শিশুর জীবনে খেলার বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এগুলোকে খেলার মূল্য হিসেরে বিবেচনা করা হয়। নিচে খেলার প্রয়োজনীয়তা সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. শারীরিক ও মানসিক বিকাশ: খেলাধুলা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে যথেষ্ট সহায়ক। শিশু খেলাধুলার সময় ছুটাছুটির ফলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঞ্চালন হয়।
২. চিকিৎসা মূল্য: শিশু খেলার মধ্যে ডুবে থেকে মনের দুঃখ, বেদনা, উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ, হিংসা, ক্ষোভ ভুলে যায়। এতে তাদের মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে।
৩. সামাজিক মূল্য দলগত খেলার মাধ্যমে অন্যের সাথে মেলামেশা, পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক রীতিনীতি, খেলার সামগ্রী, ভাগাভাগি করা, দুঃখ-আনন্দ পারস্পরিকভাবে অনুভব করা ইত্যাদি সামাজিক গুণাবলি শেখে।
৪. শিক্ষালাভের মূল্য: শিশুর জীবনে খেলা শিক্ষালাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। খেলার মধ্য দিয়ে শিশু দক্ষতা ও কলাকৌশল অর্জন করে। খেলার সামগ্রী, চার্ট, ছবির মাধ্যমে শিশুর সংখ্যা জ্ঞান এবং অক্ষরজ্ঞান হয়।
পাশাপাশি খেলা সামাজিকতার প্রথম ধাপ। এই খেলার সময় শিশুরা একে অন্যের সাথে না খেলে পাশাপাশি বসে একই সরঞ্জাম দিয়ে খেলে। তাদের মধ্যে কোনো যো গাযোগ থাকে না। তবে তারা একে অপরের খেলনা দিয়ে খেলে। পরস্পরের সাথে কোনো খেলনা ভাগাভাগি করে নেওয়ার মনোভাব গড়ে ওঠে এবং সমবায় খেলা ও সামাজিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই খেলা শিশুরা দল গঠন করে খেলে। যেমন- ক্রিকেট, ফুটবল, হাডুডু ইত্যাদি। শৈশাবে নিজেরাই খেলার নিয়মকানুন তৈরি করে খেলে, ফলে তাদের মধ্যে দলীয় নিয়মকানুন মেনে চলা, সচেতনতা, সহযোগিতা করার প্রবণতা ইত্যাদি সামাজিক গুণাগুণ বৃদ্ধি পায়।
একটি শিশু জন্মের প্রথম বছরে যে খেলা খেলে তার বয়স পাঁচ বছর হয়ে গেলে সে ওই একই খেলা খেলে না। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার খেলার প্রকৃতি পরিবর্তন হয়। যেমন- শিশু জন্মের প্রথম বছরে একাকী খেলা খেলে। দেড় থেকে তিন বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা পাশাপাশি খেলা খেলে। তিন থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সহযোগিতামূলক' খেলা খেলে এবং পাঁচ বা ছয় বছর বয়স থেকেই শিশুদের মধ্যে সমবায় খেলার প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
শিশুদের খেলার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া গঠনমূলক, আবিষ্কারমূলক ও সৃজনশীল খেলায় শিশুকে উৎসাহিত করা। খেলা যাতে শিশুর কৌতূহল বাড়াতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে খেলার উপকরণের ব্যবস্থা করা। শিশুদের খেলার সরঞ্জাম নিরাপদ ও আকর্ষণীয় হওয়া, খেলার স্থান পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস পূর্ণ, খোলামেলা ও নিরাপদ হওয়া। শিশুকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলতে দেওয়া ও সবসময় খেলায় হস্তক্ষেপ না করা।
শিশুর খেলা
শিশুরা খেলে, কারণ খেলা তাদের আনন্দ দেয়। খেলা শুধু আনন্দই দেয় না, খেলার মাধ্যমে শিশুর দৈহিক, মানসিক, সামাজিক দক্ষতার বিকাশ ঘটে। লাধুলা বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়, সহনশীলতা ও সহমর্মিতা শেখায় এবং ভাগাভাগি করে নেওয়ার মনোভাব তৈরিতে সাহায্য করে। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে শিশু-সঙ্গী সাথিদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। শিশুরা নিজেকে অন্যের কাছে প্রকাশ করতে পারে, অন্যকে বুঝতে শেখে, অন্যের অনুভূতিকে মূল্য দিতে শেখে। খেলাধুলা তাদের মধ্যে ন্যায় ও অন্যায় বোধ জাগ্রত করে। খেলার মধ্য দিয়ে শিশুরা কল্পনা ও নতুন কিছু সৃষ্টির চর্চা করে।
শৈশবের প্রথম বছরগুলোতে যখন শিশুর মস্তিষ্ক পড়াশোনার জন্য প্রস্তুত থাকে না, তখন খেলার মধ্য দিয়ে শিশুরা অনেক কিছু শিখতে পারে। যেমন- শব্দ, অক্ষর, সংখ্যা মুখস্থ করার চেয়ে খেলার মাধ্যমে শিশুকে শেখানো সহজ হয়। আধুনিক গবেষণায় প্রমাণিত যে, খেলা শিশুর সার্বিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকেরা দেখেছেন যে, খেলাধুলা শিশুর শারীরিক ও সামাজিক দক্ষতা অর্জনের সহজ মাধ্যম যা তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে খাপ খাওয়াতে সহায়তা করে। খেলা শিশুদের অভিজ্ঞতা বাড়ায়, আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার চর্চা শিশুর বিনোদনের মাধ্যম। খেলাধুলা শিশুকে অপরাধ প্রবণতা থেকে রক্ষা করে। যেসব শিশুর কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতা আছে খেলাধুলা তাদের জন্য উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করে।
Related Question
View Allবিভিন্ন দেশের মুদ্রা ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। এদের নামও ভিন্ন।
মুদ্রায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, স্থান ও প্রতীকের ছাপ থাকে। যেমন- বাংলাদেশের মুদ্রার উপর শাপলা, যমুনা সেতু, পরিবার ইত্যাদির ছবি আছে। এসব ছবি থেকে বাংলাদেশের কৃষ্টি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। তাই মুদ্রা সংগ্রহ বিনোদনের পাশাপাশি জ্ঞান বৃদ্ধিতেও সহায়ক।
ফারাজের অবসর সময় কাটানোর উপায়টি বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়।
সে অবসর সময়ে কাগজ কেটে বিভিন্ন রকম ফুল, পাখি ও নকশা তৈরি করে, যা তার সৃজনশীল গুণাবলিকে বিকশিত করে। এর মাধ্যমে ফারাজ
নিজের উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রকাশ বা নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারবে। এছাড়া ডাকটিকিট সংগ্রহের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের নাম, প্রতীক, ঐতিহ্য সম্পর্কে সে জানতে পারবে। আবার ছড়া, রম্য রচনা, মুক্তিযুদ্ধের বই, কার্টুন, রহস্যমূলক বই, গল্প, বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের জীবনী পড়ে ফারাজের জ্ঞান ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে এবং কল্পনা ও চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটবে। এভাবেই অবসর সময় কাটানোর উপায়গুলো ফারাজের বুদ্ধি ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাবে।
খেলাধুলা আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দলগত খেলার মাধ্যমে আমরা সামাজিক গুণাগুণ অর্জন করি।
খেলাধুলার মাধ্যমে আমরা যখন অন্যের সাথে মেলামেশা করি, কথা বলি, দল গঠন করি তখন আমাদের মধ্যে সামাজিক বিকাশ ঘটে। এছাড়া খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের দলীয় নিয়মকানুন মেনে চলা, সচেতনতা ও একে অপরকে সহযোগিতা করার প্রবণতা গড়ে ওঠে। যেমন- ফুটবল, হা-ডু-ডু, ক্রিকেট, কানামাছি ইত্যাদি দলগত খেলা সামাজিক বিকাশ ঘটায়।
ফারাজ ফুটবল টিমের নির্ভরযোগ্য একজন গোলকিপার। যেহেতু ফুটবল খেলা সামাজিক বিকাশ ঘটায় সেহেতু আমরা বলতে পারি, ফারাজকে অনুসরণ করার মাধ্যমে সামাজিক গুণাবলি অর্জন সহজেই সম্ভব। এছাড়া ফারাজ প্রতিবেশির বিপদে আপদে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে, যার মাধ্যমেও সামাজিক গুণ অর্জন সম্ভব।
প্রতিটি সুস্থ শিশু দিনের অধিকাংশ সময় খেলাধুলা করে কাটায়।
শিশু জন্মের প্রথম বছরে একা একা নিজের হাত-পা নিয়ে খেলে।
দেড় থেকে তিন বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত একে অন্যের সাথে না খেলে পাশাপাশি বসে একই খেলনা দিয়ে খেলে। তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা পরস্পরের মধ্যে খেলার সামগ্রী বিনিময় করে খেলে। পাঁচ-ছয় বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে দল গঠন করে খেলার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এভাবেই বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে খেলার প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!