মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল্লাহ এবং মায়ের নাম আমিনা। ছোটোবেলা থেকেই মুহাম্মদ (স.) শান্ত ও বিনয়ী স্বভাবের ছিলেন। সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতেন। কখনো অহংকার করতেন না। কাউকে অপমান বা ছোটো করতেন না। মানুষের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়াতেন এবং সহযোগিতা করতেন। যুবক বয়সে 'হিলফুল ফুযুল' নামে একটি শান্তিসংঘ গঠন করে সমাজে শান্তি ফেরাতে চেষ্টা করেন।
২৫ বছর বয়সে হজরত মুহাম্মদ (স.) হজরত খাদিজা (রা.) কে বিয়ে করেন। এবপর তিনি মাঝে মাঝে হেরা গুহায় গিয়ে ধ্যান করতেন। এ সময় তাঁর বয়স ছিল ৪০ বছর। তখন হেরা গুহাতেই তিনি নবুয়ত লাভ করেন।।
নবুয়ত লাভের পর হজরত মুহাম্মদ (স.) সবাইকে এক আল্লাহর ইবাদাত করার আহ্বান জানান। মন্দ লোকেরা তাঁর বিরোধিতা করলেও তিনি ধৈর্য ও মনোবল বজায় রেখে কাজ করে যেতে লাগলেন। ধীরে ধীরে মানুষ মহানবি (সা.) এর আহ্বানে সাড়া দিতে লাগল। ইসলামের বাণী ছড়িয়ে পড়ল দূর-দূরান্তে। শান্তি ও সাম্যের ধর্ম হিসেবে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলো। অবশেষে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ৬৩ বছর বয়সে মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.) মদিনায় ইন্তেকাল করেন।
মহানবি (স.) ছিলেন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি ও রাসুল। তাঁর বাল্যকাল সম্পর্কে কয়েকটি বাক্য হলো-
১. বাল্যকালে মহানবি (স.) খুব শান্তশিষ্ট ও বিনয়ী ছিলেন।
২. তিনি ছোটো-বড়ো সবার সাথে খুব ভালো ব্যবহার করতেন।
৩. কখনো অহংকার করতেন না।
৪. কাউকে অপমান বা ছোটো করতেন না।
৫. মানুষের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়াতেন এবং সহযোগিতা করতেন।
৬. কথা দিয়ে কথা রাখতেন।
হাজরে আসওয়াদ হলো পবিত্র কাবা শরিফের একটি মর্যাদাপূর্ণ কালো পাথর।
একবার কাবা শরিফ মেরামতের সময় হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) পুনঃস্থাপন করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ সময় আরবে অনেক গোত্র ছিল। কারা এই পাথর স্থাপন করবে তা নিয়ে গোত্রগুলোর মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পরদিন সকালে সবার আগে যে কাবাঘরে প্রবেশ করবে তার সিদ্ধান্ত মানা হবে। পরদিন সকালে হজরত মুহাম্মদ (স.) সবার আগে কাবা শরিফে প্রবেশ করেন। এতে সবাই খুশি হয় এবং তারা ভরসা পায় যে, আল-আমিনের সিদ্ধান্তই সবচেয়ে ভালো হবে। তখন মহানবি (স.) পবিত্র কাবা শরিফে হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করেন।
হজরত আবু বকর (রা.)-প্রথম পবিত্র কুরআনকে একত্রিত করে গ্রন্থ আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেন। হযরত আবু বকর (রা.) এর জীবনাদর্শ সম্পর্কে ছয়টি বাক্য হলো-
১. তাবুক যুদ্ধের সময় হজরত আবু বকর (রা.) তাঁর সকল ধন-সম্পদ ইসলামের সেবায় দান করে দেন।
২. তিনি দানশীল, দয়ালু ও পরোপকারী ছিলেন।
৩. তিনি সকল বিপদ-আপদে নবিজি (স.) ও অন্য সাহাবিদের পাশে দাঁড়াতেন।
৪. তিনি তাঁর আশপাশের গরিব ও অসহায় মানুষদের সবসময় সহযোগিতা করতেন।
৫. তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও বিচক্ষণ মানুষ ছিলেন।
৬. হজরত আবু বকর (রা.) কে 'ইসলামের ত্রাণকর্তা' বলা হয়।
ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) কে 'ইসলামের ত্রাণকর্তা' বলা হয়। তিনি ৫৭৩ খ্রিষ্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।
মহানবি (স.) এর ইন্তেকালের পর খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) এর ভূমিকা হলো-
মহানবি (স.) এর ইন্তেকালের পর হজরত আবু বকর (রা.) ইসলামের প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন। সে সময় আরবে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হয়। কেউ কেউ নিজেকে নবি দাবি করে, কিছু লোক ইসলাম ত্যাগ করে, আবার কেউবা জাকাত দিতে অস্বীকার করে। তাঁর চেষ্টায় ইসলামে পুনরায় শৃঙ্খলা ফিরে আসে। এছাড়া তিনিই প্রথম পবিত্র কুরআনকে একত্রিত করে গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করার উদ্যোগ নেন।
হজরত আবু বকর (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা। হজরত আবু বকর (রা.) ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। ছেলেবেলা থেকেই হজরত মুহাম্মদ (স.) এর সাথে তাঁর গভীর বন্ধুত্ব ছিল। বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে হজরত আবু বকর (রা.) প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। মহানবি (স.) এর ইন্তেকালের পর তিনি প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন। সে সময় আরবে বেশকিছু সমস্যা তৈরি হয়। হজরত আবু বকর (রা.) এর চেষ্টায় সমস্যাগুলো সমাধান হয়। ইসলামে পুনরায় শৃঙ্খলা ফিরে আসে। হজরত আবু বকর (রা.) ছিলেন দয়ালু ও পরোপকারী মানুষ। তিনি তাবুকের যুদ্ধের সময় তাঁর সকল ধনসম্পদ দান করে দেন ইসলামের সেবায়। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বের ফলে হজরত মুহাম্মদ (স.) এর ইন্তেকালের পর তৈরি হওয়া সমস্যা দূরীভূত হয়েছিল। তাই তাঁকে 'ইসলামের ত্রাণকর্তা' বলা হয়। তিনি ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে ৬১ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allমহানবি (স.) তাঁর দুধমাতা হালিমা (রা.) কে দেখামাত্র দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতেন।
হজরত আবু বকর (রা.) পবিত্র কুরআনকে একত্রিত করে প্রকাশ করার উদ্যোগ নেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!