প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত পুষ্টি উপাদানগুলো-
১. সকালের নাস্তায় এক বাটি সিদ্ধ ডালিয়া, একটি ডিম এবং একটি ফল (পেয়রা বা কলা)।
২. দুপুরে থাকবে ভাত, ডাল, একটি সবজি এবং মাছ।
৩. বিকালের নাস্তায় বাদাম, দুধ বা একটি স্যান্ডউইচ।
৪. রাতের খাবারে রুটি বা ভাত, ডাল এবং শাক।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান এবং খাবারের আগে ও পরে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখা।
যে সকল বস্তু গ্রহণের ফলে মানুষের দেহের পুষ্টি সাধন হয় তাকে খাদ্য বলে। শরীর গঠনের কাঁচামাল হচ্ছে খাদ্য। খাদ্যের কাজগুলো হলো- ক্ষুধা নিবৃত্ত করা, শরীরের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধন করা, শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণ করা, শরীরকে সুস্থ সবল ও কর্মক্ষম রাখা এবং শরীরের তাপশক্তি উৎপাদন করা ইত্যাদি।
বেঁচে থাকার জন্য সব প্রাণীরই খাদ্য অপরিহার্য। কারণ খাদ্য আমাদের দেহকে সুস্থ সবল ও কর্মক্ষম রাখে শরীরের তাপশক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে, ক্ষুধা নিবৃত্ত করে, আমাদের শরীরের
পরিষ্কার খাদ্যাভ্যাস এবং রোগ প্রতিরোধে এর ভূমিকা পরিচ্ছন্ন খাদ্যাভ্যাস, সুষম জীবনের চাবিকাঠি পরিচ্ছন্ন, খাদ্যাভ্যাস সুস্থ জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খাবার তৈরির সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবার থেকে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ও ফুড পয়জনিংয়ের মতো রোগ হতে পারে। পরিচ্ছন্ন খাদ্যাভ্যাস আমাদের দেহকে রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য বজায় রাখে।
পরিচ্ছন্ন খাদ্য ব্যবস্থার পরিকল্পনা-
১. খাবার তৈরির আগে হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরি করা।
২. রান্নার সময় রান্না ঘরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা। কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা।
৩. খাবার ঢেকে রাখা এবং সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা।
৪. ব্যবহৃত বাসন-কোসন ধুয়ে পরিষ্কার রাখা।
ভিটামিন ও ধাতব লবণের উদ্ভিজ্জ উৎসগুলো হলো-ঢেঁকিছাটা চাল, বিভিন্ন ধরনের ডাল, মিষ্টি আলু, বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি, যেমন- ঢেঁড়স, পেঁপে, চিচিংগা, লাউ, বেগুন, ধুন্দুল, টমোটো, মিষ্টি কুমড়া, গাজর ইত্যাদি।
বিভিন্ন ধরনের ফলজ উৎস হলো- আমলকী, পেয়ারা, আমড়া, আতা, সফেদা, গাব, বরই, ফুল, জাম্বুরা, বেল, লেবু, পেয়ারা, পাকা পেঁপে, আম, পাকা কাঁঠাল ইত্যাদি।
Related Question
View Allপ্রতিদিনই আমাদের শরীর ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। আর এ ক্ষয়প্রাপ্ত দেহ পুনঃগঠন করার জন্য প্রয়োজন খাদ্যের। প্রতিদিন বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে আমাদের শরীরের যে ক্ষয় হয় তা পূরণ করাই হচ্ছে দেহের ক্ষয়পূরণ।
উদ্দীপকে হেমার দেখা কান্তের শারীরিক অবস্থার কারণ হলো অতিরিক্ত ফ্যাটজাতীয় খাদ্য গ্রহণ। খাদ্যের ছয়টি উপাদানের মধ্যে 'স্নেহপদার্থ বা ফ্যাটই সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপন্ন করে। প্রায় সব প্রাকৃতিক খাদ্যবস্তুর মধ্যে এদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। স্নেহজাতীয় পদার্থ পানিতে অদ্রবণীয় এবং পানির চেয়ে হালকা। কৈশোরে শক্তির চাহিদা বেশি থাকে। তাই এ বয়সীদের জন্য খাদ্যে ফ্যাটের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত ফ্যাটবহুল খাবারে শরীরের ওজন বেশি বেড়ে যেতে পারে। যেমনটি বেড়েছে উদ্দীপকের কান্তের। অতিরিক্ত ফ্যাটবহুল খাদ্যগ্রহণের ফলে কান্তের শরীর মোটা হয়ে যাচ্ছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কাঁন্ত ও সুপ্তির শারীরিক অবস্থার জন্য খাদ্য উপাদান সম্পর্কে অজ্ঞতাই মূলত দায়ী। কারণ কান্ত ফ্যাটজাতীয় খাদ্য গ্রহণের ফলে মোটা হয়ে যাচ্ছে আর সুপ্তি ভিটামিন 'এ' জাতীয় খাদ্য গ্রহণ না করার কারণে সন্ধ্যার পর চোখে ঝাপসা দেখছে। তারা জানে না মানুষের শরীর সুস্থ রাখার জন্য বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন হয়। পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ না করলে স্বাস্থ্য রক্ষা করা যায় না। কেউ যখন প্রয়োজনের চেয়ে কম খাদ্য গ্রহণ করে তখন তার অপুষ্টির কারণে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। যেমনটি হয়েছে সুপ্তির ক্ষেত্রে। আবার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাদ্য গ্রহণ করলে অতিপুষ্টি দেখা দেয়। যেমনটি হয়েছে কান্তের ক্ষেত্রে। অতএব সঠিক পরিমাণে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের ফলে দেহের যথাযথ পুষ্টি অবস্থা বজায় থাকে। সুতরাং বলা যায়, খাদ্য উপাদান সম্পর্কে অজ্ঞতাই কান্ত ও সুপ্তির শারীরিক সমস্যার জন্য দায়ী কথাটি যথাযথ ও সঠিক।
আমরা কেবল বেঁচে থাকার জন্যই খাদ্য গ্রহণ করি না। খাদ্য গ্রহণের আরেকটা উদ্দেশ্য হচ্ছে দেহের যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!