মহাপুরুষ বলতে তাঁদেরকে বোঝায়, যাদের মধ্যে রয়েছে অনেক গুণ। যাঁরা নিজের কথা ভাবেন না। সমাজ ও দেশের কথা ভাবেন। সকলের মঙ্গলের কথা ভাবেন এবং সকলকে ভালোবাসেন। সকলের সুখ-শান্তির জন্য কাজ করেন। পরোপকারই তাঁদের জীবনের সাধনা। জগতের কল্যাণ করাই তাঁদের জীবনের উদ্দেশ্য। তাঁরা মহান। তাঁরা অলৌকিক গুণসম্পন্ন। তাঁরা জ্ঞানচর্চা করেন। মানুষের কল্যাণের কথা ভাবেন। মানুষকে ধর্মপথে চলার শিক্ষা দেন।
স্বামী প্রণবানন্দের জীবনী ও উপদেশ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। যেমন-
১. আমাদেরকে সংযমী ও পরিশ্রমী হতে শিখি।
২. মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে যেতে শিখি।
৩. নিজের ও অন্যদের মধ্যে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি জাগিয়ে তুলতে শিখি।
৪. সকলকে সনাতন আদর্শে সংগঠিত হতে শিখি।
৫. আহারে, বিহারে ও আলাপে সংযমী হতে শিখি।
৬. সংঘ ও সংঘশক্তির ওপর জোর দিতে শিখি।
মা আনন্দময়ীর মাঝে ছোটোবেলা থেকেই ঈশ্বরের প্রতি ভক্তিভাবের প্রকাশ ঘটে। তিনি সর্বদা হরিনাম করতেন। হরিনাম করার সময় তাঁর শরীরে দেখা দিত এক স্বর্গীয় আলো। হরিনাম করার সময় মাঝে মাঝে তিনি অজ্ঞান হয়ে যেতেন। চিকিৎসাতেও কিছুই হতো না। এর মাধ্যমে সবাই বুঝতে পেরেছিলেন তিনি স্বাভাবিক মানুষ নন, তিনি দেবী। তাছাড়া তাঁর সংস্পর্শে অনেকেই কঠিন রোগ থেকে মুক্তিলাভ করেন। পরবর্তীতে স্বামীর সঙ্গে তিনি ভারতের দেরাদুনে চলে গেলে সেখানেও তাঁর সাধনার কথা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে। এরপর ভারতের বিভিন্ন স্থানে তাঁর নামে আশ্রম গড়ে ওঠে। এভাবেই চলতে থাকে তাঁর সাধন জীবন।
স্বামী প্রণবানন্দের জন্ম পরিচয় সম্পর্কে বলা যায়-
১. স্বামী প্রণবানন্দ ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
২. বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
৩. তাঁর পিতার নাম বিষ্ণুচরণ ভূঁইয়া এবং মাতা সারদা দেবী।
৪. তিনি শিবের ভক্ত ছিলেন।
৫. তিনি মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করতেন না।`
৬. তিনি ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় দেহত্যাগ করেন।
মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারী তাঁরাই যাঁরা-
১. নিজেদের সুখ-শান্তির কথা চিন্তা করেন না।
২. অপরের সুখ-শান্তির জন্য কাজ করেন।
৩. জগতের মঙ্গলের জন্য কাজ করেন।
৪. মানুষের মঙ্গলের জন্য সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।
৫. সমাজের সকল মানুষকে ভালোবাসার পাশাপাশি অপরের সুখ-দুঃখকে নিজের মনে করেন।
৬. যারা মানুষকে ধর্মপথে চলার শিক্ষা দেন।
মা আনন্দময়ী ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার খেওড়া গ্রামে তাঁর মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। মা আনন্দময়ী সকলের উদ্দেশে বলেছেন ভগবানের নাম করবে। তাতে মঙ্গল হবে। গুরুজন ও বাবা-মায়ের কথা শুনবে। ভালো করে লেখাপড়া শিখবে। অন্তরে যদি ভগবানের প্রতি ভালোবাসা থাকে, ভক্তি থাকে- তাহলে আর ভয় নেই।
যাঁরা কেবল নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন না, সকলের সুখ-শান্তির জন্য কাজ করেন, তারাই হলেন মহাপুরুষ বা মহীয়সী নারী। আমরা যেসব কারণে মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারীর জীবনাদর্শ অনুসরণ করব তা হলো-
১. আমাদের জীবন সুন্দরভাবে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা লাভ করি।
২. ভালো কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হতে পারি।
৩. ভালো মানুষ হতে পারি।
৪. চরিত্রবান ও উদার হতে পারি।
৫. মানুষ ও জগতের মঙ্গল করতে পারি।
স্বামী প্রণবানন্দের যে পাঁচটি জীবনাদর্শ আমি অনুসরণ করব তা হলো-
১. মানুষে মানুষে ভেদাভেদ না করা।
২. সকলের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলা।
৩. একে অপরের সাথে ঐক্যবদ্ধ থাকা।
৪. ধর্মের আদর্শ মেনে চলা।
৫. স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া।
মা আনন্দময়ীর যে পাঁচটি জীবনাদর্শ আমি অনুসরণ করব তা হলো-
১. ভগবানকে শ্রদ্ধা ও স্মরণ করা।
২. মা-বাবা ও গুরুজনদের ভক্তি করা।
৩. সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।
৪. মানুষে মানুষে ভেদাভেদ না করা।
৫. নিয়মিত লেখাপড়া করা।
সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা স্বামী প্রণবানন্দ ও মা আনন্দময়ীর জীবনাদর্শ অনুসরণ করব। নিজের জীবন ও কর্মে তার প্রতিফলন ঘটাব। মানুষ তথা সকল জীবের কল্যাণে কাজ করব। অন্যদেরকে তাঁদের আদর্শ মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করব। সুন্দর সমাজ গঠনে এদের অবদান তুলে ধরব। এতে আমাদের সকলের মঙ্গল হবে। আর এভাবেই সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হবে।
স্বামী প্রণবানন্দ আমাদের ধর্মীয় সম্প্রীতির শিক্ষা দেন। ধর্মীয় ক্ষেত্রে স্বামী প্রণবানন্দের জীবনাদর্শ থেকে আমরা সেসব আদর্শ অনুসরণ করতে পারি তা হলো-
১. ধর্মীয় মনোভাব জাগিয়ে তোলা।
২. মন্দির প্রতিষ্ঠা করা।
৩. সনাতন আদর্শে সংগঠিত হওয়া।
৪. ধর্মের আদর্শ মেনে চলা।
৫. সেবাশ্রম প্রতিষ্ঠা করা।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allআমাদের সমাজে কিছু অসাধারণ মানুষ আছেন।
স্বামী প্রণবানন্দ ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
মা আনন্দময়ীর প্রকৃত নাম নির্মলা সুন্দরী
মহাপুরুষরা অলৌকিক গুণসম্পন্ন।
বিনোদ ছিলেন শিবের ভক্ত।
মায়ের আদেশে বিনোদ গয়াধামে গিয়েছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!