২২ অক্টোবর, ২০২৫
বানিয়াপাড়া
প্রিয় আরিফ
প্রীতি ও শুভেচ্ছা নিও। গতকাল তোমার চিঠি পেয়েছি। পরীক্ষার পর আমি কীভাবে সময় কাটাব তুমি তা জানতে চেয়েছ। তাই লিখছি। পরীক্ষা শেষে আমি সম্পূর্ণ মুক্ত। তখন পড়াশোনার চাপ থাকবে না। আমার এক চাচা থাকেন চাঁদপুরে। আমি সেখানে বেড়াতে যেতে চাই। তাঁদের বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মেঘনা নদী। আমি আমার চাচাত ভাই-বোনদের নিয়ে সারাদিন ওই নদীতে নৌকায় করে ঘুরে বেড়াব আর জেলেদের মাছ ধরা দেখব। তারপর বিকাল বেলায় ঘুরে বেড়াব মেঘনা নদীর তীরে। এরপর আমি আমার গ্রামের বাড়ি চলে যাব এবং পরীক্ষার ফল প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত থাকব। অবসর সময়টুকুতে আমার পছন্দের গল্পের বইগুলো পড়ব। আর নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করব।
তুমি কীভাবে পরীক্ষার পর তোমার সময় কাটাতে চাও সেটা জানালে খুশি হব। তোমার বাবা-মাকে আমার সালাম দিও। আজ আর নয়। ভালো থেকো।
ইতি,
তোমার বন্ধু
শাহীনের চিঠিটা শেখর প্রধান শিক্ষককে পৌঁছে দেবে। কারণ, শাহীনের ছোট বোন অনুস্থ। তাই তার একদিন ছুটি লাগবে। এজন্য ক্লাসের বন্ধু শাহীন তাকে একটি চিঠি লিখে অপর চিঠিটি অর্থাৎ আবেদনপত্রটি প্রধান শিক্ষককে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করে। বন্ধুর অনুরোধ রক্ষা করার জন্য এবং বন্ধুর সমস্যা সমাধানের জন্য শেখর প্রধান শিক্ষককে চিঠিটা পৌছে দেবে।
শাহীন দুই ধরনের চিঠি লিখেছিল। সেগুলো হলো ব্যক্তিগতপত্র ও আবেদনপত্র। শাহীন তার বন্ধু শেখরকে যে চিঠিটি লিখেছিল সেটি হলো ব্যক্তিগত পত্র। এই চিঠি বা পত্র নিকটাত্মীয়, বন্ধুবান্ধব, আপনজনদের কোনো কারণে লেখা হয়। শাহীন প্রধান শিক্ষককে যে চিঠি লিখেছিল সেটি হলো আবেদনপত্র।
শাহীন ছুটির জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে ওই পত্রের মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছিল।
শাহীন চিঠি বা পত্র লিখে তার স্কুলে যেতে না পারার সমস্যাটি সমাধান করল। শাহীনের ছোটো বোন অসুস্থ এবং বাবা বাড়িতে ছিল না। তাই সে সেদিন স্কুলে যেতে পারছিল না।
এজন্য সে ছুটির আবেদন জানিয়ে একটি চিঠি ও একটি আবেদনপত্র লিখল প্রধান শিক্ষকের কাছে। এরপর এই আবেদনপত্র পৌঁছানোর জন্য তার ক্লাসের বন্ধু শেখরকে একটি চিঠি লিখে পরিস্থিতি জানানো এবং প্রধান শিক্ষকের কাছে তা পৌঁছানোর অনুরোধ করল। শেখর সেই আবেদনপত্র প্রধান শিক্ষককে জমা দেয় এবং শিক্ষক শাহীনকে ছুটি দেয়। এভাবে শাহীন তার সমস্যার সমাধান করে।
চিঠির মধ্যে সাধারণত ৬টি অংশ থাকে। চিঠিও বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। যেমন- ব্যক্তিগত চিঠি, পারিবারিক চিঠি, নিমন্ত্রণপত্র, ব্যবসায়িক চিঠি, দাপ্তরিক চিঠি, অনুরোধপত্র বা আবেদনপত্র ইত্যাদি।
চিঠির মধ্যে সাধারণত ছয়টি অংশ থাকে। যেমন-
১. যেখান থেকে চিঠি লেখা হচ্ছে সেই জায়গার নাম, ঠিকানা ও তারিখ।
২. সম্বোন্ধন বা সম্ভাষণ।
৩. মূল বক্তব্য (ভেতরে যে কথাগুলো থাকে।)
৪. বিদায় সম্ভাষণ (পত্রের ইতিটানা)
৫. প্রেরকের (যে চিঠি পাঠাচ্ছে তার) নাম ও ঠিকানা।
৬. প্রাপকের (যে চিঠি পাবে তার) নাম ও ঠিকানা।
৫ জানুয়ারি, ২০২৫
বরাবর
প্রধান শিক্ষক
গোলাপকুঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
বিষয় : খেলার মাঠ উঁচু করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন।
জনাব
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমরা আপনার বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। আমাদের বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি বেশ বড়, কিন্তু নিচু। একটু বৃষ্টি হলে মাঠটি পানিতে ডুবে যায়। আমরা খেলাধুলা করতে পারি না। কাছাকাছি অন্য কোনো মাঠও নেই যেখানে গিয়ে আমরা খেলাধুলা করতে পারি।
অতএব, আপনার কাছে একান্ত আবেদন, আমরা যাতে প্রতিদিন খেলাধুলা করতে পারি সেজন্য মাঠটি উঁচু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাধিত করবেন।
নিবেদক
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পক্ষে
জামাল হোসেন
Related Question
View Allছোটো বোনটার অসুখ করায় শাহীন তার দেখাশোনা করে। এদিকে শাহীনের বাবাও বাড়ি নেই। সন্ধ্যায় তিনি ফিরবেন। তাই শাহীন স্কুলে যেতে পারল না।
শাহীন দুইটি চিঠি লেখে। একটি চিঠি লেখে তার বন্ধু শেখরকে এবং অন্য চিঠিটা লেখে তার স্কুলের প্রধান শিক্ষককে।
শাহীনের ছোটো বোন অসুস্থ। তার বাবাও বাড়িতে নেই। তাই শাহীন স্কুলে যেতে পারবে না। বিষয়টি জানিয়ে সে প্রধান শিক্ষককের কাছে ছুটি চেয়ে চিঠি লেখে। ওই চিঠি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সে বন্ধু শেখরের কাছে চিঠি লিখেছিল।
শাহীন তার বন্ধু শেখরকে এবং প্রধান শিক্ষককে চিঠি লিখেছিল।
শেখর যাতে প্রধান শিক্ষকের কাছে তার লেখা চিঠিটি পৌঁছে দেয়, স্কুলের পড়াশোনা ঠিকমতো জেনে আসে এবং স্কুলের লাইব্রেরি থেকে বইটি নিয়ে আসে সেই কথা জানাতে বন্ধু শেখরকে শাহীন চিঠি লিখেছিল।
চিঠি লেখার ফলে শাহীন তার সমস্যার কথা প্রধান শিক্ষককে জানাতে পেরেছে। ফলে সে ছুটি পেয়েছে। অন্যদিকে বন্ধু শেখরকেও তার সমস্যার কথা রোঝাতে পেরেছে। চিঠি লেখার ফলে সে শেখরের কাছ থেকে ক্লাসের পড়াও জানতে পেরেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!