অষ্টশীল পঞ্চশীলের উচ্চতর স্তর। 'অষ্ট' শব্দের অর্থ আট। আটটি শীল পালন করতে হয় বলে একে অষ্টশীল বলে। বুদ্ধ ধর্মময় উন্নত জীবন গঠনের জন্য অষ্টশীলের প্রবর্তন করেছেন। অষ্টশীলকে উপোসথ শীলও বলা হয়। অষ্টশীল প্রতিদিন পালন করা হয়। তবে গৃহী বৌদ্ধরা সাধারণত পূর্ণিমা, অমাবস্যা এবং অষ্টমী তিথিতে অষ্টশীল পালন করে।
বিহারে ভিক্ষুকে বন্দনা করে ভিক্ষুর নিকট ত্রিশরণসহ অষ্টশীল প্রার্থনা করতে হয়। ভিক্ষু অষ্টশীল প্রার্থনা অনুমোদন করে ত্রিশরণসহ অষ্টশীল প্রদান করেন। ভিক্ষুর নির্দেশনা মতো অষ্টশীল গ্রহণ করতে হয়। নিজ বাড়িতেও অষ্টশীল গ্রহণ করা যায়। সেক্ষেত্রে বুদ্ধাসনের সামনে বসে নিজে নিজে অষ্টশীল প্রার্থনাসহ অষ্টশীল গ্রহণ করতে হয়।
নিচে অষ্টশীল গ্রহণকারীর করণীয় বিষয়সমূহ সম্পর্কে লেখা হলো-
(ক) কারো অনিষ্ট কামনা করা কিংবা অনিষ্ট করা বা করানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
(খ) কোনো প্রাণীকে পীড়া দেওয়া এবং পীড়াদানের কারণ হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
(গ) কোনো প্রকার অন্যায় করা কিংবা অন্যায়ের কারণ হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
(ঘ) লোভ-দ্বেষ-মোহমুক্ত থাকতে হবে।
(ঙ) মান-অভিমান ও ঈর্ষা থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
(চ) সর্বপ্রকার মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকতে হবে।
(ছ) প্রমাদমূলক বিনোদন থেকে বিরত থাকতে হবে।
(জ) ধর্মীয় আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
(ঝ) একাগ্রচিত্তে ধর্মদেশনা শুনতে হবে।
(ঞ) কায়-মন-বাক্যে সংযত আচরণ করতে হবে।
(ট) সবার প্রতি মৈত্রীপরায়ণ হতে হবে।
(ঠ) ভাবনা অনুশীলন করতে হবে।
অষ্টশীল পালনের সুফল অনেক। অষ্টশীল পালনের সুফলসমূহ নিম্নরূপ-
(ক) আচার-আচরণ সংযত হয়।
(খ) যশ-খ্যাতি ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।
(গ) ধন-সম্পদ সুরক্ষিত থাকে।
(ঘ) সৎকাজে উৎসাহ বৃদ্ধি পায়।
(ঙ) অভাবগ্রস্ত হয় না।
(চ) সংযম ও সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পায়।
ছ) মন থেকে হিংসা-বিদ্বেষ ভাব দূর হয়।
( (জ) নীরোগ ও দীর্ঘজীবী হয়।
(ঝ) অশেষ পুণ্য অর্জিত হয়।
(ঞ) নির্বাণের পথে অগ্রসর হওয়া যায়।
উপরিউক্ত বিষয়সমূহ হলো অষ্টশীল পালনের সুফল।
বোধিসত্ত্ব বারানসীতে 'শুচি পরিবার'-এ কাজে নিযুক্ত হন। তিনি বারানসীরাজের বাড়িতে অত্যন্ত সততার সাথে কাজ করতে থাকেন। তার একমাত্র চিন্তা ছিল প্রভুর মঙ্গল সাধন করা। প্রতিদিনের মতো সকালে উঠে তিনি কাজে চলে যান। সেদিন উপোসথ দিবস ছিল তা তিনি জানতেন না। গৃহকর্তা দাস-দাসীসহ সবাইকে নিয়ে সেদিন শীল গ্রহণ করেন। বোধিসত্ত্ব সন্ধ্যায় ক্ষুধার্ত হয়ে বাড়ি ফিরে এলেন। বাড়িতে এসে দেখলেন সবাই উপোসথ পালন করছেন। এটি দেখে ক্ষুধার্ত অবস্থায় তিনি অষ্টশীল গ্রহণ করে শীলানুস্মৃতি ভাবনা করতে থাকেন। ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার পরও তিনি উপোসথ শীল পালনের সংকল্প করলেন। ক্রমে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। কিন্তু শীল ভঙ্গ করলেন না। অবশেষে শীল গ্রহণ অবস্থায় তিনি মারা গেলেন।
'শীল' নৈতিক জীবন গঠনের দিক নির্দেশনা। শীল পালন বৌদ্ধদের অপরিহার্য নিত্যকর্ম। গৃহে কিংবা বিহারে যে কোনো আচার-অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে শীল গ্রহণ করা হয়। কারণ, শীল সকল কুশলকর্মের উৎস। বৌদ্ধরা বিভিন্ন রকম শীল পালন করেন। যেমন: গৃহীরা পঞ্চশীল ও অষ্টশীল, শ্রমণরা দশশীল এবং ভিক্ষুগণ ২২৭টি শীল পালন করেন। এ অধ্যায়ে আমরা অষ্টশীল সম্পর্কে পড়ব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা -
- অষ্টশীল বর্ণনা করতে পারব।
- অষ্টশীল পালনের প্রয়োজনীয়তা ও নিয়মাবলি ব্যাখ্যা করতে পারব।
- অষ্টশীল গ্রহণকারীর করণীয় বর্ণনা করতে পারব।
- বাংলা অর্থসহ অষ্টশীল বলতে পারব।
- অষ্টশীল অনুশীলনের মাধ্যমে অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকার উপায়সমূহ চিহ্নিত করতে পারব।
- অষ্টশীল প্রার্থনার প্রক্রিয়া প্রদর্শন করতে পারব।
Related Question
View Allগৃহীরা পঞ্চশীল ও অষ্টশীল পালন করেন।
'শীল' হচ্ছে নৈতিক জীবন গঠনের দিক নির্দেশনা। গৃহে কিংবা বিহারে যেকোনো আচার-অনুষ্ঠানের আগে শীল গ্রহণ করা হয়। শীল পালন বৌদ্ধদের অপরিহার্য নিত্যকর্ম। কারণ, শীল সব কুশলকর্মের উৎস।
পুষ্পিতা খীসা অষ্টশীল বা উপোসথ শীল পালন করেন।
অষ্টশীল ও পঞ্চশীলের উচ্চতর স্তর। প্রতিনিয়ত অষ্টশীল পালন করা যায়। তবে গৃহী বৌদ্ধরা সাধারণত পূর্ণিমা, অমাবস্যা এবং অষ্টমী তিথিতে অষ্টশীল পালন করে থাকেন। আটটি শীল পালন করতে হয়। এ শীল পালনকারীকে ধর্মীয় বিষয় অধ্যয়ন করে, কুশল ভাবনায় নিমগ্ন থাকতে হয়। লোভ-দ্বেষ-মোহ ও তৃষ্ণামুক্ত হয়ে ব্রহ্মচর্য পালন করতে হয়। অষ্টশীল গ্রহণের পূর্বে মানসিক প্রস্তুতি নিতে হয়। ভোরে ঘুম থেকে উঠে প্রাতঃকৃত্য সম্পন্ন করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরতে হয়। পূজা ও দান সামগ্রী নিয়ে বিহারে যেতে হয়। বুদ্ধবেদিতে শ্রদ্ধাচিত্তে পূজা ও দান সামগ্রী সুন্দরভাবে সাজিয়ে বসতে হয়। বিহারে ভিক্ষুকে বর্ণনা করে ভিক্ষুর নিকট ত্রিশরণসহ অষ্টশীল প্রার্থনা করতে হয়। নিজ বাড়িতেও অষ্টশীল গ্রহণ করা যায়। সেক্ষেত্রে বুদ্ধাসনের সামনে বসে অষ্টশীল প্রার্থনাসহ অষ্টশীল গ্রহণ করতে হয়। অষ্টশীল পালনের সুফল অনেক। নিয়মিত অষ্টশীল পালনে চিত্ত সংযত হয়।
অষ্টশীল পালনের দ্বারা পুষ্পিতা খীসার সুখী পারিবারিক জীবন গঠন করতে সক্ষম হবে। বুদ্ধ দুঃখ মুক্তির উপায়স্বরূপ আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। অষ্টশীল পালনের মধ্যমে দুঃখ নিরোধের উপায় আর্য অষ্টাঙ্গিক অনুসরণ করা যায়। অষ্টশীল গ্রহণকারী অন্তত এক বেলার জন্য হলেও সাংসারিক কর্মকান্ড থেকে মুক্ত হয়ে অনাগরিক জীবনের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন। এভাবে ক্রমান্বয়ে নির্বাণের পথে নিজেকে পরিচালিত করতে পারেন। নিয়মিত অষ্টশীল পালনের দ্বারা পুষ্পিতা খীসার চিত্ত সংযত হয়। এভাবে আত্মসংযমের মাধ্যমে সে অকুশল কর্ম থেকে বিরত থাকতে পারবে। ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনযাপন করতে পারবে। এছাড়াও তার মন থেকে হিংসা-বিদ্বেষ ভাব দূর হয়। আচার-আচরণ সংযত হবে। সৎ কাজে তার উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ অষ্টশীল পালনের দ্বারা পুষ্পিতা খীসার পারিবারিক জীবনে নৈতিক আচরণের প্রতিফলন ঘটবে।
অদিন্নাদানা শব্দের অর্থ অদত্তবস্তু।
বিহারে ভিক্ষুকে বন্দনা করে ভিক্ষুর নিকট ত্রিশরণসহ অষ্টশীল প্রার্থনা করতে হয়। ভিক্ষু অষ্টশীল প্রার্থনা অনুমোদন করে ত্রিশরণসহ অষ্টশীল প্রদান করেন। ভিক্ষুর নির্দেশনায় অষ্টশীল গ্রহণ করতে হয়। নিজ বাড়িতেও অষ্টশীল গ্রহণ করা যায়। সেক্ষেত্রে বুদ্ধাসনের সামনে বসে নিজে অষ্টশীল প্রার্থনাসহ অষ্টশীল গ্রহণ করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!