ধর্মীয় সম্প্রীতি সম্পর্কে মহানবি (স.) এর আদর্শ বর্ণনা করা হলো-
১. মহানবি (স.) মদিনায় বিভিন্ন ধর্মের লোকদের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
২. মহানবি (স.) নিজে ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন এবং সাহাবিগণকেও ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন।
৩. মহানবি (স.) ভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
৪. একবার নামাজের সময় হলে একজন লোক বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! নামাজের সময় হয়েছে। কিন্তু মসজিদে একদল অমুসলিম রয়েছে। তখন মহানবি (স.) বলেন, "অমুসলিমদের কারণে ভূমি অপবিত্র হয় না।”
৫. মহানবি (স.) অমুসলিম রোগীদের দেখতে যেতেন ও সেবা করতেন।
সুতরাং আমরাও মহানবি (স.) এর আদর্শ অনুসরণ করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখব।
বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে সহনশীল আচরণ করা যায়। নিচে ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে সহনশীল আচরণের তালিকা লেখা হলো-
১. ভিন্ন ধর্মের মানুষকে নির্বিঘ্নে নিজেদের ধর্ম পালন করতে দেওয়া।
২. উৎসব ও অনুষ্ঠান পালনে বাধা না দেওয়া।
৩. তাদের সম্পদের সুরক্ষা দেওয়া।
৪. ভিন্ন ধর্মের মানুষের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করা, সহযোগিতা করা।
৫. সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করা।
৬. ধর্ম পালনে বাধা না দেওয়া।
৭. কোনো ধর্ম সম্পর্কে মন্দ কথা না বলা।
৮. কাউকে নির্যাতন না করা।
ধর্মীয় সম্প্রীতি হলো সকল ধর্মের মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকা, কারও ক্ষতি না করা। একে অন্যকে সহযোগিতা করা। ধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্ব সম্পর্কে ছয়টি বাক্য হলো-
১. ধর্মীয় সম্প্রীতির ফলে সকল ধর্মের লোকদের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।
২. সমাজে শান্তি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।
৩. একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করার মনোভাব বৃদ্ধি পায়।
৪. বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা একসাথে মিলেমিশে থাকে।
৫. তারা একে অন্যের প্রতি সহনশীল ও সহমর্মী হয়।
৬. ধর্মীয় সম্প্রীতি মানুষকে মর্যাদাবান ও শ্রদ্ধাশীল করে।
মদিনা সনদ হলো মদিনায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য লিখিত একটি চুক্তি। অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি গড়ে তোলার জন্য আমরা যে কাজগুলো করতে পারি তা হলো-
১. অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করা।
২. অন্য ধর্মের মানুষের ক্ষতি না করা।
৩. বিপদে-আপদে তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা।
৪. সামাজিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো ও অংশগ্রহণ করা।
৫. একসঙ্গে মিলেমিশে থাকা।
৬. তাদের সাথে সহনশীল ও সহমর্মী হওয়া।
যেসব কাজের মাধ্যমে আমরা অন্য ধর্মের লোকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি তা হলো-
১. সকল ধর্মের মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকা।
২. অন্য ধর্মের কোনো মানুষের ক্ষতি না করা।
৩. সকল ধর্মের লোকদের সাথে সহনশীল ও সহমর্মী হওয়া।
৪. একে অন্যের সহযোগিতা করা।
৫. সামাজিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ ও অংশগ্রহণ।
৬. অন্য ধর্মের প্রতিবেশীর খোঁজখবর নেওয়া এবং বিপদে-আপদে তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা।
৭. ভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করা।
৮. ভিন্ন ধর্মের কেউ অসুস্থ হলে তার সেবা করা।
৯. অভাবগ্রস্ত হলে অভাব দূর করা।
১০. দরিদ্র হলে আর্থিক সাহায্য করা।
আমরা অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি যেসব সহনশীল আচরণ করতে পারি তা হলো-
১. তাদেরকে নিজেদের ধর্ম পালন করতে দেওয়া।
২. তাদের উৎসব ও অনুষ্ঠান পালন করতে বাধা না দেওয়া।
৩. তাদের উপকার করা।
৪. তাদের সম্পদের সুরক্ষা দেওয়া।
৫. তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করা।
৬. তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা।
৭. তাদের উপাস্যকে গালি না দেওয়া।
৮. তাদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করা।
৯. তাদের ধর্ম সম্পর্কে মন্দ কথা না বলা।
১০. তাদের নির্যাতন না করা।
যে কাজগুলোর মাধ্যমে ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করা যায় তার একটি তালিকা নিচে তৈরি করা হলো-
- সকল ধর্মের মানুষকে সম্মান করা।
- তাদেরকে অভিবাদন জানানো।
- তাদেরকে মর্যাদা দেওয়া।
- তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া।
- সমাজের বিভিন্ন কাজে তাদের সাথে অংশগ্রহণ করা।
- তাদের ক্ষতি হয় এমন কাজ না করা।
- তাদের মধ্যে বয়সে বড়দের সম্মুখে উঁচু গলায় কথা না বলা।
- তাদের সাথে ঝগড়া-বিবাদ না করা।
- তাদের সাথে বেয়াদবি হয় এমন কাজ না করা।
- তাদের আত্মীয়দের সাথে শ্রদ্ধার সাথে কথা বলা।
- যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদেরকে অতিথি হিসেবে রাখা।
- তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ না করা।
ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ প্রদর্শন সম্পর্কে মহানবি (স.) এর জীবনের ঘটনা-
মহানবি (স.) ভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। একবার তাঁর নিকট দিয়ে এক ব্যক্তির লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি তা দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন। উপস্থিত সাহাবিগণ বললেন, এটি তো ইহুদির লাশ। মহানবি (স.) তাদেরকে প্রশ্ন করলেন, সে কি মানুষ না? এভাবে তিনি অন্য ধর্মের মানুষদের মানুষ হিসেবে সম্মান করেছেন। একবার নামাজের সময় হলে একজন লোক বলল, হে আল্লাহর রাসুল! নামাজের সময় হয়েছে। কিন্তু মসজিদে একদল অমুসলিম রয়েছে। মহানবি (স.) বললেন, "অমুসলিমদের কারণে ভূমি অপবিত্র হয় না।"
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allমহানবি (স.) মদিনায় বিভিন্ন ধর্মের লোকদের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
পবিত্র কুরআনে ভিন্ন ধর্মের উপাস্যকে গালি দিতে বারণ করা হয়েছে।
মানুষ হিসেবে সব ধর্মের লোক সম্মানিত
অভাবী, ক্ষুধার্ত বা বিপদগ্রস্ত মানুষ যে ধর্মেরই হোক তাকে সহযোগিতা করতে হয়।
হজরত উমর (রা.) এক ইহুদি বৃদ্ধকে ভিক্ষা করতে দেখে সাহায্য করেন।
ধর্মীয় সম্প্রীতি হলো সকল ধর্মের মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকা ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!