আজকাল প্রায় সবজায়গায় বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা চালু হয়েছে। নানা কারণে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে সাথে সাথে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে। কোনো কারণে সুইচ বন্ধ করতে না পারলে শুকনা কাঠ দিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ছাড়িয়ে দিতে হবে। কাঠ না পেলে শুকনা কাপড় হাতে জড়িয়ে ধাক্কা দিতে হবে। খালি হাতে ধরলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বিপদ ঘটতে পারে। কখনো গায়ে পানি দেওয়া যাবে না। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তির শ্বাসক্রিয়া না চললে কৃত্রিমভাবে শ্বাসকার্য চালাতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
হাড়ের সংযোগ স্থান সঞ্চালনের সময় হঠাৎ মচকে গেলে বা বেঁকে গেলে সংযোগ স্থান সংলগ্ন স্নায়ুতন্ত্রের ওপর টান পড়ে বা ছিঁড়ে গিয়ে যে অসুবিধার সৃষ্টি হয় তাকে মচকানো বলে। নিচে এর প্রাথমিক প্রতিবিধান উল্লেখ করা হলো-
i.আঘাতের সাথে সাথে আহত স্থানে ঠান্ডা পানি বা বরফ লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
ii. আহত স্থানটি নড়াচড়া করা যাবে না।
iii. মচকানো স্থানটি যথাসম্ভব আরামদায়ক অবস্থায় রাখতে হবে।
iv. আহত স্থানে হাড়ভাঙার ব্যান্ডেজ প্রয়োগ করতে হবে।
V.ব্যান্ডেজ সব সময় ভিজা রাখতে হবে। সম্ভব হলে বরফ লাগাতে হবে।
vi. মাংসপেশি মচকে গেলে রোগীকে সহজ ও আরামদায়ক অবস্থায় শোয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
vii. যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
পাগলা কুকুরের মুখের লালায় জলাতঙ্ক রোগের জীবাণু থাকে। কুকুর কামড়ালে সাথে সাথে কার্বলিক এসিড বা পানি দিয়ে আহত স্থানটি ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং তাড়াতাড়ি হাসপাতালে পাঠাবার ব্যবস্থা করতে হবে।
বিছা, মৌমাছি ও ভীমরুলের কামড় মারাত্মক। এরা হুল ফুটিয়ে বিষ থলি থেকে বিষ ঢেলে দেয়। অনেক সময় হুলটি ভেঙে গিয়ে দংশন স্থানে লেগে থাকে। এক্ষেত্রে যদি হুল ফুটে থাকে তবে ক্ষতের চারদিকে চাপ দিয়ে চুলটি বের করে নিতে হবে।
স্কাউট ও গার্ল গাইড বিশ্বব্যাপী একটি অরাজনৈতিক সমাজসেবামূলক যুব আন্দোলন। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর তৎকালীন লেফটেন্যান্ট জেনারেল রবার্ট স্টিফেনশন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল ১৯০৭ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কাউটিং এবং ১৯১০ সালে গার্ল গাইডের ধারণা প্রবর্তন করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কাউটিং কার্যক্রম আরম্ভকরার আগে স্কাউটিংয়ে অংশ নিতে পারে, এমন বয়সের ছেলেমেয়েদের চাহিদা বিবেচনা করে তিনি কিছু বই প্রকাশ করেন। তার মধ্যে স্কাউট শাখার জন্য ১৯০৮ সালে 'স্কাউটিং ফর বয়েজ' এবং গার্ল গাইড আন্দোলনের জন্য 'গার্ল গাইডিং' ও 'দিব্লু বার্ড বুক' অন্যতম। আন্তর্জাতিক স্কাউট আন্দোলনের সাথে সংগতি রেখে বাংলাদেশেও বাংলাদেশ স্কাউটস ও গার্ল গাইডের কর্মকান্ডের সূচনা হয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং-এর কার্যক্রম শুরু হয়।

দুঃস্থ মানবতার সেবা, নৈতিক মূল্যবোধের উন্নয়ন, সুসমন্বিত শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, ধর্মীয় সহনশীলতা প্রভৃতি গুণাবলি অর্জনের সহায়ক শক্তি হিসেবে স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং আন্দোলন বিশ্বব্যাপী প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশও এই কার্যক্রমে গর্বিত অংশীদার হিসেবে ইতোমধ্যে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
এ অধ্যায় শেষে আমরা -
১ । স্কাউটিং কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ব্যাজ অর্জনসহ স্কাউট ও গার্ল গাইডিং-এর অন্যান্য কর্মসূচির ব্যাখ্যা করতে পারব।
২। স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং-এর মাধ্যমে সুশৃংখল জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ হব।
৩। প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োগ সম্পর্কে জানব এবং যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারব।
৪। দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু দুর্ঘটনায় প্রাথমিক চিকিৎসার সেবা প্রয়োগ করতে পারব।
Related Question
View Allস্কাউট ও গার্ল গাইড হলো বিশ্বব্যাপী একটি অরাজনৈতিক সমাজসেবামূলক যুব আন্দোলন। এটি প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন বৃটিশ সেনাবাহিনীর ল্যাফটেন্যান্ট জেনারেল লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল। তিনি ১৯০৭ সালে স্কাউট এবং ১৯১০ সালে গার্ল গাইড ধারণার প্রবর্তন করেন। স্কাউটিং কার্যক্রম বালকদের আত্মনির্ভর ও সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে সহায়তা করে। গাইডিং মেয়েদেরকে ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং সেবামূলক কাজ করার শিক্ষা দেয়।
১৯৭২ সালে বাংলাদেশে স্কাউট ও গার্ল গাইড প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৪ সালে ১ জুন বিশ্ব স্কাউট সংস্থা বাংলাদেশ, বয় স্কাউট সমিতিকে ১০৫তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে এর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। ১৯৭৩ সালে গার্ল গাইড বিশ্ব গার্ল গাইড এ্যাসোসিয়েশন পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ লাভ করে। বাংলাদেশের রাজধানী বেইলি রোডে এর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।
গার্ল গাইড হলো বিশ্বব্যাপী একটি অরাজনৈতিক সমাজসেবামূলক যুব আন্দোলন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে গার্ল গাইড এর কার্যক্রম শুরু হয়। গার্ল গাইডের কর্মসূচিগুলো হলো- ১. দুঃস্থ মানবতার সেবা; ২০ নৈতিক মূল্যবোধের উন্নয়ন; ৩. সুসমন্বিত শারীরিক ও মানসিক বিকাশ; ৪. ধর্মীয় সহনশীলতা প্রভৃতি।
যেকোনো আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রথম শুশ্রুষা এবং সংক্ষিপ্ত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণকে প্রাথমিক চিকিৎসা বলে। প্রাথমিক চিকিৎসা চিকিৎসাশাস্ত্রের একটি অংশ। প্রাথমিক চিকিৎসা দ্বারা হঠাৎ কোনো পীড়া বা দৈব দুর্ঘনায় হাতের কাছের জিনিসের দ্বারা রোগীকে প্রাথমিকভাবে সাহায্য করা যায়। যেমন: অজ্ঞান হওয়া ব্যক্তির চোখে মুখে পানির ঝাপটা দেওয়া।
গার্লস গাইডে দীক্ষাপ্রাপ্ত হওয়ার পর টেন্ডারফুট ব্যাজ দেওয়া হয়। টেন্ডারফুট ব্যাজকে প্রতিজ্ঞা ব্যাজও বলে। শাড়িতে যদি ব্যাজ লাগানো অসুবিধা হয় তা হলে ব্লাউজের কলারের বাম দিকে এই ব্যাজ লাগাতে হয়। এই ব্যাজের উপর অন্য কোন ব্যাজ লাগানো যায় না। টেন্ডারফুট পরীক্ষায় পাশ করার পর ফুল ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় এই ব্যাজ পরা যায়।
শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষত হতে যে রক্ত বের হয় তাকে রক্তক্ষরণ বলে। বিভিন্নভাবে রক্তক্ষরণ হতে পারে যেমন: ১. মুখ দিয়ে রক্ত পড়া; ২. নাক দিয়ে রক্ত পড়া; ৩. শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে রক্ত পড়া ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!