থের মহাকশ্যপ ছিলেন বুদ্ধের প্রথম মহাশ্রাবক। বহু জন্মের পুণ্যফলে তিনি একবার ব্রহ্মলোকে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর গৃহী নাম ছিল পিপ্পলী মানব। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল কপিলানি।
ব্রহ্মলোক থেকে যাঁরা পৃথিবীতে জন্ম নেন সংসার ধর্মে তাঁদের আসক্তি থাকে না। পিপ্পলী মানব গৃহত্যাগের সংকল্প তাঁর স্ত্রীকে জানালে ভদ্রা কপিলানিও গৃহত্যাগের সংকল্প করেন। তাঁরা উভয়েই বুদ্ধের উদ্দেশ্যে গৃহত্যাগ করেন।
উৎপলবর্ণা শ্রাবস্তীর এক শ্রেষ্ঠী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সে ছিল অপরূপ সুন্দরী এবং বিভিন্ন দেশ থেকে রাজা, মহারাজা ও শ্রেষ্ঠীগণ তাঁর পিতার নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়।
এক রাজার সাথে মেয়েকে বিয়ে দিলে অন্য রাজা অসন্তুষ্ট ও ক্রুদ্ধ হবেন। ফলে রাজায় রাজায় যুদ্ধ হবে এবং অনেক মানুষের মৃত্যু হবে। এ বিপদ থেকে উদ্ধার হওয়ার জন্য উৎপলবর্ণা প্রব্রজ্যা গ্রহণ করলেন। 'তিনি ধ্যান সাধনায় আত্মনিয়োগ করে সাধনার বলে পূর্বজন্মের স্মৃতি, পরচিত্ত জ্ঞান, দিব্যজ্ঞান ও ঋদ্ধিশক্তি লাভ করে। অবশেষে অর্হত্ব ফল লাভ করেন। বুদ্ধ জেতবনে সংঘ সম্মেলনের কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ উৎপলবর্ণাকে ঋদ্ধিশক্তিতে সর্বশ্রেষ্ঠার আসন দান করেন।
আম্রপালির জীবনী হতে আমরা দেখতে পাই, কর্মের প্রায়শ্চিত্ত সকলকেই ভোগ করতে হয়। কর্মের ফল ভোগ থেকে কেউ রেহাই পায় না। ভালো কাজের সুফল যেমন আছে, তেমনি খারাপ কাজের শাস্তিও রয়েছে। তাই মানুষকে সবসময় ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কাউকে কটু কথা বলা উচিত নয়। কর্মের পরিণাম চিন্তা করে সবার অকুশল কর্ম হতে বিরত থাকা উচিত।
সুদত্ত শ্রেষ্ঠী উত্তরাধিকার সূত্রে পিতার বিশাল ধনসম্পদের অধিকারী হন। সুদত্ত শ্রেষ্ঠী অত্যন্ত দানশীল ছিলেন।
গরিব ও দুখীদের সুদত্ত মুক্ত হস্তে দান করতেন। কোনো অসহায় মানুষ তাঁর বাড়ি থেকে শূন্য হাতে ফিরে যেত না। বিশেষত তিনি অনাথদের পিন্ড দান করতেন। পিণ্ড হলো আহার বা খাদ্যদ্রব্য। অনাথদের অকাতরে পিন্ড দান করতেন বলেই সবার কাছে তিনি অনাথপিণ্ডিক নামে পরিচিত।
Related Question
View Allমহাকশ্যপ ছিলেন বুদ্ধের প্রথম মহাশ্রাবক।
গৌতম বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ লাভের পর তাঁর ধর্মবাণী সংগ্রহের জন্য এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যা প্রথম মহাসঙ্গীতি নামে অভিহিত। মহাকশ্যপ থের এ সঙ্গীতিতে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন। ধর্মবাণী সংগ্রহের জন্য পাঁচশত অর্হৎ ভিক্ষু নির্বাচিত করেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত সুচিত্রার ঘটনাটি থেরী উৎপলবর্ণার জীবনীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুচিত্রার কাহিনিটি উৎপলবর্ণা থেরীর চরিত্রটিকে নির্দেশ করে।
উৎপলবর্ণা ছিলেন অপরূপা। শৈশব থেকে তিনি ধর্মপরায়ণ ছিলেন। বড় হয়ে তিনি প্রায় পদমুত্তর বুদ্ধের ধর্মদেশনা শুনতে বিহারে যেতেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ ভিক্ষুণী হওয়ার ইচ্ছা ছিল। উৎপলবর্ণার রূপ-গুণে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে রাজা, মহারাজা ও শ্রেষ্ঠীগণ তাঁকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব পাঠায়। তাকে বিয়ে করা নিয়ে রাজাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও দ্বন্দ্বের উপক্রম হয়। এতে উৎপলবর্ণা প্রব্রজ্যা গ্রহণ করে বিহারে ধর্মচর্চায় অনুপ্রাণিত হয়।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে সুচিত্রার ঘটনাটি থেরী উৎপলবর্ণার জীবনীকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের উক্তিটির সাথে আম্রপালির জীবন কাহিনির সাদৃশ্য রয়েছে। আম্রপলির জীবনী বিশ্লেষণ করলে উক্তিটির যথার্থতা পাওয়া যায়।
আম্রপালি বৈশালীর রাজোদ্যানে একটি বড় আমগাছের নিচে জন্মগ্রহণ করেছিল বলে তাঁকে আম্রপালি নামে ডাকা হয়। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আম্রপালি অপূর্ব সুন্দরী হয়ে ওঠে। তার রূপ সৌন্দর্যে আশপাশের রাজ্যের রাজপুত্রগণ মুগ্ধ হন। সব রাজপুত্রই তাঁকে বিয়ে করার সংকল্প করেন। ফলে রাজপুত্রদের মধ্যে কলহ দেখা দেয়। তাই কলহ অবসানে আম্রপালি কাউকে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি রাজনর্তকীর জীবন বেছে নেন এবং সকল রাজপুত্রের সাথে সুসম্পর্ক সৃষ্টি করেন।
অনিত্যতা মধ্য বয়সে একদিন বৃদ্ধের ধর্মদেশনা শুনে জীবনের অনিত্যতা উপলব্ধি করেন। সে বুঝতে পারেন মোহ, দেহ, রূপ, যৌবন সবই নশ্বর ও ক্ষণস্থায়ী।
সুতরাং উদ্দীপকে অর্পণার উক্তিটির সাথে আম্রপালির জীবন কাহিনি সাদৃশ্যপূর্ণ।'
'ঋদ্ধি' শব্দের অর্থ হচ্ছে ধ্যান-সাধনার প্রভাবে অলৌকিক ক্ষমতা, অর্জন।
দীক্ষা গ্রহণের আটদিন পর মহাকশ্যপ মহত্ত্ব ফল লাভ করেন। গৌতম বুদ্ধ ভিক্ষুদের ডেকে মহাকশ্যপের অশেষ গুণের প্রশংসা করলেন। বুদ্ধের ধর্ম দর্শনে তিনি অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। তাঁর অশেষ গুণাবলির কথা বিবেচনা করে ভিক্ষুগণ তাঁকে অগ্রমহাশ্রাবক পদে অধিষ্ঠিত করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!