকুরমার থালাটি দেখেই বুঝতে পারেন সেটি সোনার থালা। সেটির দাম লক্ষ টাকা। এত টাকা দিয়ে সোনার থালা কেনার সামর্থ্য তার ছিল না। তাই সেরিবান ঠাকুমার কাছে কথাটি বলেন।
সেরিবা ছিলেন একজন লোভী ফেরিওয়ালা। তিনি সোনার থালাটিকে মূল্যহীন বলে ঠাকুরমা ও তার নাতনিকে ঠকাতে চেয়েছেন। সেজন্য সেই থালা ফেলে চলে যান। পরে সত্যবাদী সেরিবান জিনিস কিনতে এলে ঠাকুবমা তার সততায় মুগ্ধ হয়ে মাত্র এক হাজার টাকার বিনিময়ে সোনার থালাটি তাকে দিয়ে দেন। সেরিবা সেই থালা নিতে আবার এলে এ ঘটনা শুনে তিনি পাগলের মতো লাফালাফি করতে থাকেন। সোনার থালা না পাওয়ায় তিনি জিনিসপত্র সব ছুড়ে ফেলে হায় হায় করতে লাগলেন।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View All'সোনার থালা' গল্পের ফেরিওয়ালা দুজনের একজনের নাম সেরিবা এবং অন্যজনের নাম সেরিবান। তারা অন্ধপুর নগরে বাণিজ্য করতে যান।
সোনার থালাটি কেউ ব্যবহার না করায় ধীরে ধীরে তাতে ময়লা জমতে শুরু করে। দেখেও বোঝা যাচ্ছিল না থালাটা সোনা দিয়ে তৈরি। তাই সেটিকে ভাঙা থালা-বাটির সাথে রেখে দেওয়া হয়েছিল।
ঠাকুরমার নাতনি থালাটি বিক্রি করতে চাইল। কারণ থালাটি কোনো কাজে লাগে না। আর তার ছিল গয়না কেনার শখ। তাই সেটি বিক্রি করে ঠাকুরমাকে সে গয়না কিনে দেওয়ার কথা বলে।
সেরিবা ছিলেন লোভী ফেরিওয়ালা। তিনি যখন বুঝতে পারেন থালাটি সোনার তখন ঠাকুরমা ও নাতনিকে ঠকিয়ে সেটি নিতে চাইলেন। তাই থালাটিকে মূল্যহীন বোঝাতে তিনি থালা রেখে চলে গেলেন।
প্রথম ফেরিওয়ালা সোনার থালার কোনো দাম না দেওয়ায় ঠাকুরমা বিশ্বাস করে নেন যে, সেই থালার কোনো মূল্য নেই। তাই বিক্রি করার মতো ঘরে আর কোনো জিনিস না থাকায় তিনি দ্বিতীয় ফেরিওয়ালাকে আর ডাকতে চাননি।
প্রথম ফেরিওয়ালা সেরিবার কথা নাতনির ভালো লাগেনি। তার কথা শুনে তার জ্বালা ধরে যায়। পরের ফেরিওয়ালা সেরিবানের ডাক তার কাছে মিষ্টি লাগে। তাই নাতনি তাকে ডাকতে চায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!