কচি-কাঁচার মেলা শিশুদের সংস্কৃতি চর্চা, শিল্পকলা চর্চা অধিক গুরুত্বের সাথে নানারকম কর্মসূচি গ্রহণ করে। স্কুল-কলেজে লেখাপড়ার সাথে সাথে শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ে বই পড়া, গান গাওয়া, ছবি আঁকা, নাটক করা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা ইত্যাদি কর্মসূচি গ্রহণ করে। কচি-কাঁচার মেলা শিশু-কিশোরদের ছবি আঁকার জন্য শিল্পবিতান স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এবং সারাদেশের শিশু-কিশোরদের আঁকা ছবি নিয়ে প্রতিবছর নিয়মিত চিত্র প্রদর্শনী ও আনন্দ মেলার আয়োজন করেছিল।
বাংলাদেশের শিশু-কিশোররা আজ অনেকেই ছবি আঁকে। শিক্ষিত পরিবারের বাবা-মা মনে করছেন, ছবি আঁকা শিশুদের জন্য একটি ভালো কাজ, সুন্দর কাজ, তাই তারা শিশুদের চিত্র প্রদর্শনী ও নানারকম প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে সহযোগিতা করেন। বাংলাদেশের শিশু-কিশোররা অন্যান্য দেশ বিশেষ করে জাপান, চীন, ভারত, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, রাশিয়া, জার্মানি, ব্রিটেনসহ আরো অনেক দেশের হাজার হাজার শিশু-কিশোরদের সাথে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে পুরস্কার পাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ও তার বন্ধুরা বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের মাঝে চিত্র শিল্পের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর বন্ধুরা হলেন- কামরুল হাসান, আনোয়ারুল হক, শফিউদ্দিন আহমেদ, শফিকুল আমিন, খাজা শফিক আহমেদ ও হবিবর রহমান। এঁরাই হলেন বাংলাদেশের প্রথম দিকের চিত্রশিল্পী। এঁরাই সর্বপ্রথম চিত্রশিল্পের প্রসারে ছবি আঁকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
পূর্বের শামসুন্নাহার শিশু কলাভবন এর নাম পাল্টে নতুন নামকরণ করা হয় জয়নুল শিশু কলাভবন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারু কলা অনুষদের শিক্ষকরা এটি দেখাশোনা করেন। ১৯৬০ সালের দিকে বড়দের পাশাপাশি ছোটদের এখানে ছবি আঁকার ব্যবস্থা করে দেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। কচি-কাঁচার মেলার আদলে এখানে চিত্র অঙ্কন প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানেও এটি আগের মতো শিশুদের জন্য উন্মুক্ত। এখানকার শিশুদের আঁকা ছবি দেশ বিদেশে অনেক সুনাম কুড়িয়েছে।
একটি শিশু ছবি আঁকার মধ্যদিয়ে তার ইচ্ছা ও অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়ে থাকে। যেহেতু ছবি হচ্ছে শিল্পীর 'মনের বহিঃপ্রকাশ তাই সেখানে রুচিহীন এবং অগোছালো কোনোকিছুর ঠাই হয় না। একজন শিল্পী হন উদার এবং সংযমী। শিল্পী নিজেকে যতদিন একটা শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে না. পারবে ততদিন তার স্পর্শে কোনো শিল্প তৈরি হয় না। তাই বলা যায়, চিত্রকলা শিশুর প্রতিভা বিকাশে ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম।
বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের জন্য ছবি আঁকা প্রথম সংগঠিতভাবে শুরু করে শিশু-কিশোর সংগঠন 'খেলাঘর' ও 'কচিকাঁচার' মেলা। ১৯৫৬ সালে খেলাঘর বাংলা একাডেমিতে ছোটদের জন্য বেশ বড়সড় এক চিত্রপ্রদর্শনীর ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। অনেক শিশু-কিশোর নিজেদের আঁকা ছবি দিয়ে সেই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছিল। বাংলাদেশে সেই প্রদর্শনীটি ছিল শিশুদের আঁকা ছবির প্রথম প্রদর্শনী।

এ অধ্যায় পড়া শেষ করলে আমরা-
- বাংলাদেশে চারু ও কারুকলা শিক্ষার ইতিহাস বর্ণনা করতে পারব।
- বাংলাদেশের শিল্পকলায় পথিকৃৎ শিল্পীদের নাম উল্লেখ করতে পারব।
- চারু ও কারুকলা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বাংলাদেশের শিশু ও কিশোরদের ছবি আঁকার গল্প বর্ণনা করতে পারব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!