ভিটামিন হলো খাদ্যের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার জটিল জৈব রাসায়নিক যৌগ। ভিটামিনের কাজগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-
১. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীরকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখে।
২. স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা ঠিক রাখে।
৩. চোখ ও ত্বকসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের সুস্থতা রক্ষা করে।
৪. রক্ত গঠনে সাহায্য করে।
৫. শরীরে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের যথাযথ ব্যবহার করে স্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতা অটুট রাখে।
উৎস অনুযায়ী স্নেহ পদার্থকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়-
১. উদ্ভিদ স্নেহ: যেসব স্নেহ পদার্থ উদ্ভিদ জগৎ থেকে পাওয়া যায় তাদেরকে উদ্ভিজ স্নেহ বলে। যেমন- নারিকেল তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি।.
২. প্রাণিজ স্নেহ: যেসব স্নেহ পদার্থ প্রাণিজগৎ থেকে পাওয়া যায় তাদেরকে প্রাণিজ স্নেহ বলে। যেমন- গরুর চর্বি, ঘি, মাখন, মাছের তেল ইত্যাদি।
আমরা যে খাবারগুলো খাই সেগুলোতে পুষ্টি উপাদানগুলো জটিল অবস্থায় থাকে। এই জটিল অবস্থায় পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরে শোষিত হতে পারে না এবং কোনো কাজে আসে না। কিন্তু যখন খাবারগুলো পরিপাক হয় তখন জটিল পুষ্টি উপাদানগুলো ভেঙে গিয়ে সরল উপাদানে পরিণত হয়। সেই সরল উপাদানগুলো আবার শোষিত না হওয়া পর্যন্ত দেহে কোনো প্রকার কাজ করতে পারে না। তাই বলা যায়, আমাদের দেহে পরিপাক তন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অনেক।
খাদ্য উপাদানের প্রকারভেদ, উৎস ও কাজ
আমরা জানি যে, খাদ্যকে ভাঙলে যে বিভিন্ন ধরনের জৈব রাসায়নিক উপাদান পাওয়া যায় তাদেরকে খাদ্য উপাদান বলে। এই উপাদানগুলো আমাদের শরীরে পুষ্টি সাধন করে, তাই এদেরকে পুষ্টি উপাদানও বলে। আমাদের খাদ্যে প্রধানত ছয় প্রকারের খাদ্য উপাদান বা পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় যা নিচের ছকে দেখানো হলো।

আমরা এখন উল্লিখিত উপাদানগুলো সম্পর্কে জানব।
Related Question
View Allখাদ্যের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার জটিল জৈব রাসায়নিক যৌগ রয়েছে যা জীবদেহে খুব সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে ভিটামিন বলে।
মানবদেহের যে অঙ্গগুলো পরিপাক ও শোষণের কাজ করে তাদেরকে পরিপাকতন্ত্র বলে। আমরা যে খাবারগুলো খাই সেগুলোকে পরিপাকের মাধ্যমে শরীরের শোষণ উপযোগী করতে পরিপাকতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
১নং চিত্রের খাদ্যগুলো হলো দুধ, ডিম, মাংস ও ভাত।
দুধ, ডিম ও মাংস প্রোটিন জাতীয় খাদ্য। আর ভাত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য। এ খাদ্যগুলো আমাদের দেহের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন। যেমন-
- আমাদের দেহের অস্থি, রক্তকণিকা হতে শুরু করে দাঁত, চুল, নখ তৈরিতে প্রোটিন প্রয়োজন।
- ক্ষয়প্রাপ্ত কোষকলার গঠন ও ক্ষতস্থান সারাতে প্রোটিনের ভূমিকা রয়েছে।
- দেহে ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেটের ঘাটতি থাকলে প্রোটিন তাপ উৎপাদনের কাজ করে থাকে।
- শরীরে অ্যান্টিবডি (antibody) তৈরি করতে প্রোটিন সাহায্য করে।
- মানসিক বিকাশ বা মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য।
- প্রোটিন শিশুদের দেহের বৃদ্ধি ঘটায়।
'২' নং চিত্রের খাদ্যগুলো হলো স্নেহজাতীয় খাদ্য। এ খাদ্যগুলো হলো ঘি, মাখন, সরিষার তেল ও নারকেল। এগুলো প্রয়োজনের তুলনায় কম খেলে মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে বলে আমি মনে করি। স্নেহ জাতীয় খাদ্য আমাদের শরীরে তাপ ও শক্তি সরবরাহ করে। এ জাতীয় খাদ্য দেহ হতে তাপের অপচয় রোধ, চর্মরোগ থেকে রক্ষা এবং দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে সংরক্ষণ করে। এছাড়া এটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো যেমন- এ, ডি, ই ও কে দ্রবীভূত করে দেহের গ্রহণ উপযোগী করে তোলে। এটি কোষ প্রাচীরের সাধারণ উপাদান হিসেবে ভূমিকা পালন করে। এর অভাব হলে শরীরে প্রয়োজনীয় তাপশক্তির ঘাটতি দেখা দেয়। এছাড়া এর অভাবে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলোর ঘাটতি এবং চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। এটি স্বল্প পরিমাণে গ্রহণ করলে যেমন শরীরের ক্ষতি হয় তেমনি প্রয়োজনের অধিক গ্রহণ করলে ওজন খুব তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পায়। তাই এটি পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।
খাবার খাওয়ার পর তা ভেঙে গিয়ে জটিল অবস্থা থেকে সরল অবস্থায় পরিণত হওয়াই হলো পরিপাক।
ডায়রিয়া হলে বার বার পাতলা পায়খানা হয়। তখন এর সাথে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। তাছাড়া ডায়রিয়ায় বমি হলেও এর সাথে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়। এর ফলে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!